প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ মে, ২০২২ । ৩:৫৪ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে ঢাকাইয়া কায়দায় ছিনতাই

অনলাইন ডেস্ক
স্টাফ রিপোর্টার : ৪ মে রাত সাড়ে নটায় চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে খালেদা আক্তার রুপালি (৩০) নামে এক গৃহিনী ছিনতাইকারির কবলে পড়ে তার মুল্যবান স্বর্নের চেইন,  নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন খুইয়েছেন।  ঘটনাটি ঘটেছে ৪মে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায়।
জানা যায়,ঘটনার দিন বিকেল বেলা খালেদা আক্তার রুপালি (৩০)  তার সাড়ে চার বছরের ছেলে ফাহমিদুল ইসলামকে  নিয়ে ছৈয়াল বাড়ী রোডের ভাড়া বাসা হতে ঈদ উপলক্ষে তার শ্বশুর বাড়ী শহরের ওয়াপদা রোডের সাবেক মেম্বার শ্বশুড় রোস্তম খানের বাড়ীতে  বেড়াতে আসেন।
বেড়ানো শেষে রাত নটায় শহরের ছৈয়াল বাড়ী রোডের নিজ বাসায় ফিরে আসার উদ্দেশ্যে ওয়াপদা গেইটের সামনের মহাসড়ক হতে একশত টাকা ভাড়ায় একটি অটো রিক্সা রিজার্ভ নিয়ে রওয়ানা হন। পথি মধ্যে ওয়ারলেছ বাজার মোড়ে আসার পর অটো রিক্সা চালক যাত্রী রুপালিকে  বলেন আপা আমাকে তো একটু বঙ্গবন্ধু সড়ক হয়ে যেতে হবে, সেখানে আমার স্ত্রী আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁকে একটু কালীবাড়ী পৌছে দিতে হবে। আপনি তো ছৈয়াল বাড়ী যাবেন।
আপনাকে মিশন রোডের রেইনবো হাসপাতালের সামনে নামিয়ে দিলেই তো আপনি বাসায় চলে যেতে পারবেন। অটো যাত্রী রুপালি তাঁকে বারন করে বলেন, না আপনি সোজা যান, আমি বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে যাবোনা।
অটো চালক যাত্রী রুপালিকে অনুনয় বিনয় করে বলেন আপা আপনি আমার বোনের মতো, আমার অনুরোধটা রাখেন, ওখান দিয়ে গেলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না, আমার বউ বঙ্গবন্ধু সড়কে অনেকক্ষন ধরে অপেক্ষা করছে। আমার বউকে যদি কালী বাড়ী পৌছে না দেই, সে অনেক রাগ করবে আপা। মেয়েদের মন তাই যাত্রী রুপালি অটো চালকের অনুনয় বিনয়ে রাজি হয়ে যান। অটো চালক তখন সেই ঢাকাইয়া স্টাইলে তার কথিত বউকে ফোন করে বলেন এইতো আমি এসে পড়েছি এখন ওয়ারলেছ বাজার মোড়ে আছি, পাঁচ মিনিটে পৌছে যাচ্ছি।  তুমি ওখানেই দাড়াও।
ঢাকার এক শ্রেনীর পেশাদার ছিনতাই কারিরা ঠিক যে ভাবে এমন ফোন করে তার গতি বিধি তার সামনের দলকে জানান দেয়,ঠিক সেভাবেই এ অটো চালকও তাই ই করে। সে অটো চালক তখন গাছতলা ব্রীজের সন্মুখের বঙ্গবন্ধু সড়কের মাথায় এসে আগে থেকে অপেক্ষমান থাকা  বোরকা পড়া তার কথিত বউকে সে তার অটো রিক্সায় তুলে শহর অভিমুখে রওয়ানা দেন। অটো রিক্সাটি যখন বঙ্গবন্ধু সড়কের মাঝা মাঝি একটি নির্জন অন্ধকার জায়গায় এসে পৌছায়, ঠিক তখনি অটো চালক তার গাড়ীটির ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়, আর তখন বোরকা পড়া নারীটি আচমকা একটি বড় ছোরা বের করে যাত্রী রুপালির গলায় ধরে বলে, যা কিছু আছে দিয়ে দে, নয়তো তোঁকে ও তোর ছেলেকে মেরে ফেলবো, অটো চালক তখন ঐ ছিনতাই কারি নারীটিকে বলে তাড়াতাড়ি কর, দু মিনিটের ভেতর কাজ সার, যাত্রী রুপালি আচমকা এই ঘটনায় ভয়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।
তার সাথে থাকা সাড়ে চার বছরের ছেলে ফাহমিদুল ইসলামের ও তার নিজের জীবনের কথা চিন্তা করে তার শ্বাশুড়ীর দেয়া বারো আনা ওজনের স্বর্নের চেইন যার আনুমানিক মুল্য চল্লিশ হাজার টাকা, নগদ দু হাজার টাকা,ও তার দশ হাজার টাকা মুল্যের এ্যান্ড্রয়েট মোবাইল ফোনটি ছিনতাই কারীকে দিতে বাধ্য হন। এসব কিছু হাতিয়ে নেবার পর ছিনতাইকারি নারীটি তাঁকে ও তার ছেলেকে অটো থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দ্রুত চালক সহ অটো রিক্সা নিয়ে পালিয়ে যান। এই ছিনতাইয়ের মিশনটি ছিনতাই কারিরা দু মিনিটে শেষ করেন। পরে ঘটনার স্বীকার খালেদা আক্তার রুপালি বাসায় এসে তার স্বামী চাঁদপুর শহরের বাছস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ফয়সাল সপিং সেন্টারেরবহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় সুপার শপ পিক এন্ড পের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম লিটন খানকে অবহিত করেন। ঘটনা শোনার পর রফিকুল ইসলাম লিটন খান  বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন এবং থানায় সাধারন ডায়েরী করেন।
ইদানিং কালে চাঁদপুরে ছিনতাই ও মলম পার্টির দৌরাত্ন বেড়ে যাচ্ছে। যদিও স্হানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মাইকিং করে সাধারন নাগরিকদের সচেতন হবার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। তথাপিও ঘটলো  ঢাকাইয়া স্টাইলে এই  ছিনতাই। সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায় যে,রাত হলেই বঙ্গবন্ধু সড়কের মধ্য জায়গাটায় সব সময়ই কেমন ঘুটঘুটে অন্ধকার বিরাজ করে। এখানে পর্যাপ্ত আলোর কোন ব্যবস্হা নেই,টহল পুলিশদের ও তেমন একটা চোঁখে পরেনা। তাই ছিনতাই কারিরা এই জায়গাটাকেই তাদের ছিনতাইয়ের নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয়, স্থানীয় দু চারজন মুরুব্বির সাথে আলাপকালে তারা বলেন, সন্ধার পর এ সড়ক পাশের খোলা মাঠে ও দোকানের পেছনে মাদক সেবীদের আসর বসে, এর আগেও এখানে আরো কয়েকবার ছিনতাইয়ের ঘটনার কথা আমরা শুনতে পেরেছি।
তাদের দাবি চাঁদপুরের মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল যদি এ সড়কে আরো কিছু ল্যাম্প পোষ্টের ব্যবস্হা করেন, তবে এ সড়কের ঔজ্জ্বল্য বাড়ার পাশাপাশি এ সড়ক অনেকটাই নিরাপদ হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত  করেন। পাশাপাশি পুলিশ প্রসাশনের কাছে ভুক্তভুগী ও স্হানীয় বাসিন্দারা বঙ্গবন্ধু সড়কে পুলিশি টহল  জোরদার করার দাবি জানান।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন