প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ । ১০:৫৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

জিয়াউর রহমান সেদিন নেতৃত্ব না দিলে বাংলাদেশ অন্য দেশের অধীনস্থ হতে পারত: মমিনুল হক এমপি

মোঃ মাসুদ রানা
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিপ্লবের নেতা হিসেবে আবির্ভূত না হলে বাংলাদেশ আজ শিকিমের মতো অন্য দেশের অধীনস্থ একটি ভূখণ্ডে পরিণত হতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এমপি ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল র‍্যালি ও জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শাহরাস্তি পৌরসভা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যালিটি শাহরাস্তি মেহের ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে দোয়াভাঙ্গা আল-আমিন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এমপি ।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী নেতা। ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে আবির্ভূত হন। তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছিল। বিগত ১৭ বছর  পতিত সরকার বিভিন্নভাবে জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দীর্ঘ শাসন ও নানা অপচেষ্টার পরও তাঁকে জনগণের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। দোয়াভাঙ্গার আজকের বিশাল জনসমাগমই প্রমাণ করে, জনগণের হৃদয়ে জিয়াউর রহমান আজও বেঁচে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতেও ষড়যন্ত্র হয়েছে। ১৯৮১ সালে বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাতে তিনি নিহত হন। এরপরও দেশের মানুষ তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে ভুলে যায়নি। এরশাদের নয় বছরের শাসনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করা হয়। ওই নির্বাচনে তিনি চাঁদপুর-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং জনগণের ভোট পেলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি বলে উল্লেখ করেন।
মমিনুল হক আরও বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে দেশের ৫৪ জন সেনা কর্মকর্তার প্রাণহানি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য গভীর আঘাত। এ ঘটনাকেও তিনি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিগত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে নানা নির্যাতন, হয়রানি ও ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তারপরও তাঁরা আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে পিছিয়ে যাননি। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী দিনেও গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানান। বক্তব্যের শেষে তিনি আয়োজক ও উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবু ইউসুফ পাটোয়ারী রুপন, শাহ মোহাম্মদ আলী, মো. জহিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম পাটোয়ারী লিটন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন এবং হান্নান ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাহেদুল হক মজুমদার সোহেল, সদস্যসচিব এহতেশামুল গণি, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক গাজী ফিরোজ, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, সদস্যসচিব আলী আজগর মোল্লা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হাসান বাবলু ও আদনান নোমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ আলম, সদস্যসচিব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ, সদস্যসচিব আলী আজগর, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জুয়েল, সদস্য সচিব সোলেমান, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানসহ শাহরাস্তি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে র‍্যালি ও জনসভা জনসমুদ্র পরিণত হয়।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন