শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্নীতি রোধ করে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে : মেজর রফিকুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:৩৭ পিএম
দুর্নীতি রোধ করে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে : মেজর রফিকুল ইসলাম
মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বেগম  রোকেয়া  ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ দিবস উপলক্ষে রেলি শেষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
বহস্পতিবার সকালে (৯ ডিসেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে  পরিষদ মিলনায়তনে পৃথক দু’টি অনুষ্ঠানের আয়োজনে   এটি পালিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তারের সভাপ্রদানে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্রোগ্রামে  টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর ( অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বেগম রোকেয়ার বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে তার  আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে যুগ উপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধশালি করতে হবে। যা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নারী উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে শপথ নিয়ে দেশের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছতে হবে। কারণ দুর্নীতি একটি ব্যাধি, এটিকে বাঁচিয়ে রেখে সাফল্য ও সমৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। আসুন আমরা দুর্নীতিকে গুডবাই জানিয়ে বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি। পরিশেষে তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্যর যবনিকা টানেন।
পরে উপজেলা নির্বাহি অফিসার শিরীন আক্তার সভা প্রধানের বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, গতানুগতিক দিবস পালনে সীমাবদ্ধ না থেকে কি করে আগামী প্রজন্মের জন্য দুর্নীতিমুক্ত একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা যায়। সেজন্য সবাইকে আন্তরিক প্রচেষ্টা নিয়ে যার যেমন অবস্থান থেকে সৎ ও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন। তাহলেই নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি এবং দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাছরিন জাহান চৌধুরী শেফালী, শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুল মান্নান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নাহার কাজল, শাহরাস্তির দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ লুৎফুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ আবদুল আউয়াল খন্দকার, দুর্নীতি দমন কমিশন সহ-সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন, দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক মাওলানা আবুল কাশেম, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির কার্যকরী সদস্য মোঃ মাসুদ রানা , উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কার্যালয় সিএ মোঃ শাহাবুদ্দিন, মহিলা বিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আজ্জম প্রমুখ এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী,  নারী উদ্যোক্তা, সংবাদকর্মী, সুধীজন,জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অনুষ্ঠান শেষে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখায় “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় ৫ জন নারীকে জয়িতা খেতাবে ভূষিত করে, পুরষ্কার ও সনদ প্রদান করা হয়।
তারা হলেন অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী উপজেলার সুচিপাড়া ইউপির সুচিপাড়া গ্রামের নাছিমা আক্তার, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী চিতোষী পশ্চিম ইউপির সিমাইল হড়িয়া গ্রামের পারভিন আক্তার, সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপির খিলা মুন্সিবাড়ি জাহানারা বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী ওই ক্যাটাগরিতে পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের সালেহা বেগম, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী সে ক্ষেত্রে সুচিপাড়া ইউপির সুচিপাড়া গ্রামের জান্নাতুল ফেরদাউস ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’