বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে তথ্য জালিয়াতি করে সিএইচসিপি পদে চাকুরী নেয়ার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ১:২২ পিএম
মতলব উত্তরে তথ্য জালিয়াতি করে সিএইচসিপি পদে চাকুরী নেয়ার অভিযোগ

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের জন্য নির্মিত হয়েছে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। ওই ক্লিনিক পরিচালনার জন্য একজন কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়োগের জন্য গত ০৫/০৪/২২ইং তারিখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দাদের আবেদন আহ্বান করা গেল। কিন্তু তথ্য জালিয়াতি ও গোপন করে অন্য ইউনিয়নের এক বাসিন্দা ওই পদে আবেদন করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এই জাল জালিয়াতি ও তথ্য গোপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে উক্ত নিয়োগ বাতিল পূর্বক মেধা তালিকায় অগ্রগামী প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন চাকুরি প্রার্থী এখলাছপুর ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রাসেল।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে গত ১১ নভেম্বর ২০২২ তারিখের লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্যদের ১৩ নভেম্বর, ২০২২ইং তারিখে মৌখিক পরীক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায় যে, এখলাছপুর ইউনিয়নের কোটায় লামিয়া আক্তার জেরিন (রোল নম্বর- ১২০০৩৩১৭৫), পিতা- জামাল উদ্দিন, মাতা- রোকেয়া বেগম, গ্রাম- মুদাফর, পোঃ এখলাছপুর, ইউনিয়নঃ এখলাছপুর, উপজেলাঃ মতলব উত্তর, জেলাঃ চাঁদপুর নামীয় ব্যক্তি চুড়ান্তভাবে কৃতকার্য হয়। অত্র ইউনিয়নে ‘মুদাফর’ নামে কোন গ্রাম নেই। তিনি ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা হয়ে তার তথ্য গোপন করে এখলাছপুর ইউনিয়নের কোটায় চাকুরীর জন্য আবেদন করে নির্বাচিত হন যা বেআইনি ও অবৈধ। তথ্য জালিয়াতি ও গোপন করায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

এদিকে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, লামিয়া আক্তার জেরিন ঢাকার মিরপুর, সেক্টর-২ এ থাকেন। গত চার বছর আগে তার বিবাহ হয় মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের তপাদারপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে প্রবাসী মো. রুবেল হোসেনের সাথে। তার জাতীয় পরিচয়পত্রেও এই ঠিকানা পাওয়া গেছে। অথচ চাকুরীর আবেদনে গ্রামের নাম উল্লেখ করেন মুদাফর। এ ব্যাপারে এখলাছপুর ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক একটি প্রত্যয়ন পাওয়া গেছে মুদাফর নামে এখলাছপুর ইউনিয়নে কোন গ্রাম নেই। খবর নিয়ে জানা গেছে মুদাফর গ্রামটি মোহনপুর ইউনিয়নের আওতাভুক্ত।

Model Hospital

এদিকে লামিয়া আক্তার জেরিনের চাকুরীর আবেদন সংযুক্ত করা নাগরিক সনদটিও জাল। নাগরিক সনদ নং ২০২১১৩১৭৯২১০০৪১৬৭, নাম্বারের সনদে নাম, অন্যান্য তথ্য এবং সাবেক ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে জমা দিয়েছেন। অথচ এই সনদ নাম্বারটি অনলাইনে সার্চ করা হলে তথ্য পাওয়া গেছে ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তির। গত ২০২১ সালের শুরুর দিকে মোঃ ইব্রাহিম, পিতা আঃ মান্নান প্রধান, গ্রাম এখলাছপুর, এই নামে অনলাইনে ইস্যু করে ইব্রাহিমকে এই সনদটি প্রদান করেন ইউনিয়ন পরিষদ। চাকুরী আবেদনকারী লামিয়া আক্তার জেরিনের দেবর ইসলামীয়া মার্কেট নতুন বাজারের কম্পিউটার দোকান ব্যবসায়ী মোঃ পাভেল উক্ত নাগরিক সনদ জাল করেছেন।

তার আবেদনে গ্রামের নাম দিয়েছেন মুদাফর ও ইউনিয়ন দিয়েছেন এখলাছপুর, যা সম্পূর্ণ জাল জালিয়াতি। তার প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা তপাদার পাড়া ও ইউনিয়ন ফরাজীকান্দি। কেন তথ্য জালিয়াতি করে চাকরির আবেদন করলেন? এই প্রশ্নের জবাবে লামিয়া আক্তার জেরিন বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে তার শ্বশুর মকবুল হোসেন বলেন, কাগজপত্র নকল করায় আমার ছেলের সাথে অনেক রাগারাগি করেছি। এদিকে পাভেল বলেন, সরকার যদি মনে চাকুরী দিবে তাহলে হবে, আর চাকুরী না হলে নাই। কেন তথ্য জালিয়াতি করলেন এবং অন্যের নাগরিক সনদ জাল করেছেন? এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেনি তিনি।

এখলাছপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য নাজমা বেগম বলেন, লামিয়া আক্তার জেরিন আমাদের ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডের বাসিন্দা নন। আমার জানামতে তিনি জাল কাগজপত্রে এখলাছপুর ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করে চাকুরীকে আবেদন করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, এই নিয়োগে প্রার্থী লামিয়া আক্তার জেরিনের তথ্য চেয়েছেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। আমরা তথ্য প্রেরণ করেছি। সত্য মিথ্যা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তথ্য জালিয়াতি বা মিথ্যা প্রমানিত হলে নিয়োগ বাতিল হয়ে যাবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital