ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রোজগারের একমাত্র সম্বল ছিল শাহরাস্তির শহিদুলের দোকানটি

বঙ্গবাজারের শার্টের দোকান ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম মজুমদার। ৩২ বছর ধরে তিলে তিলে গড়েছিলেন শার্টের পাইকারী দোকান। এর আয় দিয়ে চলত পরিবার। বলা যায় রোজগারের একমাত্র সম্বল ছিল দোকানটি। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরের আগুনে এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল সবকিছু। শহিদুলের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায়।

Model Hospital

শহিদুল জানান, সকাল সাড়ে ৬টায় খবর পাই বঙ্গবাজার মার্কেটে আগুন লেগেছে। শনিরআখড়া থেকে দ্রত চলে আসি। এসে দেখি পুরো মার্কেট জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিস পানি দিচ্ছে। কোনো কিছুতেই নিভছিল না আগুন। আমার তিনটি দোকানসহ পুরো মার্কেট জ্বলে ছাই হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, চেয়ে দেখে আহাজারি করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তবে আশায় ছিলাম হয়ত বেঁচে যাবে এনেক্সকো টাওয়ার। সেখানে আমার একটি দোকান ও দুটি গোডাউন রয়েছে। কিন্তু সেই এনেক্সকো টাওয়ারও এখন জ্বলছে।

সকাল পৌনে ১০টায় সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ভেতরে স্ত্রী-পরিবারসহ বসে আহাজারি করতে দেখা যায় এই ব্যবসায়ীকে।

চাঁদপুরের শাহরাস্তি থেকে শহিদুল ইসলাম মজুমদারের ফুলবাড়িয়া বঙ্গবাজার মার্কেটে ব্যবসায় হাতেখড়ি ১৯৯১ সালে। গত ৩২ বছরে পুঁজি বাড়িয়ে গড়েছেন চারটি দোকান। চার দোকানের মালামাল রাখার জন্য এনেক্সকো টাওয়ারে নিয়েছেন দুটি গোডাউন।

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ভেতরে তিনি বলেন, ফুলবাড়িয়ার বঙ্গবাজারে বঙ্গ, আদর্শ, মহানগরী ও গুলিস্তান—এই চারটি মার্কেট পাশাপাশি। সবগুলোই পুড়ে গেছে। এনেক্সকো টাওয়ারটা বাকি ছিল সেটাও জ্বলছে।

শহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতরের কেনাকাটাই সারা বছরের রোজগারের বড় উপলক্ষ্য। ঈদ উপলক্ষ্যে চারটা দোকানসহ ও গোডাউনে প্রায় আট কোটি টাকার মালামাল তুলেছিলাম।

কপালে হাত দিয়ে এ ব্যবসায়ী বলেন, ৩২ বছরের সাজানো গোছানো দোকান, রোজগার সব এক আগুনেই শেষ। জানি না সামনে কি দিন অপেক্ষা করছে। আল্লাহ সহায় হোক।

পাশে স্ত্রীর কান্না আর আজাহারিতে ভারি হয়ে উঠেছে চার পাশ। তিনি বলেন, এত দিনের সাধনা, ঈদের কেনাকাটা, ব্যবসা এভাবে বিনষ্ট হবে, এভাবে পথে বসে যেতে হবে ভাবি নাই। আল্লাহ তুমি এটা কি করলা।

এদিকে, বঙ্গবাজারে লাগা আগুন এখনো বাড়ছে। ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিট। ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মার্কেটের চার দিক থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে বাতাসের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। বঙ্গবাজার মার্কেটে লাগা আগুন পাশের এনেক্সকো টাওয়ারেও ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনের কারণে ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ছেয়ে গেছে বঙ্গবাজারের আকাশ। ভয়াবহ এ আগুনের কারণে প্রচণ্ড তাপ অনুভূত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের তীব্রতা বাড়ছে।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। আর ৬টা ১২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া হতাহতের কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ

রোজগারের একমাত্র সম্বল ছিল শাহরাস্তির শহিদুলের দোকানটি

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০২৩

বঙ্গবাজারের শার্টের দোকান ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম মজুমদার। ৩২ বছর ধরে তিলে তিলে গড়েছিলেন শার্টের পাইকারী দোকান। এর আয় দিয়ে চলত পরিবার। বলা যায় রোজগারের একমাত্র সম্বল ছিল দোকানটি। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরের আগুনে এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল সবকিছু। শহিদুলের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায়।

Model Hospital

শহিদুল জানান, সকাল সাড়ে ৬টায় খবর পাই বঙ্গবাজার মার্কেটে আগুন লেগেছে। শনিরআখড়া থেকে দ্রত চলে আসি। এসে দেখি পুরো মার্কেট জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিস পানি দিচ্ছে। কোনো কিছুতেই নিভছিল না আগুন। আমার তিনটি দোকানসহ পুরো মার্কেট জ্বলে ছাই হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, চেয়ে দেখে আহাজারি করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তবে আশায় ছিলাম হয়ত বেঁচে যাবে এনেক্সকো টাওয়ার। সেখানে আমার একটি দোকান ও দুটি গোডাউন রয়েছে। কিন্তু সেই এনেক্সকো টাওয়ারও এখন জ্বলছে।

সকাল পৌনে ১০টায় সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ভেতরে স্ত্রী-পরিবারসহ বসে আহাজারি করতে দেখা যায় এই ব্যবসায়ীকে।

চাঁদপুরের শাহরাস্তি থেকে শহিদুল ইসলাম মজুমদারের ফুলবাড়িয়া বঙ্গবাজার মার্কেটে ব্যবসায় হাতেখড়ি ১৯৯১ সালে। গত ৩২ বছরে পুঁজি বাড়িয়ে গড়েছেন চারটি দোকান। চার দোকানের মালামাল রাখার জন্য এনেক্সকো টাওয়ারে নিয়েছেন দুটি গোডাউন।

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ভেতরে তিনি বলেন, ফুলবাড়িয়ার বঙ্গবাজারে বঙ্গ, আদর্শ, মহানগরী ও গুলিস্তান—এই চারটি মার্কেট পাশাপাশি। সবগুলোই পুড়ে গেছে। এনেক্সকো টাওয়ারটা বাকি ছিল সেটাও জ্বলছে।

শহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদুল ফিতরের কেনাকাটাই সারা বছরের রোজগারের বড় উপলক্ষ্য। ঈদ উপলক্ষ্যে চারটা দোকানসহ ও গোডাউনে প্রায় আট কোটি টাকার মালামাল তুলেছিলাম।

কপালে হাত দিয়ে এ ব্যবসায়ী বলেন, ৩২ বছরের সাজানো গোছানো দোকান, রোজগার সব এক আগুনেই শেষ। জানি না সামনে কি দিন অপেক্ষা করছে। আল্লাহ সহায় হোক।

পাশে স্ত্রীর কান্না আর আজাহারিতে ভারি হয়ে উঠেছে চার পাশ। তিনি বলেন, এত দিনের সাধনা, ঈদের কেনাকাটা, ব্যবসা এভাবে বিনষ্ট হবে, এভাবে পথে বসে যেতে হবে ভাবি নাই। আল্লাহ তুমি এটা কি করলা।

এদিকে, বঙ্গবাজারে লাগা আগুন এখনো বাড়ছে। ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিট। ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মার্কেটের চার দিক থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে বাতাসের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। বঙ্গবাজার মার্কেটে লাগা আগুন পাশের এনেক্সকো টাওয়ারেও ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনের কারণে ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ছেয়ে গেছে বঙ্গবাজারের আকাশ। ভয়াবহ এ আগুনের কারণে প্রচণ্ড তাপ অনুভূত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের তীব্রতা বাড়ছে।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। আর ৬টা ১২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া হতাহতের কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।