প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ১১:৩৯ এম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মাদ্রাসা আছে, শিক্ষার্থী আছে—নেই শুধু শ্রেণিকক্ষ! মসজিদে বসেই পড়ছে ফরিদগঞ্জের শিশুরা

এস এম ইকবাল
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দারুল কোরআন আরাবিয়া মাদ্রাসার স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। শিক্ষার্থীর সংখ্যা হু হু করে বাড়লেও সে অনুযায়ী অবকাঠামো না থাকায় বাধ্য হয়ে পাশের মসজিদে ক্লাস করাতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের।
এ পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার অসমাপ্ত তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের হস্তক্ষেপ ও সরকারি বরাদ্দ এবং বিত্তশালীদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ ও এলাকাবাসী।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ১৫ নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা-বদরপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ফকির বাড়ির সামনে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল কোরআন আরাবিয়া মাদ্রাসাটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সম্পূর্ণ স্থানীয় মানুষের দান-অনুদান ও সহযোগিতায় দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এখানে প্রায় ৪০০ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং প্রতিবছরই এখান থেকে তৈরি হচ্ছেন কোরআনের হাফেজ।
তবে শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের অপ্রতুলতা প্রকট আকার ধারণ করায় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কক্ষের অভাবে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পাশের মসজিদে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের, যার ফলে পড়াশোনার মনোযোগ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের উদ্যোগে বহু কষ্টে ভবনের তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ শুরু হলেও তীব্র অর্থসংকটে তা মাঝপথে আটকে গেছে। এই সংকট উত্তরণে সংসদ সদস্য ও বিত্তবানদের সুদৃষ্টি কামনা করে স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আহাম্মেদ ও রুহুল আমিন বলেন, আমরা তিলে তিলে এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। আর্থিক সংকটের কারণে কাজটি শেষ করতে পারছি না। এমপি মহোদয় সহযোগিতা করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরত আসত।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসাম কবির জানান, শ্রেণিকক্ষের অভাবে নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তৃতীয় তলার কাজ শেষ হলে এই সংকট চিরতরে ঘুচে যাবে।
প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম মুফতি ওমর ফারুক চাঁদপুরী বলেন, আমাদের মাদ্রাসার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত করুণ। শিক্ষার্থীদের সুন্দর ও উপযুক্ত পরিবেশে শিক্ষা দেওয়ার স্বার্থে সংসদ সদস্য এম এ হান্নান মহোদয়ের আন্তরিক সহযোগিতা ও আর্থিক বরাদ্দ একান্ত প্রয়োজন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন