রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

মিম হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন, আদালতে স্বীকারোক্তি

শাহরাস্তিতে ডাকাতের হাতে নয়, আপন জ্যার হাতেই প্রাণ গেল মিমের

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৮ পিএম
শাহরাস্তিতে ডাকাতের হাতে নয়, আপন জ্যার হাতেই প্রাণ গেল মিমের

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামের আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মীম (২৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার পর ডাকাতির গল্প ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হলেও তদন্তে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।

পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার জেরেই ছোট জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা (২৩) বড় জা মীমকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটিকে ডাকাতির রূপ দিতে সাজানো হয় পুরো নাটক।

বুধবার (১৬ জুলাই) গ্রেপ্তার হওয়া আসামি কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতে তিনি স্বীকার করেন, বাড়িতে কোনো ডাকাতি হয়নি। পরিকল্পিতভাবেই তিনি বড় জাকে হত্যা করেন এবং পরে নিজেকে আহত ও বাঁধা অবস্থায় দেখিয়ে ঘটনাকে ডাকাতির মোড় দেওয়ার চেষ্টা করেন।

নিহত রিগান আক্তার মীম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তিনি আড়াই বছর বয়সী কন্যা সাইফা ও মাত্র চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজের জননী। তার স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু অবস্থান করছিল।

Model Hospital

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে। ঘটনার পর ছোট জা সুমাইয়া দাবি করেন, মুখ বাঁধা দুই ডাকাত ঘরে ঢুকে তাকে ও তার তিন মাস বয়সী সন্তানকে ছুরির মুখে জিম্মি করে। তিনি জানান, ডাকাতরা তার হাত ওড়না দিয়ে বেঁধে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে এবং স্বর্ণালংকার লুট করে পাশের কক্ষে প্রবেশ করে। পরে তিনি বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনলেও বাঁধা অবস্থায় তাকে সাহায্য করতে পারেননি বলে দাবি করেন।

পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে উঠে দেখেন গেটের তালা নেই, পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মীমের ঘর থেকে আর্তচিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে অন্যদের ডাকেন। পরে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বাড়ির পূর্ব পাশের একটি জানালার কপাট খোলা দেখতে পান। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ছোট গৃহবধূকে বাঁধা অবস্থায় এবং অপর কক্ষে মীমকে গলায় ওড়না পেঁচানো অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে ঘটনাস্থলের আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং বিভিন্ন অসঙ্গতি বিশ্লেষণ করে পুলিশের সন্দেহের তীর ছোট জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনার দিকে যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও তিনি একই বক্তব্য দেন।

পুলিশ জানায়, এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়; বরং পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তদন্তে সংগৃহীত আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।

এদিকে, মীমের মৃত্যুতে আড়াই বছরের মেয়ে সাইফা ও মাত্র চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজ মাতৃহারা হয়েছে। ঘটনার দিন দুই শিশুকে বুকে জড়িয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রহস্য উদঘাটনের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে এখনও শোকাহত স্থানীয়রা। নিহতের পরিবার আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

শাহরাস্তিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন

ঐতিহাসিক চেতনায় জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ পিএম
ঐতিহাসিক চেতনায় জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন। আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ঐক্যের মাধ্যমে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি দিবসটির তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষার্থীদের ইতিহাসচর্চা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান, শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়াত আলী ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, সমাজসেবা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম, সমবায় কর্মকর্তা মোতালেব খান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, সদস্য সচিব আলী আজগর মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবিএম পলাশ, সদস্য সচিব আজগর হোসেন, ওসি এলএসডি হোসেন সরোয়ারদি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান পাটোয়ারী, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী হুমায়ুন কবির, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার আবু হাসান এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আমেনা বেগমসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন।আলোচনা সভা শেষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতার দুটি ইভেন্টেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে নিজমেহার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শেখ সামিহা সেহতাজ সুবহা। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

Model Hospital