বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইডের প্রচেষ্টায় ৫০ বছরের জমি বিরোধে ইতি, হাইমচরে ফিরল শান্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইডের প্রচেষ্টায় ৫০ বছরের জমি বিরোধে ইতি, হাইমচরে ফিরল শান্তি

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় হাইমচরে ৫০ বছরের পুরনো ভূমি বিরোধ মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলা একটি ভূমি বিরোধ অবশেষে মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এ বিরোধের অবসান ঘটায় সংশ্লিষ্ট পরিবারে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শান্তি।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেঘনা নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মনু মিয়া, আব্দুল কাদির ও সোনা মিয়া—এই তিন ভাইয়ের মধ্যে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি নিয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তারা একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের এই বিরোধে এক পর্যায়ে সোনা মিয়া মারা যান। পরবর্তীতে তাঁর সন্তানরাও এ বিরোধে যুক্ত হন।

সর্বশেষ বিরোধ সংশ্লিষ্ট দুটি ফৌজদারি মামলা চাঁদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ছিল। আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান পারিবারিক সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের বিরোধ বিবেচনায় নিয়ে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আপস-মীমাংসার জন্য পাঠান।

এরপর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. আবদুল আলীম মামলার বাদী-বিবাদী, আইনজীবী, পুলিশ ও সার্ভেয়ারদের নিয়ে সরেজমিনে বিরোধপূর্ণ জমি পরিদর্শন করেন। একাধিক দফায় বৈঠক ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে জমির ছাহাম চিটা নকশা প্রস্তুত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়।

Model Hospital

দীর্ঘ আলোচনার পর এক পর্যায়ে বিরোধমান পক্ষগুলো আপসে রাজি হয়। তারা নিজেদের মধ্যে জমি বণ্টনসংক্রান্ত একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন, যাতে ভোগদখল, খাজনা পরিশোধ ও নামজারি সংক্রান্ত বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আদালতে ওই চুক্তির ভিত্তিতে মামলা দুটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। পরে উভয় পক্ষই সন্তুষ্টি প্রকাশ করে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যান। দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসানে পরিবারগুলোতে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিস জানায়, তারা সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ ও আপস-মীমাংসা সেবা প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের সরকারি খরচে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়।

চাঁদপুর জেলা জজ আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার ৩৫ নম্বর কক্ষে অবস্থিত এ অফিসের হটলাইন নম্বর ০১৭১০-২৬৭৩৮১।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।