শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরের ৫০ টি গ্রামে আজ ঈদ উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ জুন, ২০২৫, ৬:২৯ পিএম
চাঁদপুরের ৫০ টি গ্রামে আজ ঈদ উদযাপন

চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ জুন) সকাল ৮টার দিকে হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি।

অন্যদিকে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের আরেক পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে সমেশপুর ঈদগাহ মাঠ, সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল, মাদরাসা মাঠ, সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠসহ ১২টি ঈদগাহ মাঠে এবং উত্তর সাদ্রা বায়তুল সালাম জামে মসজিদ, দক্ষিণ সাদ্রা জামে মসজিদ, উত্তর অলিপুর বেপারী বাড়ি জামে মসজিদ, উত্তর অলিপুর ঢালী বাড়ি মসজিদ, দক্ষিণ বলাখাল হাজী বাড়ি, দক্ষিণ বলাখাল স্কুল বাড়ি, পাঁচানী দরগাম মসজিদ, পূর্ব পাঁচানী সরকার বাড়ি, দেওয়ানজিকান্দি প্রধানিয়াবাড়ী মসজিদ, সাড়ে পাঁচানী প্রধানিয়া জামে মসজিদ, দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা ভেন্ডরবাড়ী মসজিদ, পাড়ে পাঁচানী উত্তরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ ১৮টি জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৩০টি ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া স্ব-স্ব এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে ধর্মীয়রীতি অনুযায়ী তারা পশু জাবাই করেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ১৯২৮ সালে আগাম ঈদুল আজহা, রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর পালনের নিয়ম চালু করেন সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক (র.)। তার অনুসারীরা প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপন করা শুরু করেন। সেই থেকে বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা আরব দেশসমূহের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহাসহ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। এর মধ্যে জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, ভোলাচোঁ, ঝাকনি, সোনাচোঁ, প্রতাপপুর ও সুরঙ্গচাইল গ্রাম, ফরিদগঞ্জ উপজেলার কাইতাড়া, উভারামপুর, টোরামুন্সিরহাট, লক্ষ্মীপুর, কামতা, ভূলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলী, বাচপাড়, মূলপাড়া, আইটপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসার, মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচানী, বাহেরচর পাঁচানী, আইটাদি পাঁচানী, দেওয়ানকান্দিসহ জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের মুসল্লিসৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেন।

Model Hospital

মতলব উত্তরের দেওয়ানকান্দি গ্রামের বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখিল দরবার শরীফের অনুসারী। প্রতি বছর আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদসহ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে আসছি। এবারও দেশটির সঙ্গে মিল রেখে কোরবানির ঈদ উদযাপন করছি।

সাদ্রা এলাকার সফিক বলেন, বুঝতে শেখার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রথম চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রোজা, ঈদ পালন করে আসছি। আমরা বিশ্বের যে কোনো জায়গায় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ পালন করি।

হান্নান নামে এক যুবক বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষরা এ রীতিনীতি পালন করে এসেছেন। আমরাও তা পালন করছি।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি বলেন, আমরা কোরআন সুন্নাহের আলোকে সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক (র.) এর নিয়ম অনুযায়ী প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছি। কোরআন সুন্নাহর ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করে আসছি।

হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফের পীর ও সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে চাঁদ একটাই। সুতরাং পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান এবং ঈদুল আজহা পালন করি। এ বছরও একই সময়ে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর হয়ে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ঈদ উদযাপন করছে। আমাদের দরবার শরিফের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আজহা শুভেচ্ছা।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব বলেন, আজ জেলার বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মুসল্লিদের নিরাপত্তায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায় নেই।

শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু নাছের শাকিল।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথকীকরণ, নিরাপদ সংরক্ষণ ও অপসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ডাস্টবিনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ করে চিকিৎসা বর্জ্য সাধারণ বর্জ্য থেকে আলাদা করা, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুই, রক্তমাখা তুলা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণ এবং নিরাপদে অপসারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে একটি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিনের নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রতিটি টয়লেট ব্যবহার উপযোগী করা, হাসপাতাল আঙিনার ঘাস ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা, সাইনবোর্ড, ফেস্টুন ও হকারদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওষুধের সংকট নিরসনে রিকুইজিশন পাঠানো, অকেজো আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে মেশিন সচল করার উদ্যোগ এবং চিকিৎসকদের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন তদারকি জোরদার করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় সংশ্লিষ্টরা জানান, ৯০-এর দশকে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি পরবর্তীতে ৫১ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট এখনো কাটেনি। দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য সংরক্ষণ ও ডাম্পিং ব্যবস্থায়ও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, সুই, রক্তমাখা তুলা ও স্যালাইনের বিভিন্ন উপকরণ নিরাপদে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে।
এদিকে বর্তমান সরকার সম্প্রতি ৫১ শয্যার  হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নতি করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী,স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. ফায়দুল্লাহ মিয়া, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ প্রতিনিধি জসীমউদ্দীন, পৌর প্রশাসকের প্রতিনিধি ও পৌরসভার প্রধান সহকারী মো. নজরুল ইসলাম, পৌরসভা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক এবং কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।হাসপাতালে পক্ষে
নার্সিং সুপারভাইজার সুভদ্রা রানী দেবনাথ, স্টোরকিপার ও বহির্বিভাগ ইনচার্জ মো. মোস্তফা, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো. ইমাম হোসেন, জরুরি বিভাগ ইনচার্জ ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মহিন হোসেন,  এবং জুনিয়র মেকানিক আবুল বাসার খান।সভায় হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।