বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে প্রেসক্লাব-বিএনপি সমঝোতা বৈঠক, সংবাদ বর্জনের ঘোষণা স্থগিত

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে প্রেসক্লাব-বিএনপি সমঝোতা বৈঠক, সংবাদ বর্জনের ঘোষণা স্থগিত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অসদাচরণ, হুমকি, মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগে দলটির সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ বর্জনের ঘোষণা স্থগিত করেছে প্রেসক্লাব।
‎প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংগঠনের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নাছির পাটওয়ারী, মহসিন পাটওয়ারী, মো. ফজলুর রহমান, জি.এস. মামুন, এ.এম.এম. টুটুল পাটওয়ারী ও সেলিম হোসেন রাঢ়ী।
‎বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রেসক্লাবে পৌঁছালে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্য তাঁদের স্বাগত জানান। বৈঠকের শুরুতে সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য। সাংবাদিক ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবেন, সংশ্লিষ্টরা তার জবাব দেবেন। সাংবাদিক অনিয়মের সমালোচনা করবেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা দেবে।
‎তিনি আরও বলেন, কোনো সাংবাদিক ভুল, অন্যায় বা পেশাগত অসদাচরণ করলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় না। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, ক্ষমতার জবাবদিহি বন্ধ এবং আইনের শাসন দুর্বল হলে রাষ্ট্র ক্রমেই দুর্বৃত্তায়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
‎এদিকে, প্রেসক্লাব সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য নেতার বক্তব্য এবং দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তাঁরা।
‎
‎বৈঠকে বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়য়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের নির্দেশে আমরা প্রেসক্লাবে এসেছি। তিনি, বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে ঢাকায় ব্যাস্ত থাকায় আসতে পারেননি। তবে, সাংবাদিকদের প্রতি সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক পর্যায়ে তিনি মুঠোফোন কথা বলেন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে উদ্ভুত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
‎বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান বিএনপি সরকার গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতা এবং সুরক্ষা-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
‎আলোচনার একপর্যায়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দের অনুরোধ ও ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংবাদ বর্জনের ঘোষণা স্থগিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সদস্যদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
‎বৈঠকে প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মামুনুর রশিদ পাঠান, মানিক পাঠান, নুরুন্নবী নোমান, মো. মহিউদ্দিন, প্রবীর চক্রবর্তী, মশিউর রহমান, আবদুস ছোবহান লিটন, নুরুল ইসলাম ফরহাদ, নারায়ণ রবিদাস, ইমাম হোসেন সৌরভ, রুহুল আমিন খাঁন স্বপন, এসএম ইকবাল, শিমুল হাছান, আনিসুর রহমান সুজন, শাকিল মুশফিক, গাজী মমিন, আমান উল্যাহ খাঁন ফারাবী, জসিম উদ্দিন (১), মামুন হোসাইন, আব্দুল কাদির, ফখরুল আলম পাঠান, কেএম নজরুল ইসলাম, শামীম হাসান, এফএ মানিক, সাখাওয়াত হোসেন মিন্টু ও জসিম উদ্দিন (২)।

শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু নাছের শাকিল।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথকীকরণ, নিরাপদ সংরক্ষণ ও অপসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ডাস্টবিনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ করে চিকিৎসা বর্জ্য সাধারণ বর্জ্য থেকে আলাদা করা, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুই, রক্তমাখা তুলা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণ এবং নিরাপদে অপসারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে একটি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিনের নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রতিটি টয়লেট ব্যবহার উপযোগী করা, হাসপাতাল আঙিনার ঘাস ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা, সাইনবোর্ড, ফেস্টুন ও হকারদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওষুধের সংকট নিরসনে রিকুইজিশন পাঠানো, অকেজো আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে মেশিন সচল করার উদ্যোগ এবং চিকিৎসকদের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন তদারকি জোরদার করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় সংশ্লিষ্টরা জানান, ৯০-এর দশকে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি পরবর্তীতে ৫১ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট এখনো কাটেনি। দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য সংরক্ষণ ও ডাম্পিং ব্যবস্থায়ও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, সুই, রক্তমাখা তুলা ও স্যালাইনের বিভিন্ন উপকরণ নিরাপদে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে।
এদিকে বর্তমান সরকার সম্প্রতি ৫১ শয্যার  হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নতি করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী,স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. ফায়দুল্লাহ মিয়া, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ প্রতিনিধি জসীমউদ্দীন, পৌর প্রশাসকের প্রতিনিধি ও পৌরসভার প্রধান সহকারী মো. নজরুল ইসলাম, পৌরসভা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক এবং কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।হাসপাতালে পক্ষে
নার্সিং সুপারভাইজার সুভদ্রা রানী দেবনাথ, স্টোরকিপার ও বহির্বিভাগ ইনচার্জ মো. মোস্তফা, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো. ইমাম হোসেন, জরুরি বিভাগ ইনচার্জ ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মহিন হোসেন,  এবং জুনিয়র মেকানিক আবুল বাসার খান।সভায় হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।