হবিগঞ্জের কারখানায় সি’লিন্ডার বিস্ফোরণে চাঁদপুরের নিহত ৩ জন একই পরিবারের
হবিগঞ্জের আকিজ রেঞ্জারের কারখানায় গত মঙ্গলবার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত তিন শ্রমিকের বাড়ি চাঁদপুরে।

তারা একই পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় আহত গুরুতর আহত হয়েছে তাদের আরও দুই নিকটাত্মীয়।

বুধবার রাতে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে স্বজন হারানো পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, হবিগঞ্জের বাহুবলে আকিজ রেঞ্জারের কারখানায় প্রায় ৩০ বছর ধরে শ্রমিকের কাজ করতেন চাঁদপুরের রামপুর ইউনিয়নের আলগী গ্রামের মো. ইব্রাহিম খান বতু। বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন, স্বপ্ন ছিল শেষ বয়সে অবসর সময় পার করবেন সেখানে। স্বপ্ন অঁধরা রেখে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। কারখানার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে নিহত হন তিনি।

শুধু মো. ইব্রাহিম খান বতু নন, এ ঘটনায় নিহত হয়েছে তাঁর আরও দুই নিকটাত্মীয়। তাঁরা হলো– ভাগ্নে মৈশাদী গ্রামের মোহাম্মদ মিজান ও ফরিদগঞ্জের বালিথুবা গ্রামের মাহফুজ। এছাড়াও আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে তাঁর বড় ছেলে মোহাম্মদ আল আমিন। সংসারের চাহিদা মেটাতে এদের সবাইকে কাজে নিয়েছিলেন তিনি।
ইব্রাহিম খান বতুর স্ত্রী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সংসার দেখার মতো আর নাই। আমার ছেলেদের একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে সংসারটা চলবে। যে সংসার চালাতো সে–ই নেই। সে চলে গেছে, আর কেউ রইল না।’
ভাতিজা কাউছার হোসেন বলেন, ‘একই পরিবারের তিন জন মারা গেছে। দুজন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। একজন সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আরেকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তারাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল। ইব্রাহীম কাকা দুই বছর ধরে একটি ভবনের কাজ ধরেছে। দুই মাস আগেও এনজিও থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নেয়। এখন তার এক ছেলে গুরুতর আহত। কোম্পানি ও সরকার যদি সহায়তা না করে, তাহলে সবার সংসারগুলো পথে বসিয়ে পড়ার উপক্ষম হয়ে পড়বে।’
ভায়রা লতিফ পাটোয়ারী বলেন, ‘পরিবারে ইব্রাহীম ছাড়ার আর উপার্জনকারী কেউ নাই। এক মেয়ে, তিন ছেলে ও স্ত্রী রয়েছে। ছেলেটাও গুরুতর আহত। ৩০ বছর ধরে এই কোম্পানিতে চাকরি করেন ইব্রাহীম। যদি তারা পরিবারটির উপর সহায় হন।’






