ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সাথে প্রতারণা করে জমি রেজিস্ট্রি

মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের জহিরাবাদ গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের সাথে প্রতারনা করে সাড়ে ৬৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারনার স্বীকার হয়ে আকস্মিক মৃত্যু হয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের।

Model Hospital

এ বিষয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের মেয়ে শারমিন আক্তার ও ভাগিনা মিজানুর রহমান বাদি হয়ে মতলব উত্তর থানার পৃথক দু’টি অভিযোগ করেন প্রতারক শহিদুল্লাহ’সহ আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, জহিরাবাদ গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. শহীদুল্লাহ ব্যাংকের ভুয়া জমা স্লীপ দিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের পৈত্রিক জমি মতলব উত্তর মধ্যে সাবেক ১৩৪ হাল ১৫১ নং মৌজা জহিরাবাদ মধ্যে সাবেক ৮১, ২৯, ২৪৮, ২২০, ১১৩, ২৭৩ নং চুড়ান্ত বিএস ৩৩নং খতিয়ানে রায়তি স্বত্বঃ বিএস ৩৪ নং দাগে নাল ৪২শতাংশ, বিএস ৩৪নং দাগে ভিটা মো. ১৯ শতাংশের মধ্যে সাড়ে ৯ শতাংশ ও বিএস ৭৪নং দাগে বাড়ী মো. ২১ শতাংশের মধ্যে ১৪ শতাংশ মোট সাড়ে ৬৫ শতাংশ জমি ৫ জানুয়ারী ২০২৩ সালে ১৪৬নং দলিল মূলে রেজিস্ট্রি করে নেন। যার মূল্য লেখা হয় ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের মেয়ে শারমিন আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমার বাবাকে বিভিন্ন ভাবে প্ররোচীত করে মোহনপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে তার নামীয় ৬৫.৫০ শতক সম্পত্তি মূল্য ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ পূর্বক রেজিষ্ট্রি করিয়া নেয় এবং আমাদের জায়গা সম্পত্তি সংক্রন্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল পত্র জব্দ করে নেয়। পরবর্তীতে শহীদুল্লাহ আমার বাবার নামে নতুন বাজার ইসলামী ব্যাংক শাখায় তাহার নামে একাউন্ট খুলে ওই একাউন্টে তার জমি বিক্রির সকল টাকা সঞ্চয় রেখেছে বলে ভুুয়া ব্যাংক রিসিট হাতে ধরিয়ে শহীদুল্লাহ নিরুদ্দেশ হয়ে যান। আমার বাবা বাড়ীতে এসে বিষয়টি আমাদের ফুফাতো ভাইকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে গত ১০ জানুয়ারী ২০২৩ইং তারিখে ওই রিসিট নিয়ে ব্যাংক শাখায় যান এবং বিবাদীদের প্রতারনার বিষয় বুঝতে পেরে আমার পিতা সাথে সাথেই সেখানে স্ট্রোক মারা যান।

মো. শহীদুল্লার এ ধরনের প্রতারনার বিষয়ে আমিসহ আমার সকল আত্মীয় স্বজন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে অবহিত করাই। গত ১৩ জানুয়ারী ২০২৩ইং তারিখ জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম গাজীর কার্যালয়ে তাহার নেতৃত্বে শালিসে বসে। উক্ত শালিসে উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের শহীদুল্লাহর কর্মকান্ডের বিষয়ে স্বীকার করে, আমার পিতার নামীয় সকল সম্পত্তি ও দলিল পত্র ফেরত দিবে বলে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে আমাদেরকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দেয়।

জহিরাবাদ এলাকার প্রবীন আবু বকর সরকার, আলী আজগর সরদার, খোকন মেম্বার, আবদুর রশিদ, মোস্তফা সরকার জানান, গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদ অন্ধ ছিলেন। তার সাথে প্রতারনা করে ভুয়া ব্যাংকে টাকা জমার স্লীপ দিয়ে দলির করে নেন। এটা এলাকায় প্রমাণিত। মো. শহীদুল্লাহ ঘটনার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত মো. শহীদুল্লাহ বলেন, আমি টাকা দিয়ে সঠিক ভাবেই জমি রেজিস্ট্রে করেছি। কোন ধরণের প্রতারণা করিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সুমন

মতলব উত্তরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সাথে প্রতারণা করে জমি রেজিস্ট্রি

আপডেট সময় : ০৯:০০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ মে ২০২৩

মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের জহিরাবাদ গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের সাথে প্রতারনা করে সাড়ে ৬৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারনার স্বীকার হয়ে আকস্মিক মৃত্যু হয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের।

Model Hospital

এ বিষয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের মেয়ে শারমিন আক্তার ও ভাগিনা মিজানুর রহমান বাদি হয়ে মতলব উত্তর থানার পৃথক দু’টি অভিযোগ করেন প্রতারক শহিদুল্লাহ’সহ আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, জহিরাবাদ গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মো. শহীদুল্লাহ ব্যাংকের ভুয়া জমা স্লীপ দিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের পৈত্রিক জমি মতলব উত্তর মধ্যে সাবেক ১৩৪ হাল ১৫১ নং মৌজা জহিরাবাদ মধ্যে সাবেক ৮১, ২৯, ২৪৮, ২২০, ১১৩, ২৭৩ নং চুড়ান্ত বিএস ৩৩নং খতিয়ানে রায়তি স্বত্বঃ বিএস ৩৪ নং দাগে নাল ৪২শতাংশ, বিএস ৩৪নং দাগে ভিটা মো. ১৯ শতাংশের মধ্যে সাড়ে ৯ শতাংশ ও বিএস ৭৪নং দাগে বাড়ী মো. ২১ শতাংশের মধ্যে ১৪ শতাংশ মোট সাড়ে ৬৫ শতাংশ জমি ৫ জানুয়ারী ২০২৩ সালে ১৪৬নং দলিল মূলে রেজিস্ট্রি করে নেন। যার মূল্য লেখা হয় ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদের মেয়ে শারমিন আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমার বাবাকে বিভিন্ন ভাবে প্ররোচীত করে মোহনপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে তার নামীয় ৬৫.৫০ শতক সম্পত্তি মূল্য ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ পূর্বক রেজিষ্ট্রি করিয়া নেয় এবং আমাদের জায়গা সম্পত্তি সংক্রন্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল পত্র জব্দ করে নেয়। পরবর্তীতে শহীদুল্লাহ আমার বাবার নামে নতুন বাজার ইসলামী ব্যাংক শাখায় তাহার নামে একাউন্ট খুলে ওই একাউন্টে তার জমি বিক্রির সকল টাকা সঞ্চয় রেখেছে বলে ভুুয়া ব্যাংক রিসিট হাতে ধরিয়ে শহীদুল্লাহ নিরুদ্দেশ হয়ে যান। আমার বাবা বাড়ীতে এসে বিষয়টি আমাদের ফুফাতো ভাইকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে গত ১০ জানুয়ারী ২০২৩ইং তারিখে ওই রিসিট নিয়ে ব্যাংক শাখায় যান এবং বিবাদীদের প্রতারনার বিষয় বুঝতে পেরে আমার পিতা সাথে সাথেই সেখানে স্ট্রোক মারা যান।

মো. শহীদুল্লার এ ধরনের প্রতারনার বিষয়ে আমিসহ আমার সকল আত্মীয় স্বজন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে অবহিত করাই। গত ১৩ জানুয়ারী ২০২৩ইং তারিখ জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম গাজীর কার্যালয়ে তাহার নেতৃত্বে শালিসে বসে। উক্ত শালিসে উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের শহীদুল্লাহর কর্মকান্ডের বিষয়ে স্বীকার করে, আমার পিতার নামীয় সকল সম্পত্তি ও দলিল পত্র ফেরত দিবে বলে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে আমাদেরকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধমকি দেয়।

জহিরাবাদ এলাকার প্রবীন আবু বকর সরকার, আলী আজগর সরদার, খোকন মেম্বার, আবদুর রশিদ, মোস্তফা সরকার জানান, গিয়াস উদ্দিন আহাম্মদ অন্ধ ছিলেন। তার সাথে প্রতারনা করে ভুয়া ব্যাংকে টাকা জমার স্লীপ দিয়ে দলির করে নেন। এটা এলাকায় প্রমাণিত। মো. শহীদুল্লাহ ঘটনার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত মো. শহীদুল্লাহ বলেন, আমি টাকা দিয়ে সঠিক ভাবেই জমি রেজিস্ট্রে করেছি। কোন ধরণের প্রতারণা করিনি।