শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

হাইমচরে মাদক সমস্যা— একটি সামাজিক জরুরি সংকট

আফতাবুল ইসলাম মেহরাব প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪৯ এম
হাইমচরে মাদক সমস্যা— একটি সামাজিক জরুরি সংকট
হাইমচর এখন শুধু একটি প্রশাসনিক নাম নয়—এটি ধীরে ধীরে মাদক নামক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির একটি নতুন আশঙ্কাজনক চিত্র হিসেবে উঠে আসছে। মাদক সমস্যা কোনো একক ঘটনা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের ফল। আর সেই বাস্তবতার ছায়া আজ এই জনপদেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাদক এখন আর গোপন কোনো সমস্যা নয়; বরং এটি ধীরে ধীরে প্রকাশ্য সামাজিক বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ অজান্তেই কিংবা কৌতূহলবশত এই পথে পা বাড়াচ্ছে, আর একবার প্রবেশ করলে তা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ—সবখানেই এর নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তারা ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলা সহজ হয়। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে যে সমস্যাটি এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সংগঠিত রূপ নিচ্ছে।
এই অবস্থায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো তরুণদের সম্পৃক্ততা। সমাজের ভবিষ্যৎ যাদের হাতে, তারাই যদি মাদকের মতো ধ্বংসাত্মক অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যৎ কতটা অনিশ্চিত হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন, পড়াশোনায় অনীহা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা—সবকিছুই একটি সতর্ক সংকেত।
অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা এখন বাস্তব রূপ নিয়েছে। অনেক পরিবারই সন্তানদের চলাফেরা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সন্ধ্যার পর অকারণে বাইরে থাকা, আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক চাহিদা বেড়ে যাওয়া—এসবই অনেক সময় মাদক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেরিতে বিষয়টি বোঝা যায়, তখন ক্ষতি হয়ে যায় অপূরণীয়।
শিক্ষকদের বক্তব্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগের অভাব ও অনিয়মিত উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ শিক্ষার মানের জন্য হুমকি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানের জায়গা নয়; এটি নৈতিকতা গঠনের কেন্দ্রও। কিন্তু সেই কেন্দ্র যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে পুরো সমাজই দুর্বল হয়ে পড়ে।
এখন প্রশ্ন হলো—এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কী? শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কি যথেষ্ট? বাস্তবতা বলছে, না। কারণ মাদক একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে বহুমাত্রিক কৌশল প্রয়োজন।
প্রথমত, তথ্যভিত্তিক গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। হঠাৎ অভিযান নয়, বরং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চক্রগুলোকে চিহ্নিত করা বেশি কার্যকর। এতে মূল হোতাদের ধরা সম্ভব হবে এবং সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়বে।
দ্বিতীয়ত, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকবিরোধী সচেতনতা শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দিতে হবে।
তৃতীয়ত, তরুণদের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ বাড়াতে হবে। একটি ব্যস্ত ও লক্ষ্যভিত্তিক তরুণ সমাজ সহজে বিপথে যায় না।
চতুর্থত, পরিবারকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, তার আচরণে কী পরিবর্তন হচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।
পঞ্চমত, আইনগত শাস্তি অবশ্যই কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক হতে হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই চক্র বারবার ফিরে আসবে।
তবে শুধু শাস্তি নয়, পুনর্বাসন ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। যারা মাদকের জালে আটকে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা দরকার। সমাজ থেকে কাউকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন না করে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা একটি মানবিক দায়িত্ব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামাজিক সচেতনতা। মাদক সমস্যা নিয়ে লজ্জা বা ভয় না করে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। সমাজ যদি চুপ থাকে, তাহলে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে যায়। কিন্তু সমাজ যদি সক্রিয় হয়, তাহলে অপরাধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
হাইমচর-এর বর্তমান বাস্তবতা আমাদের একটি কঠিন বার্তা দিচ্ছে—এটি শুধু একটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে জয়ী হতে হলে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সচেতন নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
শেষ কথা হলো, মাদক কখনোই একদিনে জন্ম নেয় না, আবার একদিনে শেষও হয় না। কিন্তু সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে এর বিস্তার থামানো সম্ভব। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তবে এই জনপদ আবারও নিরাপদ ও মাদকমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
লেখক : শিক্ষার্থী

হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামী ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(১৬ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার বাদ মাগরিব আল-আমিন মডেল মাদ্রাসার হিফজ শাখা মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো. আসাদুজ্জামান দেওয়ানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ বলেন, “আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ ইং তারিখে চাঁদপুর আল-আমিন মডেল মাদ্রাসা মাঠে হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এত বিশাল একটি আয়োজন সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। তবে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও সুধীজনদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় বিগত বছরগুলোতে আমরা সুন্দরভাবে মাহফিল পরিচালনা করে আসছি।”

Model Hospital

তিনি মাহফিলের বক্তা নির্বাচন সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “মাহফিলে অমূল্য ওয়াজ ও বয়ান পেশ করার জন্য এ বছর আমন্ত্রিত অতিথিদের ইখলাস (খুলুসিয়াত) ও ইলমি গভীরতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সাময়িক কোনো ‘ভাইরাল’ বক্তাকে না ডেকে, সকলের পরামর্শক্রমে সুন্নাহভিত্তিক ও বিশ্বস্ত আলেম-ওলামা এবং খ্যাতিসম্পন্ন আলোচকদের দাওয়াত চূড়ান্ত করা হয়েছে।”

সভায় বিশেষ অতিথির হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আফছার উদ্দিন মিয়াজী এবং চাঁদপুর পৌরসভার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুস শুক্কুর মোস্তান।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মাওলানা নুরুল ইসলাম, এম. আই. মনিন খান, শফিকুর রহমান সেলিম, চাঁদপুর জেলা কাজী কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান, আল-আমিন একাডেমির শিক্ষক মাওলানা মো. নাছির উদ্দিন, হাইমচর মহিলা মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক এবং চাঁদপুর তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মেল হোসাইন আনসারী, তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর বন্দুকশী, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির আহমেদ খান, চাঁদপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান জমাদার এবং আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ওহিদুর রহমান খান উৎপল, সাংবাদিক মাসুদ আলম, খাজা তানভীর আহমেদ, মোস্তানবাড়ী পরিবারের সদস্য ফিরোজ মোস্তান, কর্নার ডেভেলপারের কর্মকর্তা জুয়েল, আল-মানার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নেছার আহমেদ এবং হিলশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক ও আব্দুল মমিন পাটোয়ারী।

এছাড়াও বক্তব্য পেশ করেন কোব্বাদ আলী দাখিল মাদ্রাসার সহসুপার মাওলানা ওছমান গনি, মাওলানা মো. কবির হোসেন এবং ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল করিম।

সভায় হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার অভিভাবকবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে মাহফিলের সার্বিক কামিয়াবি ও হেদায়েতের অসিলা কামনা করে দোয়ার মধ্য দিয়ে পরামর্শ সভা সমাপ্ত হয়।