বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর–ঢাকা নৌপথ: যাত্রী হারাচ্ছে একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট

পারভেজ মোশারফ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৩ এম
চাঁদপুর–ঢাকা নৌপথ: যাত্রী হারাচ্ছে একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট

একসময় চাঁদপুর–ঢাকা নৌপথ ছিল বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় যাত্রীবাহী নৌরুট। এই নৌপথ শুধু চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার মানুষের জন্যই নয়; বরং শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার হাজারো মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল।

প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এই নৌপথ ব্যবহার করতেন। ফলে চাঁদপুর লঞ্চঘাট ছিল দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাণচঞ্চল নৌকেন্দ্র। স্বল্প খরচ, তুলনামূলক কম সময়, নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রুটে লঞ্চে যাতায়াত করতেন। ডেক থেকে শুরু করে কেবিন, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা, খাবারের সুবিধা, পর্যাপ্ত চলাচলের স্থান এবং ওয়াশরুম—সব মিলিয়ে লঞ্চ ভ্রমণ ছিল অনেকের প্রথম পছন্দ।

কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চিত্র দ্রুত বদলে গেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর এই রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর যাত্রাসময়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। আগে যেখানে আড়াই থেকে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টার মধ্যে চাঁদপুর–ঢাকা যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। যাত্রীদের অভিযোগ, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অনেক লঞ্চ একটিমাত্র ইঞ্জিন ব্যবহার করে ধীরগতিতে চলাচল করায় এই অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে।

শুধু যাত্রাসময়ই নয়, বেড়েছে ভাড়াও। একসময় সাধারণ ডেকের ভাড়া ছিল ১০০ টাকা। পরে তা এক লাফে ১৯০ টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০২৫ সালে ভাড়া কিছুটা কমিয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ২০২৬ সালে আবার তা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য শ্রেণির ভাড়াও প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ যাত্রাসময় যেমন বেড়েছে, তেমনি ভাড়াও প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে সড়কপথ বেছে নিচ্ছেন।

Model Hospital

এ ছাড়া যাত্রীদের নিত্যদিনের ভোগান্তির তালিকাও কম নয়। চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে প্রবেশের সময় ১০ টাকা ফি দিতে হলেও সে অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবা পাওয়া যায় না। লঞ্চঘাটে সিএনজিচালকদের টানাহেঁচড়া, লঞ্চে খাবারের অতিরিক্ত মূল্য, কিছু স্টাফের অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সদরঘাটে কুলিদের হয়রানি—এসব সমস্যাও যাত্রীদের নৌপথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করছে।

এর ফলও এখন দৃশ্যমান। একসময় যে নৌপথ দিন-রাত যাত্রীতে মুখর থাকত, সেখানে এখন যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যাত্রীসংকটের কারণে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক সময় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী লঞ্চ ছেড়েও যায় না।

চাঁদপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে এই নৌপথ গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই এই রুটের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, লঞ্চ মালিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত যাত্রীদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। যাত্রাসময় যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, ভাড়া সহনীয় রাখা, টার্মিনালের সেবার মান উন্নয়ন, যাত্রী হয়রানি বন্ধ এবং লঞ্চে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার প্রত্যাশা, চাঁদপুর–ঢাকা নৌপথ আবার তার হারানো ঐতিহ্য ও জনপ্রিয়তা ফিরে পাক। কারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটের অবনতি শুধু যাত্রীদের নয়, পুরো অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চাঁদপুর–ঢাকা নৌপথকে বাঁচাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই নৌরুট ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব ও জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলবে।

পারভেজ মোশারফ
নাগরিক, চাঁদপুর জেলা

শিক্ষার্থী, জার্নালিজম, মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।