মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ইসরাইলে বর্বরোচিত গণহত্যার প্রতিবাদে হেফাজতের বিক্ষোভ ও সমাবেশ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:০২ পিএম
শাহরাস্তিতে ইসরাইলে বর্বরোচিত গণহত্যার প্রতিবাদে হেফাজতের বিক্ষোভ ও সমাবেশ

গাজা ও রাফায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরোচিত মুসলিম নিধন এবং হামলার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ হেফাজত ইসলাম শাহরাস্তি শাখা এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ।শুক্রবার বিকেলে পৌর সদরের মেহের কালীবাড়ি ও উপলতা এলাকায় সর্বস্তরের জনগণ ও সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ইসরাইল বিরোধী বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগন হাজির হয়। ওই সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান আয়োজকরা। এ ছাড়া গাজা সংকটের প্রতিবাদ মঞ্চটি অল্প সময়ের ব্যবধানে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে । অংশগ্রহণ করা হাজারো মানুষের মিছিল, গগনস্পর্শী স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড হাতে জনস্রোতের ঢল প্রমাণ করে -গাজার প্রতি মুসলিম ভাতৃত্বের সহানুভূতি ও পাশ্চাত্য বিশ্বের নিরবতা নিয়ে তাদের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। ওই সময় বাংলাদেশ হেফাজত ইসলাম শাহরাস্তি শাখার নেতৃবৃন্দসহ ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে উপজেলার পৌর সদরের মেহের কালীবাড়ি মাঠ ও উপলতা বিদ্যালয় মাঠ এলাকায় সর্বস্তরের জনগণ একযোগে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহন করে সংহতি প্রকাশ করে।একপর্যায়ে ওই মিছিল পরিণত হয় বিশাল জনসমুদ্রে , অংশগ্রহণকারীদের প্রতিবাদের প্রতিটি ধ্বনি মুসলিম উম্মাহ নেতৃবৃন্দকে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানান।

হেফাজত ইসলাম শাহরাস্তি শাখার সহ-সভাপতি মাওঃ কাজী ফারুকের সভাপত্বিতে এতে প্রধান অতিথি হিসাবে মোনাজাত পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইদ্রিস। তিনি তার বক্তব্য বলেন, “গাজায় প্রতিদিন রক্তপাত চলছে, নারী-শিশু নির্বিশেষে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, অথচ তথাকথিত সভ্য বিশ্বের নেতারা নিশ্চুপ। এই নিরবতা আসলে হত্যাকারীদের প্রতি এক ধরনের সমর্থন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আর চুপ থাকবো না। আমরা গড়ে তুলবো প্রতিবাদ মঞ্চ। বক্তারা ইসরায়েলি পণ্যও বয়কটের আহবান জানিয়ে বলেন, “ভোক্তা হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে এসব আগ্রাসীদের পণ্য বর্জন করার। তারা ঘুমন্ত মুসলিমদের মানবতার পক্ষে জেগে উঠার আহ্বান জানান। এই প্রতিবাদ বিক্ষোভে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র সংগঠন,ওলামায়ে কেরাম , ব্যবসায়ী বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেয়, যা প্রমাণ করে-গাজার সংকট শুধুই একটি ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং তা আজ মানবতা রক্ষার এক বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আমরা রাজনীতি বুঝি না, কিন্তু আজ গাজায় যা হচ্ছে তা চোখ বিদীর্ণ করে অশ্রু আনছে । তাদের কষ্টে আমরা ঘুমাতে পারিনা। এখন আর চুপ করে থাকার সময় নেই।তাই শাহরাস্তির তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে-মানবতা কোনো কূটনীতির মোড়কে বন্দি নয়, বরং তা হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা এক সময়োপযোগী আর্তনাদ।

এই মিছিল শুধু গাজাবাসীর প্রতি সহমর্মিতার বার্তা নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মার ঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করার সঠিক সিদ্ধান্ত। আসুন দলমত নির্বিশেষে সবাই গাজার অলিতে গলিতে পাহাড়ে ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ বলা অনাথ শিশুদের সহানুভূতিতে একাত্ম হই।

Model Hospital

সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওঃ হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী সঞ্চালনায় এতে মেহমান হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন,চাঁদপুর জেলা জামায়েত ইসলামীর যুগ্ন সম্পাদক অধ্যাপক মাওঃ মোঃ আবুল হোসাইন,মাওঃ মোস্তাফিজুর রহমান, হেফাজত ইসলাম শাহরাস্তি পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওঃ মেহেদী হাসান চাঁদপুরী।সার্বিক সহযোগিতা ছিলেন, মাও: রবিউল হাসান, মাওঃ নিজামুদ্দিন, মাওঃ কামরুজ্জামান, মাও: রাহমাতুল্লাহ, মুফতি হাবিবুর রহমান, হাফেজ ইউনুস, মাওঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, আল মামুন, মাওলানা মোরশেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শাহরাস্তিতে ইউএনওর অভিযান: চিকিৎসককে লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধ দুই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা!

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
শাহরাস্তিতে ইউএনওর অভিযান: চিকিৎসককে লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধ দুই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা!

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতির এক প্র্যাকটিশনারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় অপর একটি মেডিকেল সেন্টারের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসাল্টেশন সেন্টারে অভিযান চালিয়ে বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতির একজন প্র্যাকটিশনারকে মূলধারার চিকিৎসাপদ্ধতিতে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, উপজেলার দোয়াভাঙ্গায় অবস্থিত অ্যাপোলো মেডিকেল সেন্টারে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

Model Hospital

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।