ঢাকা ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
হাজীগঞ্জের বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়

স্কুলে যখন এসএসসির ফল ঘোষণা হচ্ছে, রাব্বি তখন অন্ধকার কবরে

  • মাসুদ হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুলাই ২০২৩
  • 2890
হাজীগঞ্জের বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল রাকিব হোসেন রাব্বি। ২৮ জুলাই শুক্রবার ফল প্রকাশের পর জানা যায় “এ” গ্রেড পেয়েছে সে। কিন্তু ভালো ফলের এই আনন্দ যেন নিতে পারছে না সহপাঠী, শিক্ষক বা পরিবারের কেউই। কারণ স্কুলে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফল ঘোষণা হচ্ছে, অন্যদিকে তখন অন্ধকার কবরে শুয়ে আছেন রাব্বি।
রাকিব হোসেন রাব্বির বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড পূর্ব দেবপুর গ্রামে। বাবা দ্বীন মোহাম্মদ ও মা ফাতেমা বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের মধ্যে রাব্বি ছিল সবার বড়।
রাব্বির পরিবার বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছিল রাব্বি। গত ২০ জুলাই দিবাগত রাত দেড়টার সময় ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এবং ২১ জুলাই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে প্রিয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকার্ত বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের তার সহপাঠী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা। ফল প্রকাশের দিনে তাদের মনে নেই তেমন আনন্দ। কারন ফল প্রকাশের ৮ দিন আগেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সে। পরিবারের সর্বোচ্চ চেষ্টায়ও সে নিজের জ্ঞানের শেষ সফলতাটুকু দেখে যেতে পারল না।
রাব্বির বন্ধু ও সহপাঠীরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছে, ‘রাব্বি আমাদের প্রিয় বন্ধু ছিল। ও খুবই ভালো ছেলে। রেজাল্টের দিন সে এভাবে আমাদের মাঝে অনুপস্থিত থাকবে, এটা ভাবতে পারছি না। খুবই কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ পাক আমাদের বন্ধুকে ওপারে ভালো রাখুন।’ এদিকে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী রাকিব হোসেন রাব্বি ১২টি বিষয়ের মধ্যে ৮টিতেই এ প্লাস আর বাকীগুলোতে এ পেয়ে ৪.৭৮ (এ) গ্রেড অর্জন করেন।
বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, ‘রাকিব হোসেন রাব্বি অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ও শান্ত স্বভাবের ছিল। প্রতিবছর রেজাল্টের দিন আমরা স্কুলে অনেক আনন্দ উল্লাস করি। কিন্তু আজ তার পরিবর্তে আমরা শোকাহত। আমরা একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারালাম। খুব কষ্ট হচ্ছে, মনকে স্থির করতে পারছি না। ভাইয়ের মতো বিগত কয়টি বছর ধরে রাব্বিকে স্কুলে দেখভাল করেছি। আজ খুশির দিনে সে নেই। সে নিজের ফলাফল দেখে যেতে পারল না।’
রাকিব হোসেন রাব্বির কাকা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুব আলম তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার দুই ভাতিজা ও এক ভিতিজির মধ্যে রাব্বি ছিল সবার বড়। তার লেখাপড়ার প্রতি খুব মনোযোগ ছিল। সে আমাদেরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেল। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৭ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন পরিবারের এই বড় ছেলে। পরিবারের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে ভালো একটা চাকরি করাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নিল না।
রাব্বির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী। তিনি তার শোক বার্তায় বলেন, মা-বাবা, ভাই-বোন ও আত্মীয় স্বজনদের জন্য খুবই কষ্ট ও বেদনার মধ্যদিয়ে জীবন চলছে। সবাইকে শোক সইবার শক্তি দান করুক। আল্লাহ ওকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুক।
ট্যাগস :

মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ

হাজীগঞ্জের বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়

স্কুলে যখন এসএসসির ফল ঘোষণা হচ্ছে, রাব্বি তখন অন্ধকার কবরে

আপডেট সময় : ০৯:২৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুলাই ২০২৩
হাজীগঞ্জের বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল রাকিব হোসেন রাব্বি। ২৮ জুলাই শুক্রবার ফল প্রকাশের পর জানা যায় “এ” গ্রেড পেয়েছে সে। কিন্তু ভালো ফলের এই আনন্দ যেন নিতে পারছে না সহপাঠী, শিক্ষক বা পরিবারের কেউই। কারণ স্কুলে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষার ফল ঘোষণা হচ্ছে, অন্যদিকে তখন অন্ধকার কবরে শুয়ে আছেন রাব্বি।
রাকিব হোসেন রাব্বির বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড পূর্ব দেবপুর গ্রামে। বাবা দ্বীন মোহাম্মদ ও মা ফাতেমা বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের মধ্যে রাব্বি ছিল সবার বড়।
রাব্বির পরিবার বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছিল রাব্বি। গত ২০ জুলাই দিবাগত রাত দেড়টার সময় ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এবং ২১ জুলাই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে প্রিয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোকার্ত বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের তার সহপাঠী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা। ফল প্রকাশের দিনে তাদের মনে নেই তেমন আনন্দ। কারন ফল প্রকাশের ৮ দিন আগেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সে। পরিবারের সর্বোচ্চ চেষ্টায়ও সে নিজের জ্ঞানের শেষ সফলতাটুকু দেখে যেতে পারল না।
রাব্বির বন্ধু ও সহপাঠীরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছে, ‘রাব্বি আমাদের প্রিয় বন্ধু ছিল। ও খুবই ভালো ছেলে। রেজাল্টের দিন সে এভাবে আমাদের মাঝে অনুপস্থিত থাকবে, এটা ভাবতে পারছি না। খুবই কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ পাক আমাদের বন্ধুকে ওপারে ভালো রাখুন।’ এদিকে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী রাকিব হোসেন রাব্বি ১২টি বিষয়ের মধ্যে ৮টিতেই এ প্লাস আর বাকীগুলোতে এ পেয়ে ৪.৭৮ (এ) গ্রেড অর্জন করেন।
বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, ‘রাকিব হোসেন রাব্বি অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ও শান্ত স্বভাবের ছিল। প্রতিবছর রেজাল্টের দিন আমরা স্কুলে অনেক আনন্দ উল্লাস করি। কিন্তু আজ তার পরিবর্তে আমরা শোকাহত। আমরা একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারালাম। খুব কষ্ট হচ্ছে, মনকে স্থির করতে পারছি না। ভাইয়ের মতো বিগত কয়টি বছর ধরে রাব্বিকে স্কুলে দেখভাল করেছি। আজ খুশির দিনে সে নেই। সে নিজের ফলাফল দেখে যেতে পারল না।’
রাকিব হোসেন রাব্বির কাকা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুব আলম তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার দুই ভাতিজা ও এক ভিতিজির মধ্যে রাব্বি ছিল সবার বড়। তার লেখাপড়ার প্রতি খুব মনোযোগ ছিল। সে আমাদেরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেল। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৭ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন পরিবারের এই বড় ছেলে। পরিবারের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে ভালো একটা চাকরি করাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নিল না।
রাব্বির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী। তিনি তার শোক বার্তায় বলেন, মা-বাবা, ভাই-বোন ও আত্মীয় স্বজনদের জন্য খুবই কষ্ট ও বেদনার মধ্যদিয়ে জীবন চলছে। সবাইকে শোক সইবার শক্তি দান করুক। আল্লাহ ওকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুক।