চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ পরিবারের বসতঘর, রান্নাঘর, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নিবাতে গিয়ে আহত হয়েছেন দুইজন। এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়নের মাছুয়াখাল গ্রামের জমাদার বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন; মো. জালাল উদ্দিন জমাদার, মো. সেলিম জমাদার, সুফিয়ান জমাদার, কামরুল জমাদার ও মানিক মিয়া জমাদার।
এদিকে খবর পেয়ে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমামসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মাছুয়াখাল এলাকার জালাল জমাদারের বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘর ও রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ঘটনাস্থলে ফয়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মো. জালাল জমাদার বলেন, আগুনে আমাদের ঘরগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পাঁচটি বসতঘর, পাঁচটি রান্নাঘর, স্বর্নালংকার, নগদ অর্থ, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামালসহ সব পুড়ে গেছে। আমাদের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধু পড়নের কাপড়টা ছাড়া আর কিছুই নাই আমাদের। এখন কই থাকমু, সেই জায়গাও নাই।
মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পাঁচটি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে গেছে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন। একটি ইউনিট প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারনে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম বলেন, খবর পেয়ে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শুকনো খাবার এবং নগদ ৫ হাজার টাকা করে প্রত্যেক পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব