শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

পছন্দের শাড়ি কিনে না দেয়ায় প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে পিটিয়ে স্বামীকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ এম
পছন্দের শাড়ি কিনে না দেয়ায় প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে পিটিয়ে স্বামীকে হত্যা

পছন্দের শাড়ি কিনে না দেয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীকে প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে পিটিয়ে ও পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে জেলার বদলাপুর পূর্ব এলাকায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী সুনীতাদেবী হরে রাম সিংহকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম হরে রাম কিষাণজী সিংহ (৩৫)। অভিযুক্ত সুনীতাদেবী ভারতের বিহারের রোহতাস জেলার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানায়, গত ১৯ জুলাই বদলাপুর পূর্বের নিজ বাসভবনে শাড়ি না আনা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সুনীতাদেবী প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে স্বামীর ওপর হামলা চালান এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনার পর নিজের অপরাধ ঢাকতে ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন এবং পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন অভিযুক্ত নারী।

Model Hospital

প্রাথমিকভাবে পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মামলার গতিপথ বদলে যাবে।

বদলাপুর পূর্ব থানা পুলিশের জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক নিতিন পাতিল জানান, মেডিকেল প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে মৃত্যুর কারণটি স্বাভাবিক ছিল না। জোরপূর্বক শ্বাসরোধ করার ফলেই (ভায়োলেন্ট অ্যাসফিক্সিয়া) ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের সদস্য ও বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে স্ত্রীর ওপর পুলিশের সন্দেহ গাঢ় হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার স্থানীয় একটি আদালত অভিযুক্ত সুনীতাদেবীকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।