ঢাকা ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘গত কোরবানে এট্টু গরুর গোশত খাইছি, আর চোখি দেহিনি’

‘গত কোরবান ঈদি এট্‌টু গরুর গোশত খাইছি, আর গোশত চোখি দেহিনি। আবার কোরবান ঈদ আইছে। এট্টু গরুর গোশতের জন্যি পরান বেরুই যাচ্ছে। জ্যান্ত গরু দেখলি মনে হয় কামড়ায়ে কামড়ায়ে কাচা গোশত খাই। গত রোজার ঈদি একটা ডিম কিনে আইনে খাইছি।’ অশ্রুসিক্ত চোখে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধা আয়েশা খাতুন।

Model Hospital

প্রায় ৫২ বছর আগে স্বামী মকছেদ গাজীকে হারান আয়েশা খাতুন। এরপর থেকে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার কদমবাড়িয়া গ্রামে স্বামীর ভিটায় এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকছেন তিনি। আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। পরে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। বয়সের ভারে এখন নুয়ে পড়ায় আর আগের মতো হাঁটতে পারেন না।

আয়েশা খাতুন বলেন, ‘ছেলে কাজ করে নিজে খায়। আমার খোঁজ নেয় না। একবার মা কয়েও ডাকে না। মেয়েটারে বিয়ে দিছি পাশের গ্রামে। সেনে যেয়ে দু-তিন দিন করে থাকি। মেয়ে যট্টুক পারে যত্ন করে। পোলট্রির (ব্রয়লার) গোশত খাত পারিনে। একবার খাইয়ে বমি করে দিলাম।’

‘চেয়ারম্যানরে কইছি একটা চালের কার্ড করে দিতি। ভোটার কার্ড দিয়ে আইছি। মাঝেমধ্যি চেয়ারম্যানের কাছে যাই। কার্ড দেবে কি দেবে না কিছু কয় না। চাল আসতেছে। অন্য মানসির বস্তা বস্তা দেচ্ছে, দেখতিছি। আমারে দেয় না।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন বৃদ্ধা আয়েশা।

আক্ষেপ করে বৃদ্ধা বলেন, ‘ছেলে পেটে থাকতি ওর বাপ মরিল। ভিটেমাটিটুকু ছাড়া কিছু নাই। কত্ত কষ্ট করে ছেলেমেয়ে বড় করিছি। সেই ছেলে এখন খবর নেয় না। মেয়ে বিয়ে দিছি গরিব ঘরে। ও যা পারে করে। লোকজন জিজ্ঞেস করে আমার ছেলে আছে কি না। বলি নেই, মরে গেছে। যে ছেলে খাতিলতি দেয় না, তার কথা কী বলব?’

আয়েশ খাতুন বলেন, ‘কদিন আগে ডায়রিয়া হয়ে পাঁচ-ছয় দিন হাসপাতালে ছিলাম। কেউ খোঁজ নিনি। এখন ভালোমন্দ খাতি রুহুটা ছটপট করে। গতকাল দুপুরে ও রাতে কিছু খাইনি। ঘরে চাল নেই। মাঝেমধ্যে আল্লাহরে কই, আমারে নিয়ে যাও। আল্লাহ শোনে না।’

বৃদ্ধার প্রতিবেশী স্থানীয় কদমবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এনামুল হক কিরণ বলেন, ‘বৃদ্ধা আয়েশা খুব অসহায়। একমাত্র ছেলে মাকে দেখে না। মাঝে আমাকে বলেছিল চালের কার্ডের কথা। আমি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাইছি। পরে কী করেছে আর জানায়নি।’

উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহ বলেন, ‘নতুন করে চালের কার্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। দেখি বৃদ্ধার জন্য কিছু করা যায়নি।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘গত কোরবানে এট্টু গরুর গোশত খাইছি, আর চোখি দেহিনি’

আপডেট সময় : ০৩:৫০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩

‘গত কোরবান ঈদি এট্‌টু গরুর গোশত খাইছি, আর গোশত চোখি দেহিনি। আবার কোরবান ঈদ আইছে। এট্টু গরুর গোশতের জন্যি পরান বেরুই যাচ্ছে। জ্যান্ত গরু দেখলি মনে হয় কামড়ায়ে কামড়ায়ে কাচা গোশত খাই। গত রোজার ঈদি একটা ডিম কিনে আইনে খাইছি।’ অশ্রুসিক্ত চোখে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধা আয়েশা খাতুন।

Model Hospital

প্রায় ৫২ বছর আগে স্বামী মকছেদ গাজীকে হারান আয়েশা খাতুন। এরপর থেকে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার কদমবাড়িয়া গ্রামে স্বামীর ভিটায় এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকছেন তিনি। আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। পরে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। বয়সের ভারে এখন নুয়ে পড়ায় আর আগের মতো হাঁটতে পারেন না।

আয়েশা খাতুন বলেন, ‘ছেলে কাজ করে নিজে খায়। আমার খোঁজ নেয় না। একবার মা কয়েও ডাকে না। মেয়েটারে বিয়ে দিছি পাশের গ্রামে। সেনে যেয়ে দু-তিন দিন করে থাকি। মেয়ে যট্টুক পারে যত্ন করে। পোলট্রির (ব্রয়লার) গোশত খাত পারিনে। একবার খাইয়ে বমি করে দিলাম।’

‘চেয়ারম্যানরে কইছি একটা চালের কার্ড করে দিতি। ভোটার কার্ড দিয়ে আইছি। মাঝেমধ্যি চেয়ারম্যানের কাছে যাই। কার্ড দেবে কি দেবে না কিছু কয় না। চাল আসতেছে। অন্য মানসির বস্তা বস্তা দেচ্ছে, দেখতিছি। আমারে দেয় না।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন বৃদ্ধা আয়েশা।

আক্ষেপ করে বৃদ্ধা বলেন, ‘ছেলে পেটে থাকতি ওর বাপ মরিল। ভিটেমাটিটুকু ছাড়া কিছু নাই। কত্ত কষ্ট করে ছেলেমেয়ে বড় করিছি। সেই ছেলে এখন খবর নেয় না। মেয়ে বিয়ে দিছি গরিব ঘরে। ও যা পারে করে। লোকজন জিজ্ঞেস করে আমার ছেলে আছে কি না। বলি নেই, মরে গেছে। যে ছেলে খাতিলতি দেয় না, তার কথা কী বলব?’

আয়েশ খাতুন বলেন, ‘কদিন আগে ডায়রিয়া হয়ে পাঁচ-ছয় দিন হাসপাতালে ছিলাম। কেউ খোঁজ নিনি। এখন ভালোমন্দ খাতি রুহুটা ছটপট করে। গতকাল দুপুরে ও রাতে কিছু খাইনি। ঘরে চাল নেই। মাঝেমধ্যে আল্লাহরে কই, আমারে নিয়ে যাও। আল্লাহ শোনে না।’

বৃদ্ধার প্রতিবেশী স্থানীয় কদমবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এনামুল হক কিরণ বলেন, ‘বৃদ্ধা আয়েশা খুব অসহায়। একমাত্র ছেলে মাকে দেখে না। মাঝে আমাকে বলেছিল চালের কার্ডের কথা। আমি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাইছি। পরে কী করেছে আর জানায়নি।’

উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্নাহ বলেন, ‘নতুন করে চালের কার্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। দেখি বৃদ্ধার জন্য কিছু করা যায়নি।’