শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: নওগাঁর আত্রাইয়ের ৮ প্রবাসীর মৃত্যু, এলাকাজুড়ে শোক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৭ এম
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: নওগাঁর আত্রাইয়ের ৮ প্রবাসীর মৃত্যু, এলাকাজুড়ে শোক

সৌদি আরবে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ সময় রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার অন্তত ৮ জন প্রবাসী নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নিহতদের মধ্যে উপজেলার গণ্ডগোহালি গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের দুই ছেলে মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক, জাননারের ছেলে রুবেল, ফজল প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক, ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন, চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, পারকাসুন্দা গ্রামের মো. জলিল (জালাল কানা) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে মো. ফরিদ শেখ রয়েছেন।

নিহতদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের নিজ নিজ গ্রাম ও পরিবারের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

আত্রাই উপজেলায় এ ঘটনায় আরও কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই চলছে।

Model Hospital

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহতদের মধ্যে উপজেলার গণ্ডগোহালি গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুইজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, “নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর নিহতদের পরিচয় ও সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

এদিকে সৌদি আরবে কর্মরত নওগাঁর প্রবাসীদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।