শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

“দুর্নীতি বনাম প্রতিশ্রুতি: কেন বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেছে, জামাতের বেড়েছে?”

আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান খান বাচ্চু প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ১১:০৬ পিএম
“দুর্নীতি বনাম প্রতিশ্রুতি: কেন বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেছে, জামাতের বেড়েছে?”

৫ই আগষ্ট সরকার পরিবতর্নের পর জামাত এর জন সমর্থন বেড়েছে এবং ভোট ও ভেড়েছে। কিন্তু আমারদল বি.এন.পির জনসমর্থন কমেছে এবং ভোট ও কমেছে। কারন কি?

বি.এন.পি, আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি এসব রাজনৈতিক দল বুর্জোয়া দল। এইসব দলের বড় বড় নেতা কর্মীরা দল ভূল ভ্রান্তি করলেও দলের সমালোচনা করতে পারবেন না। এসব দলের নেতা কর্মীরা তাদের দল এবং নেতা কোন ভুল করতে পারে এটা তারা বিশ্বাস করে না। কিছু সৎ সু- শিক্ষিত মেধাবী নেতা দলের এবং দলের বড় নেতাদের ভুলের ঘটন মূলক সমালোচনা করলে দলের নেতা কর্মীরা তার বিরুদ্ধে রাস্তা ঘাটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম সমালোচনা শুরু করে। এরা বুজে না ভুল মানুষেরই হয়। শুধু শয়তার আর ফেরেশতার কোন ভুল হয় না। আমার দল বিএনপি যদি ভুল না করত তা হলে ৯৬ সনের নির্বাচনে পরাজয় বরণ করেন না। আর ২০০৬ সনের পর ও দেশে ০১/১১ হয় না।

৫ই আগষ্টের পর বিএনপি সারা বাংলাদেশে বিএনপির জন সমর্থনের ধস ও বিপর্যয়ের মূল কারণ দুইটি। প্রথম হলো বিএনপি র কিছু নেতা কর্মীর বেপরোয়া টেন্ডার বাজি, ইজারাধারি, দখলদারি ও চাঁদাবাজি কারণ। যেটা সারা বাংলাদেশের মানুষের মনে ভীষন রেখাপাত করেছে। আর দ্বিতীয় হলো পত্রিকা টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয় যে দেশের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য যে যে ভালো সংকার প্রস্তাব বিএনপি বিরোধিতা করে তাদের ব্যক্তিগত হীন স্বার্থের জন্য।

বি.এন.পির স্ট্যান্ডিং কমিটি হতে, নির্বাহী কমিটি এবং জেলা ও উপজেলার বড় বড় নেতা আমরা কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেনা যে আমরা ১০০% সৎ।

Model Hospital

আমি বলেন আপনি বলেন আমারা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো সারা বাংলাদেশে আমাদের ৫০০ জন নেতা শতভাগ সৎ খুঁজে পাওয়া কঠিক হবে। আমরা কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যন্ত বড় বড় নেতারা দুর্নিতি করলেও। ছোট খাটো নেতা কর্মীরা কেউ ভয়ে প্রকাশ করে না । আমরা দলের কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যায়ে বড় বড় নেতা যদি সৎ হতাম তাহলে ছোট খাটো কর্মিরা কোন অন্যায় ও দুর্নীতি করার সাহস পেত না।

তাই আমরা কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যন্ত বড় নেতারা সৎ ও দুর্নীতি না করি । তাহলে ছোট খাট নেতা কর্মীরা সৎ, দুর্নীতি মুক্ত হতো।

গত ১৯ জুলাই ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে জামাতের মহা সম্মেলনে জামাতের আমির শফিকুর রহমান ঘোষনা দিয়েছে ইনশাআল্লাহ আপনাদের কাছে ওয়াদা দিচ্চি জামাত ক্ষমতায় গেলে আমরা দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করবো। আমরা এম.পি হলে সরকারি বরাদ্দ কৃত শুল্ক মুক্ত গাড়ী নিবনা। জামাতের কোন নেতা কর্মী সারা বাংলাদেশে কোন দুর্নীতি করতে পারবেনা। জামাতের আমিরের এই বক্তব্য সারা বাংলাদেশে আলোড়ন এবং প্রসংশা কুড়িয়েছে। বাংলদেশে সমস্ত মানুষের মুখে মুখে এই কথা ।

দেশের সাধারণ মানুষের মুখে এই কথা জামাতের আমির এই ঘোষণা দিতে পারলে। আমরা বি.এন.পি এই ঘোষণা দিতে পারলাম না কেন? তাদের কথা (ডাল মে কুচ কালা হে)

সর্বশেষ যে কথা আমি বলতে চাই আসুন আমরা কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যন্ত যারা বড় বড় নেতা আছি আমরা শপথ নেই যে আমরা কোন দুর্নীতি ও অন্যায় করবো না। আর বাংলাদেশের কাউকে দুর্নীতি করতে দিব না। তা হলে আমাদের দলের ছোট খাট নেতা কর্মিরাও দুর্নীতি ও অন্যায় করবে না । কারণ ছোট খাটো নেতা কর্মী সব সময় তাদের বড় নেতাকে অনুসরণ করে।

পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জিয়া সাহেবকে বলি আমাদের দেশের লোক মনে করে আমার দলের প্রদান নেতা বা নেত্রী সৎ মানুষ । দলের বেশিরভাগ লোকই দুর্নীতি বাজ তাহলে উনি একা কি করবেন ।

কিন্তু কথাটা সঠিক নয় । আমি আপনাকে বলি পৃথিবীতে যারা বিভিন্ন দেশে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এবং দেশকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখায় উঠিয়েছে তারা একাই করেছে। দুই জন মিলে এক সাথে ইতিহাসে সৃষ্টি করেছেন এটা পৃথিবীর কোথাও নাই। যেমন আমার নেতা জিয়াউর রহমান ইতিহাস সৃষ্টি একাই করেছেন।

আপনি ও জামাতের মতো ঘোষণা দেন ইনশাআল্লাহ আমরা বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে কোন অন্যায় ও দুর্নীতি হতে দেবো না। আর আমার নেতা কর্মীদের কেউ কোন রকম দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।
এটা আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা দিলাম।

লেখক : আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান খান বাচ্চু
সাবেক মেয়র, হাজীগঞ্জ পৌরসভা

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।