সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

‘মাগো’ বলে আর্তচিৎকার, চোখের সামনেই নিভে গেল বাবার প্রাণ! ফরিদগঞ্জে বি’দ্যুৎস্পৃ’ষ্টে বৃদ্ধের মৃ’ত্যু

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম
‘মাগো’ বলে আর্তচিৎকার, চোখের সামনেই নিভে গেল বাবার প্রাণ! ফরিদগঞ্জে বি’দ্যুৎস্পৃ’ষ্টে বৃদ্ধের মৃ’ত্যু

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নারিকেল গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রফিকুল ইসলাম বেপারি (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৬শে অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের দক্ষিণ চৌরাঙ্গা বেপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল ইসলাম বেপারি ওই এলাকার মৃত ছলেমান বেপারির ছেলে এবং তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে রফিকুল ইসলাম নিজ বাড়ির একটি নারিকেল গাছের ডাল কাটতে গাছে ওঠেন। গাছে ওঠার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ তাঁর মাগো বলে আর্তচিৎকার শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় নিচে থাকা তাঁর মেয়ে নাছিমা আক্তার ও স্বজনরা দ্রুত গাছের দিকে তাকিয়ে দেখতে পান, তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুতের আগুন জ্বলছে এবং তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েছেন। মুহূর্তের মধ্যেই গাছের ওপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হানিফ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ থেকে মৃতদেহটি নিচে নামিয়ে আনেন। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন।

Model Hospital

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল-আমিন তালুকদার জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।