বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা, ত্যাগ নাকি প্রদর্শনী?

মোঃ সাইফুল ইসলাম রণি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:৪৬ এম
কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা, ত্যাগ নাকি প্রদর্শনী?

পবিত্র ঈদ-উল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও মানবতার এক অনন্য শিক্ষা নিয়ে আসে। হযরত ইবরাহিম (আ.) মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। সেই ত্যাগের মহান আদর্শই কোরবানির মূল শিক্ষা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আমরা কি সেই প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করতে পারছি, নাকি কোরবানি এখন ধীরে ধীরে সামাজিক প্রদর্শনীতে পরিণত হচ্ছে- এ প্রশ্ন আজ সমাজের অনেক সচেতন মানুষের মনে।

বর্তমান সময়ে কোরবানিকে কেন্দ্র করে এক ধরনের অঘোষিত প্রতিযোগিতা দেখা যায়। কে কত বড় গরু কিনেছে, কার পশুর দাম কত, কার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি ভাইরাল- এসব যেন অনেকের কাছে ইবাদতের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পশুর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, লাইভ ভিডিও করা কিংবা দাম নিয়ে অহংকার করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। অথচ ইসলাম কখনোই অহংকার ও লোক দেখানোকে সমর্থন করে না।

কোরবানির মূল উদ্দেশ্য পশুর রক্ত বা মাংস নয়, বরং মানুষের তাকওয়া ও আন্তরিকতা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” অর্থাৎ কোরবানি হলো আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির শিক্ষা।

দুঃখজনক হলেও সত্য, সমাজের কিছু মানুষ কোরবানিকে নিজেদের সামাজিক অবস্থান জানান দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। অনেক পরিবার সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে শুধুমাত্র সমাজের চোখ রাঙানির কারণে ঋণ করে কোরবানি দিচ্ছে। এতে ধর্মীয় আবেগের চেয়ে সামাজিক চাপই বেশি কাজ করছে। অথচ ইসলাম সামর্থ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, প্রতিযোগিতার ওপর নয়।

Model Hospital

কোরবানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, ভাগাভাগি ও সহমর্মিতা। সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই কোরবানির অন্যতম সৌন্দর্য। যদি আমাদের কোরবানিতে প্রতিবেশীর অধিকার নিশ্চিত না হয়, তবে সেই আনন্দ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

আমাদের মনে রাখতে হবে, কোরবানি কোনো উৎসবের বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, এটি আত্মত্যাগের এক মহৎ ইবাদত। তাই সামাজিক প্রদর্শনী থেকে বেরিয়ে এসে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তবেই ঈদ উল আজহার সৌন্দর্য ও তাৎপর্য সত্যিকার অর্থে ফুটে উঠবে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে।

ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

লেখক পরিচিতি: মোঃ সাইফুল ইসলাম রণি, লেখক ও সাংবাদিক।

ছুটি নেননি, কর্মস্থলেও অনুপস্থিত

কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ইনসেটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের ফাইল ফটো।

চাঁদপুরের কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তবে সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে । অন্যদিকে, বাকি কর্মদিবসগুলোতে ৭নং সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনকে দিয়ে নিজের চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাঁর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। রেজিস্টারে মেলেনি তার স্বাক্ষর। অফিস সহায়ক জসিম বলেন স্যার ছুটিতে আছেন, তাঁর ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি অফিস সহায়ক।

তবে তার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ, ছুটির অনুমোদন না থাকা এবং বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

Model Hospital

সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনেক সময় পান না। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরে অন্যত্র যেতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিন জানান, সেলিম আল মামুন স্যার ছুটিতে রয়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে মোঃ সেলিম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তার কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের কাছে অনুপস্থিত ও ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা  প্রকাশ করেন। “আপনাদের যা ইচ্ছা তাই লিখেন দেখি আমার কি করতে পারেন” এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার ও হুমকি দেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলে যান।

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোহেল রানা বলেন, উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সেলিম আল মামুন কোন ছুটি নেননি। সদর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩ দিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।