শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে মহামায়া বাজার ব্যবসায়ী ও ইজারাদারের বৈঠক

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ জুলাই, ২০২৩, ৪:৩৪ এম
বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে মহামায়া বাজার ব্যবসায়ী ও ইজারাদারের বৈঠক
চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া বাজারে খাজনা আদায়সহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ এর নির্দেশে ক্রেতা, বিক্রেতা ও ইজারাদারের মতবিরোধ নিরসনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহষ্পতিবার (২০ জুলাই) শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কার্যালয়ে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ক্রেতাদের সমন্বয়ে বাজারের বিভিন্ন পক্ষের পাল্টাপাল্টি চলমান অভিযোগ ও সমস্যা নিরসনে উক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা সভায় বিশেষ করে মাছ ব্যবসায়ী-ইজারাদার ও ক্রেতাদের অভিযোগ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এছাড়া বাজারের গলি ও ফুটপাতসহ অন্যান্য সমস্যার কথাও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরেন। বাজারের আশেপাশের ক্রেতারা অভিযোগ করে জানান, দীর্ঘ বহু বছর যাবত মহামায়া বাজারে মাছের আড়ৎ কিংবা মাছ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারনে এলাকার মাছ চাষীরা বাজারে মাছ আনে না। এছাড়া কয়েক প্রকার মাছ শুধু নির্ধারিত ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে আসছে। ফলে আমরা সাধারণ ক্রেতারা অতিরিক্ত বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। অনেক সময় বাজারে কোন মাছই পাওয়া যায় না।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা এই বাজারের আড়ৎ থেকে অতিরিক্ত দামে বিভিন্ন প্রকার মাছ কিনতে হয়। এছাড়াও অতিরিক্ত খাজনা দিতে হয়। খরচের হার বেশি হয়ে যাওয়ায় ক্রেতারা বেশি দামে মাছ কিনতে চায় না। ফলে প্রতিনিয়তই আমাদের লোকসান গুনতে হয়। তাই আমরা সব সময় বিক্রি করতে পারি না। ফলে ক্রেতারা বাজারে এসে মাছ পায় না। আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ ক্রয়ের সুযোগ পেলে ক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে সকল প্রকার মাছ কেনার সুযোগ পাবে।
নিয়ম বহির্ভূত ও অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগে ইজারাদার আরিফুল ইসলাম তুষার জানান, আড়ৎদারের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এছাড়া সরকারী নিয়মে আগের মতোই খাজনা আদায় করা হয়। তবে তিনি সকল মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উক্ত বাজার সহ সকল ক্রয়কৃত মাছের উপর ৩% হারে খাজনা দাবী করলে ব্যবসায়ীরা তা মানতে রাজী না হয়ে তারা বলেন, আমরা যে মাছগুলো অন্য বাজার থেকে আনবো তার জন্য স্থান বা চডি অনুসারে নির্ধারিত পরিমান খাজনা দিবো। আর মহামায়া বাজার থেকে যে মাছ ক্রয় করবো তার জন্য ইজারাদারের চাহিদা অনুসারে ৩% হারে খাজনা নিবো। যদিও ইজারাদার সকল মাছের উপর ৩% হারে খাজনা দাবী করে আসছেন।
এদিকে ক্রেতাদের দাবীর ভিত্তিতে ব্যবসায়ীরা এখন থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ ক্রয় করে এনে মহামায়া বাজারে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। এক্ষেত্রে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা মোতাবেক মাছ বাজারে খাজনা আদায়ের বিবরন সম্মিলিত তালিকা লাগানো হবে। জানা যায়, বাজারের ইজারাদার মোঃ আরিফুল ইসলাম তুষার মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খাজনা উত্তোলনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগটি নিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ প্রদান করেন। তারই আলোকে ইউনিয়ন পরিষদে উক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বাজারের ক্রেতা- বিক্রেতারা ইজারাদার ও আড়ৎদারকে দায়ী সহ বিভিন্ন বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সমস্যা নিরসনে মতামত ব্যক্ত করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে ও ইউপি সচিব মোহাম্মদ কুদ্দুস আখন্দ রোকনের উপস্থাপনায় উক্ত আলোচনা সভায় অংশগ্রহন করেন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হাজী, সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বেপারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সামছুজ্জামান পাটওয়ারী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হানিফ মিজি, ব্যবসায়ী ফজলুল হক বেপারী, আলমগীর হোসেন বেপারী, সোহরাব হোসেন কুসুম, ইউপি সদস্য কবির হোসেন রনি, হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা সাবেক যুবলীগ নেতা আরিফুর রহমান সুজন, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি এমরান হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মোঃ ফারুক হোসেন বেপারী, সাবেক যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন রানা, ফরহাদ হোসেন হাজীসহ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

দেশে না থেকেও মানুষের পাশে—কচুয়ার প্রবাসী সোহেল সওদাগরের মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
দেশে না থেকেও মানুষের পাশে—কচুয়ার প্রবাসী সোহেল সওদাগরের মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

সামাজিক ও মানবিক কাজ করে প্রতিটি মানুষের মনে স্থান নিয়েছে প্রবাসী সোহেল সওদাগর।

সোহেল সদাগর কচুয়া উপজেলার কড়‌ইয়া ইউনিয়নের লুন্তি গ্ৰামের কৃতি সন্তান। তার বাবা সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম সিরাজুল ইসলাম । ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট সোহেল সওদাগর।

এলাকাসহ কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে অসহায় গরিব দুঃখী মানুষের মুখে সোহেল সদাগর মানবতার ফেরিওয়ালা নামে  শোনা যাচ্ছে।কর্মজীবনে তিনি সৌদি আরবে ফারি জমায়, বর্তমানে তার সৌদি আরবে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার জীবনের  উপার্জনের টাকার মধ্যে প্রায় ৫০% টাকা গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে দেখা যায়।

প্রতিবছরের প্রায় দুই থেকে তিনবার এলাকায় এসে  বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে কোন ব্যক্তির জটিল রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা খরচ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসংস্থার ব্যবস্থা করেন।

Model Hospital

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকেন। তার এই কর্মকান্ডে কচুয়া উপজেলা বাসির কাছে একজন মানবতার ফেরিওয়ালা হিসাবে মানুষের মনের জায়গায় করে নিয়েছেন।

কচুয়ার একাধিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানান,সমাজসেবামূলক কাজে জড়িয়ে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন প্রবাসী সোহেল সওদাগর।
সামাজিক দিক থেকে সকলের প্রিয় মানুষ তিনি। মানুষের হিয়ার মাঝে অধিকার পৌছে দেয়াই তার বাসনা, মুখে থাকে তার মন ভাল করে দেয়া হাসি। সদা প্রাণোবন্ত হাস্যোজ্জ্বল মানুষ সোহেল সওদাগর। হাসি ছাড়া কথা বলেন না কারো সাথে। ঘুম থেকে উঠে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত পরোপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন এই মানবিক মানুষ। স্বপ্ন তার অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করার। তিনি সবসময় অসহায় অবহেলিত মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। শুধু তাই নয় যে কোনো সামাজিক সমস্যায় তাকে পাশে পাওয়া যায়।
কচুয়ার সাধারণ জনগণ জানান, মানবিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব সোহেল সওদাগর নিঃস্বার্থ ভাবে গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিজ অর্থায়নে মসজিদ, মাদ্রাসা,ধর্মিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
সোহেল সওদাগর বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলামের সাথে চলতে হলে ইসলামে দেখানো প্রতিটি বিষয় মেনে চলতে হয়। মানবসেবার জন্য মসজিদ-মাদ্রাসা, মানবিক জনকল্যাণ মুলক কাজ করাও বিশেষ সাওয়াবের কাজ। একটি সুন্দর কাজ সম্পাদন করতে দরকার ভালো মানসিকতার। মানুষের সেবা করেই আমি আত্মতৃপ্তি পাই। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে আমার আত্মতৃপ্তি। মানুষের উপকার করতে পারলে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। তাই নিজেকে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রেখেছি। এটাই আমার কর্মময় জীবন। এভাবেই সারাজীবন জনগণের সেবা করে পাশে থাকতে চাই।