প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৭:৫৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমির গভর্নিং বডি পুন:বহালের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি
চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক বাতিলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনাকারী সংগঠন আল-আমিন সোসাইটি।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্তকে বিধিবহির্ভূত দাবি করে তা প্রত্যাহার এবং সোসাইটির গঠিত গভর্নিং বডি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাঁদপুর আল-আমিন সোসাইটি’র সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া বলেন, দীর্ঘ ৪৮ বছরের পথচলায় আল-আমিন একাডেমি চাঁদপুরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ডাক্তার, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ৯৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে শিক্ষাবোর্ডে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ২২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চম এবং চাঁদপুর জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
১৯৭৮ সালে ১৪ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা সংবাদ সম্মেলনে আল-আমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুর রবের পরিকল্পনায় ১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি ‘আল-আমিন সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। সোসাইটির উদ্যোগে ১৯৭৮ সালের ২২ জানুয়ারি নতুন বাজারস্থ আহমদীয়া মাদরাসায় মাত্র ১৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চারটি শ্রেণিতে আল-আমিন একাডেমির কার্যক্রম শুরু হয়।
পরবর্তীতে সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্যদের সহযোগিতায় জমি সংগ্রহ এবং তহবিল গঠন করা হয়। ১৯৮০ সালের ১২ জুলাই নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৯৮১সালে তা ব্যবহার উপযোগী হয়। এরপর নতুন বাজারের আহমদীয়া মাদরাসা থেকে বর্তমান কাজী নজরুল ইসলাম রোডের নিজস্ব ভবনে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়।
১৯৮৩ সালের ১জানুয়ারি জুনিয়র হাইস্কুল হিসেবে অনুমোদন এবং ১৯৮৬ সালের ১জানুয়ারি উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের স্বীকৃতি লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে একাদশ শ্রেণি চালুর অনুমতি এবং ছাত্রী শাখাকে পৃথক ব্রাঞ্চ স্কুল হিসেবে পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়।
১৭টি কমিটি অনুমোদনের দাবি:
সংবাদ সম্মেলনে আল-আমিন সোসাইটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সোসাইটি কর্তৃক গঠিত ১৭টি ধারাবাহিক ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড অনুমোদন করেছে।
অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া বলেন, ২০১৯ সালে একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সময়ে আল-আমিন সোসাইটির গভর্নিং বডি বাতিল করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হলে গভর্নিং বডি বাতিলের চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে এ বিষয়ে আরও একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড ৩১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে আল-আমিন সোসাইটির গভর্নিং বডি অনুমোদন করে।
‘সোসাইটিকে না জানিয়ে গভর্নিং বডি বাতিল:
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক আল-আমিন একাডেমিতে গিয়ে সোসাইটির বক্তব্য ও লিখিত মতামত যথাযথভাবে গ্রহণ না করেই পূর্বের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিদ্যমান গভর্নিং বডি বাতিলের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড আল-আমিন সোসাইটির গঠিত গভর্নিং বডি বাতিল করেছে। সোসাইটির দাবি, এ সিদ্ধান্ত বিধিবহির্ভূত এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনায় অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল।
এড.শাহজাহান মিয়া আরো বলেন, গত ১৫/৮/৮৮ইং তারিখে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড একাডেমীক আল আমিন সোসাইটি পরিচালিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশেষ  কমিটি অনুমোদন  দেয়া যাবে কিনা এই মর্মে মতামত চেয়ে শিক্ষাবোর্ড  চিঠি পাঠান। উক্ত চিঠির জবাবে শিক্ষামন্ত্রনালয় ২৭/১০/৮৮ইং তারিখে সোসাইটি কমিটি অনুমোদনের অনুমতি প্রদান করে। সে থেকে ১৮/৩/১৯ইং তারিখ পযর্ন্ত একাডেমী সোসাইটি নির্ধারিত কমিটি অনুমোদন  দিয়ে আসছে। সুতরাং আল আমিন একাডেমী আল আমিন সোসাইটির প্রতিষ্ঠান কিনা বিষয়টির সমাধান এখানেই হয়ে গেছে। তারপরও এ বিষয়ে বিতর্ক উঠানো উদ্দেশ্য প্রনোদিত।
১৩/১০/২৫ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং ২৭/১০/২৫ তারিখে শিক্ষাবোর্ড একাডেমীকে ডাবল শিফ্ট অনুমোদন দিয়েছে। শিক্ষা বোর্ড বিগত ২০/০৯/২৬ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রনালয় স্বারক নং ক.প/কমিটি/চাঁদ/৩৬ তাং ১২.০৩.২০১৯ইং তারিখে যে নির্দেশনা অনুযায়ী একাডেমীর বর্তমান গভনিং বডি বাতিল করেছে তা বিগত ২১/০৩/২০১৯ইং তারিখে মহামান্য হাইকোট ডিভিশনে উক্ত চিঠির কাযকারীতা স্থগিতাদেশ  প্রদান করেছে। যা মহামান্য সুপ্রিম কোট পযর্ন্ত বহাল ও বলবৎ আছে। উক্ত চিঠি অনুযায়ী  একাডেমীর বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দেয়া মহামান্য হাইকোট বিভাগের আদেশ অমান্য করার শামীল।
‘অযাচিত সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে’
অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘আল-আমিন সোসাইটির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণেই চাঁদপুরবাসী একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। সকলের কল্যাণ চিন্তা ও কর্মসূচির কারণে প্রতিষ্ঠানটির পরিসর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে অযাচিত সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। সোসাইটির গঠিত গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত চাঁদপুরবাসী মেনে নেবে না।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে আল-আমিন একাডেমির গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, সোসাইটির গঠিত গভর্নিং বডি বহাল এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে আল-আমিন সোসাইটির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিচালনা ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমত তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি চাঁদপুরবাসীকেও এ বিষয়ে মতামত প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আল-আমিন সোসাইটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক এম এ লতিফের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সোসাইটির নির্বাহী সদস্য এডভোকেট মাসুদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাধারণ সদসঢ অ্যাডভোকেট মো: শাহজাহান খান, আব্দুর শুকুর মস্তান, মজিবুর রহমান আনসারী, আফছার উদ্দিন মিয়াজী, এনসিপি চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাহবুব আলম।
সাংবাদিকদের মধ্য বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাদের পলাশ, সময় টিভির নিজস্ব প্রতিবেদক ফারুক আহম্মেদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহীন, মির্জা জাকির, আল ইমরান শোভন, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তালহা জুবায়ের, চাঁদপুর ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এর সভাপতি এড: চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম, সাধারণ সম্পাদক মো: শাওন পাওয়ারীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ৷

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন