বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আওয়ামী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন ফরিদগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ এম
আওয়ামী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন ফরিদগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম

শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে চিরতরে অবসর গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৯ নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মুঠোফোনে বিশেষ তিনি রাজনৈতি থেকে নিজের সরে দাঁড়ানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন।

বার্তায় চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমি আমার নিজের শারীরিক ও মানসিক সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আজকের পর থেকে দেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সাথেই আমার আর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক কিংবা সংশ্লিষ্টতা নেই।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শাহ আলম শেখ। ওই নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থীকে ভোটে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার অপরাধে তৎকালে দল থেকে তাঁকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকে তিনি দলীয় কোনো পদ-পদবিতে আর ফিরে আসেননি।

Model Hospital

অবশেষে বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) রাতে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার এই ব্যক্তিগত ঘোষণা দেন তিনি।

আজ থেকে চাঁদপুর পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিনের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১০ এম
আজ থেকে চাঁদপুর পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিনের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করার লক্ষ্যে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ২২ দিনের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। ৭ অক্টোবর দিনগত রাত ১২টার পর থেকে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও পরিবহন নিষিদ্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে ইতোমধ্যে নৌকা ও জাল গুটিয়ে ডাঙায় তুলেছেন চাঁদপুরের জেলেরা। কেউ নৌকা মেরামত করছেন, আবার কেউ ছেঁড়া জাল সংস্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্সও প্রস্তুতি নিয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের আনন্দবাজার, শহরের যমুনা রোডের টিলাবাড়ি, পুরানবাজারের রনাগোয়াল ও দোকানঘর এলাকা, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের রামদাসদী ও বহরিয়া এবং হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন জেলেপাড়া ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

আনন্দবাজার এলাকায় দেখা যায়, অধিকাংশ জেলে নৌকা ডাঙায় তুলে রাখছেন। কেউ কেউ নৌকা মেরামতের কাজ করছেন। বহরিয়া বাজার এলাকাতেও একই চিত্র। রামদাসদী এলাকায় জেলেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন জাল মেরামতে। আর হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় কয়েকটি নৌকা মেরামত করতে দেখা গেছে মিস্ত্রিদের।

Model Hospital

আনন্দবাজার এলাকার জেলে আলমগীর বলেন, এবার নদীতে তেমন ইলিশ পাইনি। তাই আগেই নৌকা ডাঙায় তুলে রেখেছি। নদীতে ইলিশের অবস্থান বুঝে ২২ দিন পর আবার নৌকা নামানো হবে।

রামদাসদী এলাকার জেলে শাহজাহান বেপারী বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় সরকার প্রতিবছর অভিযান দেয়। কিন্তু পরিকল্পনার ঘাটতি থাকায় অনেক সময় তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না। মেঘনার সঙ্গে সংযুক্ত যেসব খাল রয়েছে, সেগুলোতে নৌ পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হলে অসাধু জেলেরা মা ইলিশ ধরতে পারবে না।

একই এলাকার জেলে জামাল হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার জেলেরা গোল্টি জালে ইলিশ ধরে। এতে অনেক টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মৌসুমি কিছু জেলে এসে নদীতে নামে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। আমাদের যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন।

হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন জেলেপাড়ার জেলে আমজাদ আলী বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কারা নদীতে নামে, তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক লোকজন জানেন। এসব জেলেকে নদীতে নামা থেকে বিরত রাখতে পারলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে এবং ইলিশের উৎপাদনও বাড়বে।

বহরিয়া এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বলেন, নিরাপদে ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কোনো অভাব নেই। আমরা প্রশাসন ও পুলিশকে সহযোগিতা করে আসছি। তবে চাঁদপুর ছাড়াও শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জের জেলেরা আমাদের নৌসীমানায় এসে মা ইলিশ ধরে। বাইরের জেলার জেলেরা যাতে এখানে এসে মাছ ধরতে না পারে, সে বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে।

হরিণা মাছঘাটের প্রবীণ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে সরকার ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে অভিযান পরিচালনা করছে। আমার মতে, আমাদের অভয়াশ্রম এলাকার আগেই সাগরের মোহনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন। কারণ সেখানেই অধিকাংশ মা ইলিশ ধরা পড়ে এবং বাজারে চলে যায়।

চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে একাধিকবার সমন্বয় সভা হয়েছে। মেঘনা উপকূলীয় এলাকায় জেলেদের সতর্ক করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে কেউ মা ইলিশ শিকার না করেন।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুর ইসলাম বলেন, চাঁদপুরের নৌ-সীমানার অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। যারা আইন অমান্য করে নদীতে নামবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা নিবিন্ধত ৪১ হাজার জেলেকে ইতোমধ্যে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।