শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

হাইমচরে মাদক সমস্যা— একটি সামাজিক জরুরি সংকট

আফতাবুল ইসলাম মেহরাব প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪৯ এম
হাইমচরে মাদক সমস্যা— একটি সামাজিক জরুরি সংকট
হাইমচর এখন শুধু একটি প্রশাসনিক নাম নয়—এটি ধীরে ধীরে মাদক নামক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির একটি নতুন আশঙ্কাজনক চিত্র হিসেবে উঠে আসছে। মাদক সমস্যা কোনো একক ঘটনা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের ফল। আর সেই বাস্তবতার ছায়া আজ এই জনপদেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাদক এখন আর গোপন কোনো সমস্যা নয়; বরং এটি ধীরে ধীরে প্রকাশ্য সামাজিক বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ অজান্তেই কিংবা কৌতূহলবশত এই পথে পা বাড়াচ্ছে, আর একবার প্রবেশ করলে তা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ—সবখানেই এর নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তারা ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলা সহজ হয়। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে যে সমস্যাটি এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সংগঠিত রূপ নিচ্ছে।
এই অবস্থায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো তরুণদের সম্পৃক্ততা। সমাজের ভবিষ্যৎ যাদের হাতে, তারাই যদি মাদকের মতো ধ্বংসাত্মক অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যৎ কতটা অনিশ্চিত হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন, পড়াশোনায় অনীহা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা—সবকিছুই একটি সতর্ক সংকেত।
অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা এখন বাস্তব রূপ নিয়েছে। অনেক পরিবারই সন্তানদের চলাফেরা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সন্ধ্যার পর অকারণে বাইরে থাকা, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক চাহিদা বেড়ে যাওয়া—এসবই অনেক সময় মাদক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেরিতে বিষয়টি বোঝা যায়, তখন ক্ষতি হয়ে যায় অপূরণীয়।
শিক্ষকদের বক্তব্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের অভাব ও অনিয়মিত উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ শিক্ষার মানের জন্য হুমকি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানের জায়গা নয়; এটি নৈতিকতা গঠনের কেন্দ্রও। কিন্তু সেই কেন্দ্র যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে পুরো সমাজই দুর্বল হয়ে পড়ে।
এখন প্রশ্ন হলো—এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কী? শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কি যথেষ্ট? বাস্তবতা বলছে, না। কারণ মাদক একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে বহুমাত্রিক কৌশল প্রয়োজন।
প্রথমত, তথ্যভিত্তিক গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। হঠাৎ অভিযান নয়, বরং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চক্রগুলোকে চিহ্নিত করা বেশি কার্যকর। এতে মূল হোতাদের ধরা সম্ভব হবে এবং সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়বে।
দ্বিতীয়ত, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকবিরোধী সচেতনতা শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দিতে হবে।
তৃতীয়ত, তরুণদের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ বাড়াতে হবে। একটি ব্যস্ত ও লক্ষ্যভিত্তিক তরুণ সমাজ সহজে বিপথে যায় না।
চতুর্থত, পরিবারকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, তার আচরণে কী পরিবর্তন হচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।
পঞ্চমত, আইনগত শাস্তি অবশ্যই কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক হতে হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই চক্র বারবার ফিরে আসবে।
তবে শুধু শাস্তি নয়, পুনর্বাসন ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। যারা মাদকের জালে আটকে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা দরকার। সমাজ থেকে কাউকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন না করে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা একটি মানবিক দায়িত্ব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামাজিক সচেতনতা। মাদক সমস্যা নিয়ে লজ্জা বা ভয় না করে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। সমাজ যদি চুপ থাকে, তাহলে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে যায়। কিন্তু সমাজ যদি সক্রিয় হয়, তাহলে অপরাধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
হাইমচর-এর বর্তমান বাস্তবতা আমাদের একটি কঠিন বার্তা দিচ্ছে—এটি শুধু একটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে জয়ী হতে হলে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সচেতন নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
শেষ কথা হলো, মাদক কখনোই একদিনে জন্ম নেয় না, আবার একদিনে শেষও হয় না। কিন্তু সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে এর বিস্তার থামানো সম্ভব। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তবে এই জনপদ আবারও নিরাপদ ও মাদকমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
লেখক : শিক্ষার্থী

শাহতলীতে মাদকবিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ সমাপনী অনুষ্ঠিত

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন চলবে : চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন চলবে : চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী

শাহতলীতে শহীদ জিয়ার স্মরণে মাদকবিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ সমাপনী খেলায় চ্যাম্পিয়ান মান্দারী স্পোটিং ক্লাব দলকে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীসহ অতিথিবৃন্দ।

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে শাহতলী এক্সপ্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মাদক বিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) বিকেল ৪টায় শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ মাঠে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর সমাপনী খেলার উদ্বোধন করেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি সোহেল রুশদী।

পরে বিকাল ৫টায় জিলানী চিশতী কলেজ মিলনায়তনে ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো: মোশারফ কারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা যায়। তরুণদের খেলাধুলা প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরতে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন চলবে। কেউ আইন হাতে নিবেন না, কোন মাদক ব্যবসায়ীকে দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দিবেন।

Model Hospital

তিনি বলেন, যুবসমাজকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মাদকের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। যুবসমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটিয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করতে হবে। যুব সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে হবে। যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ বির্ণিমানেে কারিগড়। যুবসমাজ খেলায় ব্যস্ত থাকলে, মাদকের অন্ধকার জগৎ থেকে দূরে থাকবে। সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে খেলার বিকল্প নেই।

তিনি আরো বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে তরুণেরা মাদকের পথ এড়িয়ে, দেশের ইতিবাচক ও গঠনমূলক নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে হবে। খেলাধুলা তরুণদের অলস সময়কে ইতিবাচকভাবে পূরণ করে, ফলে মাদক গ্রহণ বা অপরাধমূলক কাজে জড়ানোর সুযোগ কমে যায়।

প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক সাহেব মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করেছেন। তিনি চাঁদপুরকে মাদকমুক্ত করতে কাজ করছেন৷ কিশোর গ্যাং এবং ভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। চাঁদপুরের উন্নয়নে মানিক ভাই কাজ করছেন।

৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর মিজির পরিচালনায় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এস এম বাকের খন্দকার, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজি, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম (বাবলু)।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদ, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল আজিজ মিজি, ৬নং মৈশাদী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো: মাহবুব খান বাবলু, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম বেপারী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মজিব কারী, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন তাতীদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত গাজী, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো: শওকত কারী, ইউনিয়ন মৎস্যজীবি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ গাজী, ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মো: সফিক কারী, সমাজসেবক মো: নুরুজ্জামান মুন্সি, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: রিপন মিজি, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠিনক সম্পাদক পারভেজ মিজি, সমাজসেবক ও শাহতলী বাজারের ব্যবসায়ী মো: আনোয়ার গাজী, বালু ব্যবসায়ী মো: জাহাঙ্গীর মিজিসহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, সুধীজন, দর্শকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দগণকে ক্রেস্ট প্রদান করেন শাহতলী এক্সপ্রেস সংগঠনের নেতৃবৃন্দ৷

শহীদ জিয়ার স্মরণে মাদকবিরোধী মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ সর্বমোট ৩২টি দল অংশগ্রহন করে। এর মধ্যে ফাইনাল খেলায় মান্দারী স্পোটিং ক্লাব দল ও এসকে স্পোটিং ক্লাব দল অংশগ্রহন করে। ফাইনালে ০-১গোলে চ্যাম্পিয়ান হয় মান্দারী স্পোটিং ক্লাব এবং রানার্সআপ হয় এসকে স্পোটিং ক্লাব। খেলায় চ্যাম্পিয়ান মান্দারী স্পোটিং ক্লাব দল ও রানার্সআপ এসকে স্পোটিং ক্লাব দলকে পুরস্কার ও খেলোয়ারদের মেডেল প্রদান করেন প্রধান অতিথি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীসহ অতিথিবৃন্দ।

শেষে সভাপতির বক্তব্য রাখেন ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো: মোশারফ কারী।