প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২ । ২:৪৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ধান উৎপাদনে ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের আমুয়াকান্দি গ্রামের ফসলি জমিতে সমলয় পদ্ধতিতে আবাদকৃত বোরো ধান কাটার উদ্বোধন করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম।

শুক্রবার বিকেলে তিনি বোরো ধানের সমলয়ের শস্য কর্তন ও মাঠ দিবসে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার যন্ত্রের সাহায্য এই ধান কর্তনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।এ উপলক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আমুয়াকান্দি মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল হাসান।

উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম।স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

বাংলাদেশ এখন স্থিতিশীল আছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধান উৎপাদনে ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। কারণ মতলব উত্তর উপজেলার আমুয়াকান্দি গ্রামে সমলয় পদ্ধতিতে চাষ করায় বোরো ধান চাষে হেক্টর প্রতি ৮ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে। যা ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নতশীল দেশের কাতারে চলে গেছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কোনো ঘাটতি নেই। সবার খাবার আছে, কাপড় আছে, শিক্ষা আছে। কেউ না খেয়ে নেই। মূলত দেশের সব মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছে বলেই দ্রুত এসব সম্ভব হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারে এলে বঙ্গবন্ধুর সবুজ বিপ্লবের ধারণা নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। শুরু হয় খাদ্য উৎপাদনে নতুন এক অধ্যায়, সবুজ বিপ্লব পায় নতুন মাত্রা। ১৯৯৯ সালে এসে দেশ প্রথমবারের মতো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে।

বক্তব্য দেন, সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) ইয়াছির আরাফাত, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম ফারুক, গজরা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ শহীদ উল্লাহ প্রধান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন, ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন।

কোরআন তেলাওয়াত করেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
জানা গেছে, কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আমুয়াকান্দি গ্রামের এক ফসলি ৫০ একর জমিতে একসাথে একই সময়ে চাষ ও একই সময়ে ফসল কাটার সমলয় পদ্ধতিতে বোরো চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কৃষকরাও নতুন এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে এগিয়ে আসেন। এই প্রকল্পে যুক্ত হন প্রান্তিক ১০০ জন কৃষক। এই পদ্ধতিতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের হালিচারা ও সার প্রদান করে। গত ৮ জানুয়ারি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের উন্নয়ন সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় কৃষকের মাঝে একটি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার বিতরণ এবং রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে বোরো আবাদ করা হয়। এ প্রকল্পে কৃষি বিভাগের ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়।মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘৫০ একরে বোরো ব্লক প্রদর্শনীতে প্রথমে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে রোপন হয়েছিল।

৫০ একরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ধানে ১৬০ মেট্রিক টন। ধান কাটা পুরোপুরি শেষ হয়নি। আশা করছেন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। আগে এখানে একটি ফসল হতো আমন। এবার প্রথম বোরো ফসল হয়েছে। বোরোর পর আউশ চাষ করা হবে। আমরা ১০০ জন কৃষককে প্রদর্শনী দিয়েছিলাম। তাদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আমরা বিনামূল্যে বোরো হাইব্রিড ব্যাবিলন-২ জাতের বীজ ও সার দিয়েছি। যাতে বোরো কর্তনের পর পরই জমি পতিত না রেখে তারা আউশ আবাদ করতে পারেন। কৃষি বিভাগ এক ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমি রূপান্তর লক্ষ্যে কাজ করছে। এলাকার কৃষকরাও আমাদের এ কাজে সহযোগিতা করছেন।

Editor and Publisher: Mohammad Abdul Qayyum Khan. Acting Editor: Saiful Islam Sifat. Executive Editor: Md. Masud Rana.

Editorial and Commercial Office: Bhuiyan Bhaban, (2nd Floor), Adjacent to Chandpur Government College, Chandpur. News Room: Medina Super Market (2nd Floor), Ramganj Road, Bishwa Road, Hajiganj, Chandpur.

প্রিন্ট করুন