বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় ভারতে নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ এম
‘ইনশাআল্লাহ’ বলায় ভারতে নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

বুশরা বানু। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য উৎসাহ দেওয়ায় বদলি করা হয়েছে নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানুকে। পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাকে এই শাস্তির মুখে পড়তে হয়।

ঘটনাটি শুরু হয় যখন বুশরা বানু এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটিতে তিনি জানান, পিএইচডি শেষ করে এবং সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরার পর আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির একটি কোচিং একাডেমি তাকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে দারুণভাবে সাহায্য করেছিল। বই ও মক টেস্টের মতো নানা সুবিধার কথা বলে তিনি অন্য শিক্ষার্থীদেরও সেই একাডেমি থেকে সাহায্য নিতে বলেন।

কিন্তু ভিডিওর শুরুতেই তিনি ইসলামিক অভিবাদন ব্যবহার করায় আপত্তি তোলে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামের একটি ডানপন্থি সংগঠন। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ করে জানায়, ভিডিওতে জাতীয় স্লোগানের বদলে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সরকারি পদে থাকা কারও জনসমক্ষে নিরপেক্ষ থাকা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এই বদলির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। একদল মানুষ ওই কর্মকর্তার সম্ভাষণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, অন্য একটি বড় পক্ষ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন।

Model Hospital

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যান্য ধর্মের কর্মকর্তারা নানা স্লোগান বা আচার ব্যবহার করলেও কোনো সমস্যা হয় না, তবে একজন মুসলিম কর্মকর্তার বলা শান্তির বার্তা নিয়ে কেন এত আপত্তি উঠবে? বৈচিত্র্যময় এই দেশটিতে এই ধরনের সহাবস্থানই দেশের আসল শক্তি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।