কচুয়ায় ন’বমু’সলি’ম তরুণীকে নির্যাতন ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে ‘ডিভোর্সে বাধ্য’ করার অভিযোগ
নবমুসলিম রিয়া ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিচ্ছেন রিয়া।
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করার পর রিয়া নামে এক তরুণীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শাশুড়ি, চাচা শ্বশুরসহ স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের মনপুরা উত্তর-পূর্ব পাড়ার মিস্ত্রি বাড়ির বাসিন্দা রিয়া (২২) ভালোবাসার টানে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে একই এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে রাব্বি আহমেদের সঙ্গে প্রায় সাত মাস আগে আদালতের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের ১মাস পর রাব্বি প্রবাসে চলে গেলে রিয়ার ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

ভুক্তভোগী রিয়া জানান, তাঁর স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে শাশুড়ি ও চাচা শ্বশুর হাফেজ আল আমিন তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর বাবা-মাকেও হুমকি দেওয়া হয়। তাঁকে স্বামীর সংসার ছেড়ে দিতে এবং ডিভোর্স দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় কয়েকজন সালিশদারের উপস্থিতিতে তাঁকে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডিভোর্সের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ সময় তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাটির একটি ভিডিও ধারণ করা হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

আরও বলেন, আমি নিজের ধর্ম ত্যাগ করে রাব্বিকে ভালোবেসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁকে বিয়ে করি। বিয়ের পর তাঁর পরিবার আমাদের মেনে নিয়েছিল। কিন্তু রাব্বি প্রবাসে যাওয়ার পর আমার শাশুড়ি ও চাচা শ্বশুর আমার ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করেন। আমার বাবা-মাকেও হুমকি দেওয়া হয়। আমাকে স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি স্বামীর সংসার করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাঁদের কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। এখন আমি কোথায় যাব, কার কাছে থাকবো তা বুঝতে পারছি না।

তিনি আরও জানান, দুই লাখ টাকা কাবিনের খরচ দেওয়ার কথা বলে তাঁকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন বিপ্লব জানান, রিয়া ও রাব্বির বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে রাব্বি প্রবাসে গেলে রিয়াকে ডিভোর্স দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এ ঘটনার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।।
এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন, নবমুসলিম রিয়া এখনো কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। তার পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





