রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিনে লতিফ চৌধুরী এন্ড সন্সের অফিস থেকে ২৪ লাখ টাকার মালামাল চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২, ২:০০ পিএম
মতলব দক্ষিনে লতিফ চৌধুরী এন্ড সন্সের অফিস থেকে ২৪ লাখ টাকার মালামাল চুরি

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিন উপজেলার টি এন টি মোড় কলাদী মেসার্স আব্দুল লতিফ চৌধুরী এন্ড সন্স এর অফিস থেকে গোডাউনের তালা ভেঙ্গে প্রায় ২৪ লাখ,৩ হাজার ৪শত ২৮ টাকার টাকার সিগারেট চুরি হয়েছে।

২১ নভেম্বর সোমবার মধ্যরাতে এই চুরির গঠনা সংগঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।উক্ত ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার থেকে জানা যায় ২৪,০৩৪২৮ লাখ টাকার সিগারেট চুরির ঘটনায় মেসার্স আব্দুল লতিফ চৌধুরী এন্ড সন্সের দায়িত্ব থাকা সেলস সুপারভাইজার মেহেদী হাসান ইমনসহ বিক্রয় প্রতিনিধির ৩ জনকে আটক করা হয়।

মালামাল চুরি হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার বাদী মের্সাস আব্দুল লতিফ চৌধুরী এন্ড সন্স ( ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো লিঃ ) এর ম্যানাজার মামুনুর রশিদ বলেন সেলস সুপারভাইজার মেহেদী হাসান ইমন মতলব দক্ষিন উপজেলার হানিফ ভবনে মেসার্স আব্দুল লতিফ চৌধুরী এন্ড সন্সের মালিকানাধীন ব্রিটিশ আমেরিকার টোব্যাকো মতলব দক্ষিন শাখা অফিসে সেলস সুপারভাইজার ও রক্ষণাবেক্ষণর দায়িত্ব পালন করে আসছিলো।

ঘটনার আগের দিন ২০ নভেম্বর চাঁদপুর মেইন অফিস থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিভিন্ন ব্রান্ডের সিগারেট শাখা অফিসে পাঠাই।তখন ঐ মালামাল শাখা অফিসের দায়িত্বে থাকা সেলস সুপারভাইজার মেহেদী হাসান ইমন রিসিভ করে গোডাউনে রাখেন।নিয়মিত সার্ভিস থেকে অবশিষ্ট মালামাল মেহেদী হাসান ইমনের দায়িত্ব গোডাউনে থাকার কথা।এবং সে রাতে অফিসে থাকার কথা।কিন্তু সে ঐদিন সে অফিসে রাত্রী যাপন করে নি বলে পরে আমাকে জানায়।ঘটনার দিন সোমবার সকালে ৭.১৫ মিনিটে মেহেদী হাসান ইমন আমাকে ফোন করে বলেন রাতে আমাদের অফিস থেকে সব সিগারেট চুরি হয়ে গেছে।এই কথা শুনে সাথে সাথে আমি ঘটনাস্থলে আসি।পরে পুলিশ এসে পরিদর্শন ও তদন্ত সাপেক্ষে আমাদের মামলা গ্রহন করে।

Model Hospital

এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় জানতে চাইলে মতলব দক্ষিন থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন প্রাথমিক ভাবে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ১ নং নাম্বার আসামী মেহেদী হাসান ইমন ২৪ লাখ টাকার সিগারেট চুরি হওয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।কে বা কারা সংঘবদ্ধ হয়ে এই চুরির ঘটনাটি করেছে তা অতি দ্রুত বের হয়ে আসবে।

এই ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখ্য করে করে অজ্ঞাত আরোও ৫/৬ আসামী করে মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামীরা হলেন মতলব শাখা অফিসের সেলস সুপারভাইজার মেহেদী হাসান ইমন, ইমনের ছোট ভাই রিমন, বিক্রয় প্রতিনিধি লিটন,জলিল ও সুমনসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে চাঁদপুরে হোটেল-রেস্তোরাঁর শেফ ও মালিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে চাঁদপুরে হোটেল-রেস্তোরাঁর শেফ ও মালিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে চাঁদপুরে হোটেল-রেস্তোরাঁর শেফ ও মালিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন ও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা।

‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ প্রতিপালন ও হোটেল-রেস্তোরাঁর খাদ্যের নিরাপত্তা’ শীর্ষক হোটেল-রেস্তোরাঁর প্রধান শেফ (বাবুর্চি) ও মালিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) চাঁদপুর শহরের ফয়সাল শপিং মার্কেটের ৩য় তলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি চাঁদপুর ও কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
তিনি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণের জন্য আগত সকল হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও প্রধান শেফদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আশা করি এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনারা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। খাদ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আপনারা প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগিয়ে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার পরিবেশনে আরও সচেতন হবেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সকল হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও প্রধান শেফদেরও ধন্যবাদ জানাই।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা।
তিনি বলেন, এত সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্য ক্যাবকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা যারা এখানে বসেছি, তারা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব—আশরাফুল মাখলুকাত। মানুষের জন্যই আইন সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীর চেয়ে মানুষকে আলাদা করেছে তার বিবেক। তাই খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রত্যেককে নিজের বিবেককে জাগ্রত রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ট্যানারির লবণ মানুষের খাবারের জন্য নয়। খাদ্যে অনুপযুক্ত কোনো উপাদান ব্যবহার করা যাবে না। আমরা ধর্মপ্রাণ মানুষ; নিজেদের পাশাপাশি অন্যের ভালো থাকার জন্যও প্রার্থনা করি। তাই মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও আমাদের সবার।
চাঁদপুরের হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক দেশে খাবারের দোকান নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকলেও আমাদের দেশে যত্রতত্র খাবারের দোকান দেখা যায়। তাই খাবারের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও মান নিশ্চিত করতে মালিক ও শেফদের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি।
তিনি বলেন, একজন কর্মী দীর্ঘ সময় কাজ করার পর পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। তাই খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় কর্মীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক খাবারের দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুমের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ানোর দিকে নজর না দিয়ে খাবারের গুণগত মান ও নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং নিয়ম-নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। যারা নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারবেন না, তারা গ্রেডিং তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।
তিনি চাঁদপুরের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা বিবেকবান। তাই ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নিরাপদ খাদ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় তিনি হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক ও শেফদের উদ্দেশে বলেন, ‘স্বাদের পরিমাণ কমান, কোয়ালিটি বাড়ান।’ অর্থাৎ খাবারে অতিরিক্ত স্বাদ বা আকর্ষণের চেয়ে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার পরিবেশনকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন,  জেলা খাদ্য নিরাপদ কর্মকর্তা ফয়েজ জালাল উদ্দিন।
বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি নুরুল আলম লালুর সভাপতিত্ব কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান, চাঁদপুর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান রুপম, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুরে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন
চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, আজকে রেস্তোরা মালিক সমিতি যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রসংশনীয়। আমরা সবাই নিরাপদ খাদ্য চাই। নিরাপদ খাদ্য পাওয়া আমাদের নাগরিক অধিকার৷ আপনারা খাদ্যে ভেজাল করবেন না, তাহলে জরিমানাও করা হবে না। ভোক্তা অধিকার এ বিষয়ে কাজ করছে। নিরাপদ খাদ্যেে বিষয় আমাদের সোচ্চার হতে হবে৷ হোটেল রেস্টুরেন্ট পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
কর্মশালা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাজী মাসুদ আখন ও চাঁদপুর  ক্যাবের কর্মকতা সাংবাদিক বিপ্লব সরকার ।
এ সময় চাঁদপুর প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফসহ চাঁদপুরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক, প্রধান শেফ (বাবুর্চি), সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।