বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইডের প্রচেষ্টায় ৫০ বছরের জমি বিরোধে ইতি, হাইমচরে ফিরল শান্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইডের প্রচেষ্টায় ৫০ বছরের জমি বিরোধে ইতি, হাইমচরে ফিরল শান্তি

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় হাইমচরে ৫০ বছরের পুরনো ভূমি বিরোধ মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলা একটি ভূমি বিরোধ অবশেষে মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এ বিরোধের অবসান ঘটায় সংশ্লিষ্ট পরিবারে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও শান্তি।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেঘনা নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মনু মিয়া, আব্দুল কাদির ও সোনা মিয়া—এই তিন ভাইয়ের মধ্যে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি নিয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তারা একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের এই বিরোধে এক পর্যায়ে সোনা মিয়া মারা যান। পরবর্তীতে তাঁর সন্তানরাও এ বিরোধে যুক্ত হন।

সর্বশেষ বিরোধ সংশ্লিষ্ট দুটি ফৌজদারি মামলা চাঁদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ছিল। আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান পারিবারিক সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের বিরোধ বিবেচনায় নিয়ে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আপস-মীমাংসার জন্য পাঠান।

এরপর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. আবদুল আলীম মামলার বাদী-বিবাদী, আইনজীবী, পুলিশ ও সার্ভেয়ারদের নিয়ে সরেজমিনে বিরোধপূর্ণ জমি পরিদর্শন করেন। একাধিক দফায় বৈঠক ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে জমির ছাহাম চিটা নকশা প্রস্তুত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়।

Model Hospital

দীর্ঘ আলোচনার পর এক পর্যায়ে বিরোধমান পক্ষগুলো আপসে রাজি হয়। তারা নিজেদের মধ্যে জমি বণ্টনসংক্রান্ত একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন, যাতে ভোগদখল, খাজনা পরিশোধ ও নামজারি সংক্রান্ত বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আদালতে ওই চুক্তির ভিত্তিতে মামলা দুটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। পরে উভয় পক্ষই সন্তুষ্টি প্রকাশ করে হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যান। দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসানে পরিবারগুলোতে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিস জানায়, তারা সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ ও আপস-মীমাংসা সেবা প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের সরকারি খরচে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়।

চাঁদপুর জেলা জজ আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার ৩৫ নম্বর কক্ষে অবস্থিত এ অফিসের হটলাইন নম্বর ০১৭১০-২৬৭৩৮১।

ছুটি নেননি, কর্মস্থলেও অনুপস্থিত

কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ইনসেটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের ফাইল ফটো।

চাঁদপুরের কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তবে সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে । অন্যদিকে, বাকি কর্মদিবসগুলোতে ৭নং সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনকে দিয়ে নিজের চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাঁর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। রেজিস্টারে মেলেনি তার স্বাক্ষর। অফিস সহায়ক জসিম বলেন স্যার ছুটিতে আছেন, তাঁর ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি অফিস সহায়ক।

তবে তার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ, ছুটির অনুমোদন না থাকা এবং বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

Model Hospital

সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনেক সময় পান না। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরে অন্যত্র যেতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিন জানান, সেলিম আল মামুন স্যার ছুটিতে রয়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে মোঃ সেলিম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তার কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের কাছে অনুপস্থিত ও ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা  প্রকাশ করেন। “আপনাদের যা ইচ্ছা তাই লিখেন দেখি আমার কি করতে পারেন” এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার ও হুমকি দেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলে যান।

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোহেল রানা বলেন, উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সেলিম আল মামুন কোন ছুটি নেননি। সদর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩ দিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।