সৌদি আরবে নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের প্রবাসী শাহিন আহাম্মেদের (২৮) কোনো সন্ধান পাচ্ছে না তাঁর পরিবার। গত ১১ এপ্রিল রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর প্রায় ছয় মাস হতে চললেও শাহিনের অবস্থান সম্পর্কে তাঁদের কোনো নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি।
শাহিন আহাম্মেদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বিষুরবন্দ গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। তিনি প্রায় চার বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। তিনি অবিবাহিত।
শাহিনের ভাই শাকিবের ভাষ্য, গত ১১ এপ্রিল রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বাসায় এসে শাহিনকে ধরে নিয়ে যান। এ সময় তাঁকে কেন বা কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের কিছু জানানো হয়নি। তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
শাকিব বলেন, ‘ভাইকে নিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর তাঁর ফোনের ডাটা চালু ছিল। ওই সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একাধিকবার ফোন দিয়েছি। ফোনে রিং হয়েছে, কিন্তু কেউ ধরেনি। পরে রাত ৯টার দিকে ফোনের ডাটাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।’
শাহিনের সন্ধান পেতে গত ১৭ মে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে আবেদন করেন তাঁর ভাই শাকিব। পরে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, শাহিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাঁদের পক্ষের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে আবেদনটি সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে।
শাকিব জানান, ঈদের আগে বুধবার বিকেলে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকে তাঁকে ফোন করে বলা হয়, তাঁদের পক্ষের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং দূতাবাস থেকে তাঁকে ফোন করে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে। তবে এরপরও দূতাবাস থেকে কোনো ফোন পাননি তিনি।
কয়েক দিন আগে বিষয়টি জানতে আবার প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে যোগাযোগ করেন শাকিব। তখন তাঁকে একটি মোবাইল নম্বর এসএমএস করে দেওয়া হয় এবং ওই নম্বরে যোগাযোগ করে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে শাহিনের বিষয়ে কথা বলতে বলা হয়।
শাকিব বলেন, ‘ভাই কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন—আমরা কিছুই জানি না। প্রায় ছয় মাস ধরে পরিবার দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করুক।’
পরিবারের সদস্যরা শাহিন আহাম্মেদের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

মাঈনুল ইসলাম