প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:৩৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে রহস্য, স্বামী ও স্ত্রীর পরিবারের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

মেহেদি হাসান রিমেল

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গৃহবধূ মিম আক্তারের (২৪) বিষপানে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন স্বামী ওমর ফারুকের পরিবারের সদস্যরা। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।

নিহত মিম আক্তার হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখাল এলাকার প্রবাসী ওমর ফারুকের স্ত্রী। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর শনিবার বিষপান করেন মিম। পরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসা চলে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুমিল্লায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

মিমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, স্বামীর পরকীয়ার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফারুকের পরিবার। তাদের দাবি, মিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তাঁর পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিতে দেখা যায়নি। এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় নেওয়ার সময়ও তাঁর পরিবারের কাউকে সঙ্গে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।

ফারুকের পরিবারের সদস্যদের দাবি, মিমের মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক অশান্তিসহ অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য, মিম নিজের মা ও নিকটাত্মীয়দের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন ঘটনায় মানসিকভাবে বিব্রত থাকতেন।

ফারুকের বোন রিনা বেগম বলেন, বিয়ের সময় তাঁর ভাইকে জানানো হয়েছিল, মিমের মা মারা গেছেন। পরে তাঁরা জানতে পারেন, ওই সময় মিমের মা অন্য এক পুরুষের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি গোপন রেখেই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রিনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, মিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। অথচ মিমের মরদেহ বাড়িতে আনার পর তাঁরা সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় মিমের মা, খালা ও বোনদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, মিমের স্বামী ওমর ফারুক বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সংসারে তেমন কোনো সমস্যা ছিল না। তিনি নতুন করে ঘর নির্মাণ করেছেন এবং মিমকে নিয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আরও বলেন, “আমি দেশে এলেও মিমকে ছাড়া কোথাও যেতাম না, এমনকি বাইরেও আড্ডা দিতাম না। তবে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিম মানসিকভাবে বিব্রত থাকতেন বলে আমার ধারণা।”

ফারুকের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগের বিষয়ে একই বাড়ির বাসিন্দা সুরুভী বলেন, ফারুক দীর্ঘদিন বিদেশে থাকেন। তাঁর বড় ভাইয়ের স্ত্রীও এখানে থাকেন না। এমন পরিস্থিতিতে পরকীয়ার অভিযোগ কীভাবে সম্ভব—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগটিকে গুজব বলে দাবি করেন।

এদিকে ফারুকের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ফারুকের বিদেশ যাওয়ার টিকিট আগে থেকেই কাটা ছিল। পাশাপাশি তার ভিসা ও টিকিটের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে আসায় তিনি আর সেখানে থাকতে পারেননি, বাধ্য হয়েই তাকে চলে যেতে হয়েছে। তবে বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান ওই বাসিন্দা।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাওসার আলম বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন