প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৮:৫২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বেতন ছাড়াই কাটছে দিন: কচুয়ায় প্রাথমিকে প্রায় ১১শত ৩০ জন শিক্ষকদের মানবেতর জীবনযাপন

মোঃ রাছেল, কচুয়া

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখনো অক্টোবর মাসের বেতন পায়নি বলে এমন অভিযোগ উঠেছে। নভেম্বর মাসের ৫ তারিখ পার হলেও বেতন পরিশোধ না হওয়ায় চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ১১ শত ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী। শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে বেতন ছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষকদের আশঙ্কা, আগামী সপ্তাহে শুক্রবার, শনিবার ও রোববার টানা তিন দিন সরকারি ছুটি থাকায় বেতন পেতে আরও বিলম্ব হতে পারে। ফলে অক্টোবর মাসের বেতন কবে নাগাদ তাঁদের হাতে পৌঁছাবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন যখন কঠিন হয়ে উঠেছে, তখন সময়মতো বেতন না পাওয়ায় শিক্ষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক শিক্ষক সংসারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে ধারদেনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাঁদের।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, বেতন না পাওয়ার কারণে তাঁরা চরম সমস্যায় রয়েছেন। অথচ চাকরির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। তাঁদের অভিযোগ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তারের দাপ্তরিক কার্যক্রমে অবহেলার কারণেই বেতন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া যথাসময়ে সম্পন্ন হয়নি।

শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের রোববার ও সোমবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছুটিতে ছিলেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতির বেতন কাঠামো তৈরি করতে বিলম্ব হচ্ছে।

শিক্ষকদের প্রশ্ন, মাসের পর মাস নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার পরও কেন নির্ধারিত সময়ে তাঁদের বেতন পেতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে? একজন শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও কেন দুশ্চিন্তায় থাকতে হবে?

 শিক্ষকদের দাবি, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে বেতন ছাড়ে বিলম্বের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে হবে এবং দ্রুত অক্টোবর মাসের বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে  উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার মুঠোফোনে বলেন, নতুন বেতন কাঠামো ‘পে ফিক্সেশন’ এর কারণে বেতন বিল বিলম্ব হচ্ছে। তিনি উদাহরণ টেনে  বলেন খোদ চাঁদপুর সদর উপজেলায় ও বেতন বিল হয়নি। অতি শীগ্রই এর সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন