ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রাঙানো ফরিদগঞ্জের ভান্টির ঘর!

এস. এম ইকবাল : চৌচালা একটি টিনের ঘর। সাদা আকাশি রঙে রাঙানো। এক পাশে ফুটবল তারকা মেসির ছবি। অন্য পাশে জাতীয় পতাকা ও নিজের ছবি আঁকা।
ঘরটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের বাসিন্দা ফুটবল দল আর্জেন্টিনার সমর্থক আব্দুর রহমান ভান্টির। তার ঘরটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দলে দলে লোকজন আসছেন তার ঘরটি দেখতে।
আর মাত্র কয়েকদিন বাকি বিশ্বকাপ ফুটবলের। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে দেশে দেশে বিশ্বকাপ উন্মাদনা। নিজ নিজ দলকে ভালোবেসে বিভিন্ন ভাবে জানান দিচ্ছেন ভক্তেরা।
উপজেলার ঘনিয়া গ্রামের বাচ্চু বেপারীর ছেলে আর্জেন্টিনার ভক্ত আব্দুর রহমান ভান্টি পেশায় রং মিস্ত্রী। তাঁর নিজের ঘর আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রং করাসহ ফুটবলের সুপারস্টার মেসির ছবি এঁকে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। বাড়িটি এখন আর্জেন্টিনার বাড়ি বলে পরিচিত।
ফুটবলপ্রেমী আব্দুর রহমান ভান্টি দুই ভাই এক বোনের মধ্যে মেঝো। তিনি মানুরী ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করে। প্রবল ইচ্ছে থাকলেও পরিবারের দৈন্যতার কারনে পড়াশোনায় সামনে এগুতে পারেনি। পরিবারের অর্থনৈতিক হাল ধরতে রং মিস্ত্রী পেশায় কর্ম শুরু করেন। তার কষ্টে অর্জিত টাকা থেকে পরিবারের ব্যয় শেষে অল্প অল্প করে জমিয়ে তাদের টিনের বাড়িকে রাঙিয়েছেন আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে। যার মাঝখানে রয়েছে বাংলাদেশের পতাকা, ফুটবল তারকা মেসি ও তার নিজের ছবি।
এলাকাবাসী কাউছার আহমেদ বিপ্লবসহ কয়েকজন জানান, ফুটবলের জাদুকর ম্যারাডোনার নাম শুনে এবং অনলাইনে ম্যারাডোনার পুরোনো খেলা দেখে আর্জেন্টিনার প্রেমে পড়েন ভান্টি । এরপর থেকে মনে প্রাণে আর্জেন্টিনা দল সর্মথন করে আসছেন । চলতি বছরের অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলকে শুধু সর্মথন নয়, তাঁর নিজের ঘরটি আর্জেন্টিনা পতাকার রঙে রাঙিয়েছেন। বর্তমানে লিওলেন মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ। এবার আর্জেন্টিনা দল বিশ্বকাপ জিতবে এমন প্রত্যাশা তাঁর।
আর্জেন্টিনা দলকে শুধু ভালোবেসে ঘরের রং করেছেন এমন নয় আর্জেন্টিনার খেলার দিন এলাকার আর্জেন্টিনার সর্মথকদের নিয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনের পরিকল্পনাও ভান্টির।
বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুর রহমান ভান্টির বাড়ির টিনসেড ঘরের বেড়ার রং করা হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকা আদলে। ঘরের বেড়াতে এঁকেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার মেসি, বাংলাদেশের পতাকা ও তার নিজের ছবি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে রসাত্মক আলোচনা।
ফুটবলপ্রেমী আব্দুর রহমান ভান্টি বলেন, ফুটবলের জাদুকর ম্যারাডোনার নাম বাবার মুখে শুনেছি। সে থেকেই অনলাইনে নিয়মিত ম্যারাডোনার পুরোনো খেলা গুলো দেখি এবং আর্জেন্টিনার ভক্ত হয়ে পড়ি। বেশি ভালোবাসি আর্জেন্টিনা তারকা ফুটবলার মেসিকে। তার ভালো বাসা থেকেই নিজে কাজ করে কিছু কিছু টাকা জমিয়ে আমাদের বসতরত টিনের ঘর করে আর্জেন্টিনা পতাকার আদলে রং করেছি।
গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাজান পাটওয়ারী জানান, আমি জেনেছি ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ঘনিয়া গ্রামে একটি ঘর আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রাঙানো হয়েছে। আমি সহসাই সেই ঘর পরিদর্শনে জন্য যাবো।
সাবেক ফুটবলার ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমি বিষয়টি শুনেছি। সত্যি কথা বলতে এ দেশে যুবসমাজ ফুটবল মানেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকেই বুঝে থাকে। আব্দুর রহমান ভান্টির সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা না হলেও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসাকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমরা বীরের জাতি হিসেবে দেশ প্রেমকেই প্রথমে প্রাধান্য দিতে হবে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশন’র চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোক্তা মিটআপ

আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রাঙানো ফরিদগঞ্জের ভান্টির ঘর!

আপডেট সময় : ১২:২২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০২২
এস. এম ইকবাল : চৌচালা একটি টিনের ঘর। সাদা আকাশি রঙে রাঙানো। এক পাশে ফুটবল তারকা মেসির ছবি। অন্য পাশে জাতীয় পতাকা ও নিজের ছবি আঁকা।
ঘরটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের বাসিন্দা ফুটবল দল আর্জেন্টিনার সমর্থক আব্দুর রহমান ভান্টির। তার ঘরটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দলে দলে লোকজন আসছেন তার ঘরটি দেখতে।
আর মাত্র কয়েকদিন বাকি বিশ্বকাপ ফুটবলের। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে দেশে দেশে বিশ্বকাপ উন্মাদনা। নিজ নিজ দলকে ভালোবেসে বিভিন্ন ভাবে জানান দিচ্ছেন ভক্তেরা।
উপজেলার ঘনিয়া গ্রামের বাচ্চু বেপারীর ছেলে আর্জেন্টিনার ভক্ত আব্দুর রহমান ভান্টি পেশায় রং মিস্ত্রী। তাঁর নিজের ঘর আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রং করাসহ ফুটবলের সুপারস্টার মেসির ছবি এঁকে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। বাড়িটি এখন আর্জেন্টিনার বাড়ি বলে পরিচিত।
ফুটবলপ্রেমী আব্দুর রহমান ভান্টি দুই ভাই এক বোনের মধ্যে মেঝো। তিনি মানুরী ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করে। প্রবল ইচ্ছে থাকলেও পরিবারের দৈন্যতার কারনে পড়াশোনায় সামনে এগুতে পারেনি। পরিবারের অর্থনৈতিক হাল ধরতে রং মিস্ত্রী পেশায় কর্ম শুরু করেন। তার কষ্টে অর্জিত টাকা থেকে পরিবারের ব্যয় শেষে অল্প অল্প করে জমিয়ে তাদের টিনের বাড়িকে রাঙিয়েছেন আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে। যার মাঝখানে রয়েছে বাংলাদেশের পতাকা, ফুটবল তারকা মেসি ও তার নিজের ছবি।
এলাকাবাসী কাউছার আহমেদ বিপ্লবসহ কয়েকজন জানান, ফুটবলের জাদুকর ম্যারাডোনার নাম শুনে এবং অনলাইনে ম্যারাডোনার পুরোনো খেলা দেখে আর্জেন্টিনার প্রেমে পড়েন ভান্টি । এরপর থেকে মনে প্রাণে আর্জেন্টিনা দল সর্মথন করে আসছেন । চলতি বছরের অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলকে শুধু সর্মথন নয়, তাঁর নিজের ঘরটি আর্জেন্টিনা পতাকার রঙে রাঙিয়েছেন। বর্তমানে লিওলেন মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ। এবার আর্জেন্টিনা দল বিশ্বকাপ জিতবে এমন প্রত্যাশা তাঁর।
আর্জেন্টিনা দলকে শুধু ভালোবেসে ঘরের রং করেছেন এমন নয় আর্জেন্টিনার খেলার দিন এলাকার আর্জেন্টিনার সর্মথকদের নিয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনের পরিকল্পনাও ভান্টির।
বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুর রহমান ভান্টির বাড়ির টিনসেড ঘরের বেড়ার রং করা হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকা আদলে। ঘরের বেড়াতে এঁকেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার মেসি, বাংলাদেশের পতাকা ও তার নিজের ছবি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে রসাত্মক আলোচনা।
ফুটবলপ্রেমী আব্দুর রহমান ভান্টি বলেন, ফুটবলের জাদুকর ম্যারাডোনার নাম বাবার মুখে শুনেছি। সে থেকেই অনলাইনে নিয়মিত ম্যারাডোনার পুরোনো খেলা গুলো দেখি এবং আর্জেন্টিনার ভক্ত হয়ে পড়ি। বেশি ভালোবাসি আর্জেন্টিনা তারকা ফুটবলার মেসিকে। তার ভালো বাসা থেকেই নিজে কাজ করে কিছু কিছু টাকা জমিয়ে আমাদের বসতরত টিনের ঘর করে আর্জেন্টিনা পতাকার আদলে রং করেছি।
গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাজান পাটওয়ারী জানান, আমি জেনেছি ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ঘনিয়া গ্রামে একটি ঘর আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রাঙানো হয়েছে। আমি সহসাই সেই ঘর পরিদর্শনে জন্য যাবো।
সাবেক ফুটবলার ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমি বিষয়টি শুনেছি। সত্যি কথা বলতে এ দেশে যুবসমাজ ফুটবল মানেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকেই বুঝে থাকে। আব্দুর রহমান ভান্টির সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা না হলেও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসাকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমরা বীরের জাতি হিসেবে দেশ প্রেমকেই প্রথমে প্রাধান্য দিতে হবে।