ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
স্ত্রী পরিচয়ে সারাদিন ঘুরাফেরা

মতলব উত্তরে রাতের আঁধারে গাড়িতেই হত্যা; ফেলে দেয় লাশ

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে নোয়াখালীর গৃহবধূ পলি আক্তারকে হত্যার পাঁচ দিনের মধ্যে ক্লুলেস মামলার আসামী হান্নান মুন্সী (৪৪) কে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রোববার (৯ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর জেলা পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ।
পিবিআই জানায়, পলির শরীরে থাকা চিরকুটের সূত্রধরে হত্যাকান্ড জড়িত হান্নান মুন্সীকে তার নিজবাড়ী থেকে শনিবার (৮ জুলাই) রাতে গ্রেফতার করা হয়। রোববার সকালে তার দেয়া তথ্যমতে মোবাইল ফোন ও নিহতের জামা কাপড় উদ্ধার করা হয়। তারা দুজন পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। তবে হান্নান মুন্সী তার চাচাতো ভাইদের সাথে সম্পত্তি বিরোধ থাকায় পলি আক্তারকে হত্যা করে তাদের আসামী বানাতে এই পরিকল্পনা করে। যা চিরকুটে লেখার সাথে প্রমাণিত হয়।
জানা যায়, গত ৪ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ৮টায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলাধীন বাগানবাড়ী ইউপিস্থ বাগানবাড়ী টু কালিরবাজার পাকা সড়কের নয়াকান্দি এলাকার সালাউদ্দিনের বাড়ীর উত্তর পার্শ্বে ঢালুতে ২৮ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা মহিলার মৃতদেহ পাওয়া যায়। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে চাঁদপুর পিবিআই এর তদন্ত টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশের পরিচয় সনাক্ত করা হয়। নিহত ব্যক্তি নোয়াখালী জেলার সুধারাম উপজেলার নোয়ান্নাই এলাকার জাগিদার বাড়ির তাজুল ইসলামের মেয়ে পলি আক্তার (২৮)।
ঘটনার পর তার বড়ভাই মোঃ ফরহাদ হোসেন সোহাগ (৩২) বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম (বার), পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পিবিআই চাঁদপুরের দিকনির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শামীম আহাম্মদ এর নেতৃত্বে চাঁদপুর পিবিআই এর তদন্ত টিম তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার সংঘটনকারী মূলহোতা কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শ্রীকান্তদি মুন্সি বাড়ির আদম আলীর ছেলে হান্নান মুন্সি (৪৪) কে চট্টগ্রাম ইপিজেড থানাধীন ফ্রিপোর্ট ২নং মাইলের মাথা সংলগ্ন আসামীর ভাড়াবাসা হতে গ্রেফতার করে। আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায় যে, ভিকটিম পলি আক্তারকে গত ১ জুলাই উক্ত আসামী চট্টগ্রাম হতে কুমিল্লা দাউদকান্দি থানাধীন মলয় শ্রীচাউল মোহাম্মদপুর গ্রামে তাহার পরিচিত জনৈক রুবেল এর বাড়ীতে তাহার স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে এসে আসামী হান্নান ও তাহার কথিত স্ত্রী পলি আক্তারসহ একদিন একরাত অবস্থান করার পর পলি আক্তারকে রুবেল এর বাড়ীতে রেখে গত ২ জুলাই সকাল ১১টায় দাউদকান্দি তাহার নিজ বাড়ীতে চলে যায়। এবং এদিন দিবাগত রাত অনুমান ২টায় ভিকটিম পলি আক্তারের গর্ভপাতের বিষয়টি রুবেলের স্ত্রীকে জানান।
রুবেলের স্ত্রী রুবেলকে বিষয়টি মোবাইলে অবগত করে। রুবেল তার ওস্তাদ হান্নানকে বিষয়টি জানায়। হান্নান তাৎক্ষণিকভাবে ওইদিন রাতেই রুবেলের বাড়িতে এসে তার স্ত্রীকে নিয়ে চলে যায়। পরদিন ৩ জুলাই সারাদিন দাউদকান্দি ও তার আশপাশ এলাকায় গাড়ি চালিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটান। ওইদিনই দিবাগত রাত অনুমান ৩টায় ভিকটিমকে নিয়ে আসামী মতলব উত্তর উপজেলাধীন সিকদার সাকিনে একটি নির্জন স্থানে ভিকটিমের পরিধেয় কাপড়ের ব্যাগে রক্ষিত জামা-কাপড় দিয়ে গাড়িতে বসা অবস্থায় ভিকটিমের নাকে মুখে চাপ দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে ভিকটিমকে হত্যা করে।
পরবর্তীতে ভিকটিমের মৃতদেহ নিজ গাড়িতে করে ঘটনাস্থলের রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। আসামীর স্বীকারোক্তি মোতাবেক দেখানো ও তার সনাক্ত মতে ঘটনাস্থলের পাশে প্রজেক্টের পুকুর হইতে ভিকটিমের ব্যাগে রক্ষিত কাপড় চোপড় উদ্ধারপূর্বক আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। মামলা তদন্ত অব্যাহত আছে। আজ আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শামীম আহামেদ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিয়াদ মঈনুদ্দীন, মো: আমির হোসেন, এএসআই শাহজালাল সহ আরো অনেকেই।
ট্যাগস :

স্ত্রী পরিচয়ে সারাদিন ঘুরাফেরা

মতলব উত্তরে রাতের আঁধারে গাড়িতেই হত্যা; ফেলে দেয় লাশ

আপডেট সময় : ১১:১৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুলাই ২০২৩
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে নোয়াখালীর গৃহবধূ পলি আক্তারকে হত্যার পাঁচ দিনের মধ্যে ক্লুলেস মামলার আসামী হান্নান মুন্সী (৪৪) কে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রোববার (৯ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর জেলা পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ।
পিবিআই জানায়, পলির শরীরে থাকা চিরকুটের সূত্রধরে হত্যাকান্ড জড়িত হান্নান মুন্সীকে তার নিজবাড়ী থেকে শনিবার (৮ জুলাই) রাতে গ্রেফতার করা হয়। রোববার সকালে তার দেয়া তথ্যমতে মোবাইল ফোন ও নিহতের জামা কাপড় উদ্ধার করা হয়। তারা দুজন পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। তবে হান্নান মুন্সী তার চাচাতো ভাইদের সাথে সম্পত্তি বিরোধ থাকায় পলি আক্তারকে হত্যা করে তাদের আসামী বানাতে এই পরিকল্পনা করে। যা চিরকুটে লেখার সাথে প্রমাণিত হয়।
জানা যায়, গত ৪ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ৮টায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলাধীন বাগানবাড়ী ইউপিস্থ বাগানবাড়ী টু কালিরবাজার পাকা সড়কের নয়াকান্দি এলাকার সালাউদ্দিনের বাড়ীর উত্তর পার্শ্বে ঢালুতে ২৮ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা মহিলার মৃতদেহ পাওয়া যায়। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে চাঁদপুর পিবিআই এর তদন্ত টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশের পরিচয় সনাক্ত করা হয়। নিহত ব্যক্তি নোয়াখালী জেলার সুধারাম উপজেলার নোয়ান্নাই এলাকার জাগিদার বাড়ির তাজুল ইসলামের মেয়ে পলি আক্তার (২৮)।
ঘটনার পর তার বড়ভাই মোঃ ফরহাদ হোসেন সোহাগ (৩২) বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম (বার), পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পিবিআই চাঁদপুরের দিকনির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শামীম আহাম্মদ এর নেতৃত্বে চাঁদপুর পিবিআই এর তদন্ত টিম তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার সংঘটনকারী মূলহোতা কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শ্রীকান্তদি মুন্সি বাড়ির আদম আলীর ছেলে হান্নান মুন্সি (৪৪) কে চট্টগ্রাম ইপিজেড থানাধীন ফ্রিপোর্ট ২নং মাইলের মাথা সংলগ্ন আসামীর ভাড়াবাসা হতে গ্রেফতার করে। আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায় যে, ভিকটিম পলি আক্তারকে গত ১ জুলাই উক্ত আসামী চট্টগ্রাম হতে কুমিল্লা দাউদকান্দি থানাধীন মলয় শ্রীচাউল মোহাম্মদপুর গ্রামে তাহার পরিচিত জনৈক রুবেল এর বাড়ীতে তাহার স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে এসে আসামী হান্নান ও তাহার কথিত স্ত্রী পলি আক্তারসহ একদিন একরাত অবস্থান করার পর পলি আক্তারকে রুবেল এর বাড়ীতে রেখে গত ২ জুলাই সকাল ১১টায় দাউদকান্দি তাহার নিজ বাড়ীতে চলে যায়। এবং এদিন দিবাগত রাত অনুমান ২টায় ভিকটিম পলি আক্তারের গর্ভপাতের বিষয়টি রুবেলের স্ত্রীকে জানান।
রুবেলের স্ত্রী রুবেলকে বিষয়টি মোবাইলে অবগত করে। রুবেল তার ওস্তাদ হান্নানকে বিষয়টি জানায়। হান্নান তাৎক্ষণিকভাবে ওইদিন রাতেই রুবেলের বাড়িতে এসে তার স্ত্রীকে নিয়ে চলে যায়। পরদিন ৩ জুলাই সারাদিন দাউদকান্দি ও তার আশপাশ এলাকায় গাড়ি চালিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটান। ওইদিনই দিবাগত রাত অনুমান ৩টায় ভিকটিমকে নিয়ে আসামী মতলব উত্তর উপজেলাধীন সিকদার সাকিনে একটি নির্জন স্থানে ভিকটিমের পরিধেয় কাপড়ের ব্যাগে রক্ষিত জামা-কাপড় দিয়ে গাড়িতে বসা অবস্থায় ভিকটিমের নাকে মুখে চাপ দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে ভিকটিমকে হত্যা করে।
পরবর্তীতে ভিকটিমের মৃতদেহ নিজ গাড়িতে করে ঘটনাস্থলের রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। আসামীর স্বীকারোক্তি মোতাবেক দেখানো ও তার সনাক্ত মতে ঘটনাস্থলের পাশে প্রজেক্টের পুকুর হইতে ভিকটিমের ব্যাগে রক্ষিত কাপড় চোপড় উদ্ধারপূর্বক আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। মামলা তদন্ত অব্যাহত আছে। আজ আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শামীম আহামেদ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রিয়াদ মঈনুদ্দীন, মো: আমির হোসেন, এএসআই শাহজালাল সহ আরো অনেকেই।