চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অসদাচরণ, হুমকি, মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগে দলটির সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ বর্জনের ঘোষণা স্থগিত করেছে প্রেসক্লাব।
প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংগঠনের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নাছির পাটওয়ারী, মহসিন পাটওয়ারী, মো. ফজলুর রহমান, জি.এস. মামুন, এ.এম.এম. টুটুল পাটওয়ারী ও সেলিম হোসেন রাঢ়ী।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রেসক্লাবে পৌঁছালে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্য তাঁদের স্বাগত জানান। বৈঠকের শুরুতে সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য। সাংবাদিক ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবেন, সংশ্লিষ্টরা তার জবাব দেবেন। সাংবাদিক অনিয়মের সমালোচনা করবেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা দেবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো সাংবাদিক ভুল, অন্যায় বা পেশাগত অসদাচরণ করলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় না। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, ক্ষমতার জবাবদিহি বন্ধ এবং আইনের শাসন দুর্বল হলে রাষ্ট্র ক্রমেই দুর্বৃত্তায়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
এদিকে, প্রেসক্লাব সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য নেতার বক্তব্য এবং দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তাঁরা।
বৈঠকে বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়য়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের নির্দেশে আমরা প্রেসক্লাবে এসেছি। তিনি, বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে ঢাকায় ব্যাস্ত থাকায় আসতে পারেননি। তবে, সাংবাদিকদের প্রতি সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক পর্যায়ে তিনি মুঠোফোন কথা বলেন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে উদ্ভুত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান বিএনপি সরকার গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতা এবং সুরক্ষা-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
আলোচনার একপর্যায়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দের অনুরোধ ও ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংবাদ বর্জনের ঘোষণা স্থগিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সদস্যদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বৈঠকে প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মামুনুর রশিদ পাঠান, মানিক পাঠান, নুরুন্নবী নোমান, মো. মহিউদ্দিন, প্রবীর চক্রবর্তী, মশিউর রহমান, আবদুস ছোবহান লিটন, নুরুল ইসলাম ফরহাদ, নারায়ণ রবিদাস, ইমাম হোসেন সৌরভ, রুহুল আমিন খাঁন স্বপন, এসএম ইকবাল, শিমুল হাছান, আনিসুর রহমান সুজন, শাকিল মুশফিক, গাজী মমিন, আমান উল্যাহ খাঁন ফারাবী, জসিম উদ্দিন (১), মামুন হোসাইন, আব্দুল কাদির, ফখরুল আলম পাঠান, কেএম নজরুল ইসলাম, শামীম হাসান, এফএ মানিক, সাখাওয়াত হোসেন মিন্টু ও জসিম উদ্দিন (২)।

এস এম ইকবাল