শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আমরা সবাই আইন মেনে চললে সড়ক নিরাপদ হবে; চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২২, ৪:৩৪ পিএম
আমরা সবাই আইন মেনে চললে সড়ক নিরাপদ হবে; চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুরে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে যানবাহনের শ্রমিক, চালক ও মালিকদের নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও বিশিষ্ট লেখক হোসেন আব্দুল মান্নান।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন জাতীয় ব্যক্তিত্ব। শত শত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি একটি মাত্র ইস্যুতে রাস্তায় নেমেছেন। তাও আবার নিজের খেয়ে, নিজের পড়ে। মানুষকে সচেতন করতে নিরলস কাজ করেছেন। আজ ইলিয়াস কাঞ্চনের কারণে সড়কে আইন মেনে চলার প্রবনতা বেড়েছে। এখন পথচারী, যাত্রী ও চালক গনও অনেকট  সচেতন। ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী হারিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন শুরু করেছেন। সে আন্দোলন এখন জনমানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এ আন্দোলনের দাবি নিয়ে মাঠে কাজ করতে গিয়ে তিনিও সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছেন। তারপরও থেমে যাননি।  তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের জরিপ অনুযায়ী সারা দেশে বছরে ২৫ হাজার লোক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। চিনে এবং ভারতে আমাদের থেকেও বেশি মারা যায়। আইন মানা ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে না। প্রতি বছর মটর সাইকেলে ১৭ থেকে ২০ বছর বয়সী ছেলেরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছে। সড়ক ও গাড়ী চালার নিয়ম না মানার কারণে তারুণ্যের তরুণ সমাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনারা ইলিয়াস কাঞ্চন কে সহযোগিতা করুন। ২৯ বছরেও আমরা হতাশ হই নাই। প্রয়োজনে আরো ২৯ বছর পার করবো। তবুও সড়ক নিরাপদ করতে কাজ করেই যাব।

Model Hospital

প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমার নামে যানবাহন শ্রমিক, চালক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে ভূল শুনানো হচ্ছে। কোন ড্রাইবারের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় কেহ মারা গেলে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হোক আমি নাকি এমন কথা বলেছি। আর সড়ক দুর্ঘটনার আইনে মৃত্যুদণ্ড রাখার বিধান হয়নি। তাহলে আমি কেন এমন কথা বলব চালকের মৃত্যুদণ্ড চাই। আমি বলেছি কেও যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালায় তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। যেমন একজন ব্যাক্তি  অবৈধ অস্ত্র রাখার কারণে পুলিশ আটক করে। তাহলে কেন  লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালকে পুলিশ আটক করবেনা। আমি বলেছি এটি। কিন্তু মানুষের কাছে ভূল উপস্থাপন করা হয়েছে আমার নামে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে গাড়ির লাইসেন্স পেতে সহজ। কিন্তু বিদেশে গাড়ির লাইসেন্স  পাওয়া অনেক কঠিন। আজ বছরে আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ২৫ হাজার মানুষ। আর আমেরিকায় মারা যায় ২০০০ মানুষ। আমি কারণ হিসেবে খুঁজতে গিয়ে দেখলাম আমাদের দেশে আইন মানার প্রবণতা নেই।  আল্লাহ দুনিয়াতে মানুষ পাঠিয়েছেন আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। কিন্তু আমরা মানুষ হিসেবে আমাদের বিবেককে কাজে লাগায়নি।  এ সমাবেশে যানবাহনের সাথে সম্পৃক্ত শ্রমিক, চালক, মালিক ও যাত্রী সাধারণ এখানে আছেন। আমাদের সবারই তো নিজ নিজ দায়িত্বে বিভিন্ন কাজ করি। তাহলে সড়কে চলতে গিয়ে কেন সড়কের আইন মানবো না। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমরা আইন মানি না। আইন হলো নিয়ম সড়কের তো আইন আছে। কিন্তু আইন কি জিনিস সেটাই আমরা জানিনা। আসুন আমরা আইন মেনে সড়কে চলি। আমরা সবাই আইন মেনে চললে সড়ক নিরাপদ হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে সবাইকে আহবান জানান। তিনি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার), নিসচার উপদেষ্টা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সৈয়দা বদরুননাহার চৌধুরী, নিসচার কেন্দ্রীয় মহাসচিব লিটন এরশাদ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, বিশিষ্ট লেখক মোঃ মাহবুবুর রহমান সেলিম, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শোহেবুর রহমান, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জেলা কমিটির সভাপতি ফেরদৌস মোর্শেদ জুয়েল প্রমুখ।

নিসচার চাঁদপুর জেলা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক এম এ লতিফের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ রাসেলের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন নির্বাহী সদস্য মোঃ রোকনুজ্জামান রোকন।

অন্যন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিসচার কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ মফিজুর  রহমান খান বাবু, চাঁদপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা সোহেল রুশদি, মোঃ আতাউর রহমান পাটওয়ারী, চাঁদপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ বাবুল মিজি, আওয়ামী মটর চালক শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জিয়া, চাঁদপুর জেলা ট্রাক ও ট্রাংক লরি, কভার্ড শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম মন্টু, চাঁদপুর জেলা রেন্ট-এ- কার ড্রাইবার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহিন মোল্লা, জেলা ইজিবাইক মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ নাছির উদ্দিন, জেলা ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হানিফ গাজী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মহিবুর রহমান মহিব্বুলাহ।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা, উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ, যানবাহনের শ্রমিক, চালক ও মালিক সহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital