শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বাবাকে হত্যার দায়ে পুত্রের যাবজ্জীবন দণ্ড

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৩, ৭:১৪ পিএম
শাহরাস্তিতে বাবাকে হত্যার দায়ে পুত্রের যাবজ্জীবন দণ্ড

শাহরাস্তিতে চেরাগ আলী ৭৫ নামে এক পিতাকে  হত্যার দায়ে পুত্র  ইমরান হোসেন আকবরকে ৪০ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যার শিকার চেরাগ আলী উপজেলায় সেতিনারায়নপুর গ্রামের চেরাগ আলী বাড়ির মৃত আবদুর রহমানের পুত্র এবং দন্ডপ্রাপ্ত ঘাতক ইমরান তারই ঔরসজাত সন্তান ।

বুধবার  চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মহসিনুল হকের আদালত এ রায় দেন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইমরানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।

মামলার বিবরণে ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী ইমরান  তার পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে বখাটে  এবং উচ্ছৃংখল হিসেবে পরিচিত ছিল।সে তার স্ত্রী ও সন্তানকে কারনে অকারনে প্রায়ই মারধর করত। ২০১৭ সালে ওই নির্যাতন সইতে না পেরে তার  স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যায়।

Model Hospital

এদিকে ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ বাড়ীতে পারিবারিক বিষয়ে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে ইমরান ধারালো দা দিয়ে তার পিতা চেরাগ আলীর  মাথা, চোখ ও কানে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ওই কাণ্ডে মা ফুলমতি বেগম স্বামী চেরাগ আলীকে আপ্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে শত চেষ্টা চালালেও পুত্র ইমরান তাকেও বেদম প্রহার করে আহত করে।

পরে স্থানীয়রা ফুলমতি কে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন। ওই সংবাদ চারদিকে চাউর হলে তৎকালীন শাহরাস্তি থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট পুলিশ  কর্মকর্তা সঙ্গীও ফোর্স  চেরাগ আলীর মরদেহ  উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়। ওই সুযোগে ঘাতক ইমরান কেটে পড়ে। পরে তার ছোট ভাই  সোলায়মান বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় ভাই ইমরানকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছর ২১ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনিছুর রহমান আসামী ইমরানকে ধৃত করে আদালতে সোপর্দ শেষে ২ নভেম্বর তদন্ত শেষে তিনি আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

এ প্রসঙ্গে সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) রনজিত রায় চৌধুরী বলেন, এ মামলাটি  চলার সময়  আদালত ১০জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্য ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামীর উপস্থিতিতে আদালত  এ রায় দেন।

মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

দেশে না থেকেও মানুষের পাশে—কচুয়ার প্রবাসী সোহেল সওদাগরের মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
দেশে না থেকেও মানুষের পাশে—কচুয়ার প্রবাসী সোহেল সওদাগরের মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

সামাজিক ও মানবিক কাজ করে প্রতিটি মানুষের মনে স্থান নিয়েছে প্রবাসী সোহেল সওদাগর।

সোহেল সদাগর কচুয়া উপজেলার কড়‌ইয়া ইউনিয়নের লুন্তি গ্ৰামের কৃতি সন্তান। তার বাবা সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম সিরাজুল ইসলাম । ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট সোহেল সওদাগর।

এলাকাসহ কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে অসহায় গরিব দুঃখী মানুষের মুখে সোহেল সদাগর মানবতার ফেরিওয়ালা নামে  শোনা যাচ্ছে।কর্মজীবনে তিনি সৌদি আরবে ফারি জমায়, বর্তমানে তার সৌদি আরবে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার জীবনের  উপার্জনের টাকার মধ্যে প্রায় ৫০% টাকা গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে দেখা যায়।

প্রতিবছরের প্রায় দুই থেকে তিনবার এলাকায় এসে  বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে কোন ব্যক্তির জটিল রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা খরচ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসংস্থার ব্যবস্থা করেন।

Model Hospital

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকেন। তার এই কর্মকান্ডে কচুয়া উপজেলা বাসির কাছে একজন মানবতার ফেরিওয়ালা হিসাবে মানুষের মনের জায়গায় করে নিয়েছেন।

কচুয়ার একাধিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানান,সমাজসেবামূলক কাজে জড়িয়ে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন প্রবাসী সোহেল সওদাগর।
সামাজিক দিক থেকে সকলের প্রিয় মানুষ তিনি। মানুষের হিয়ার মাঝে অধিকার পৌছে দেয়াই তার বাসনা, মুখে থাকে তার মন ভাল করে দেয়া হাসি। সদা প্রাণোবন্ত হাস্যোজ্জ্বল মানুষ সোহেল সওদাগর। হাসি ছাড়া কথা বলেন না কারো সাথে। ঘুম থেকে উঠে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত পরোপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন এই মানবিক মানুষ। স্বপ্ন তার অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করার। তিনি সবসময় অসহায় অবহেলিত মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। শুধু তাই নয় যে কোনো সামাজিক সমস্যায় তাকে পাশে পাওয়া যায়।
কচুয়ার সাধারণ জনগণ জানান, মানবিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব সোহেল সওদাগর নিঃস্বার্থ ভাবে গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিজ অর্থায়নে মসজিদ, মাদ্রাসা,ধর্মিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
সোহেল সওদাগর বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলামের সাথে চলতে হলে ইসলামে দেখানো প্রতিটি বিষয় মেনে চলতে হয়। মানবসেবার জন্য মসজিদ-মাদ্রাসা, মানবিক জনকল্যাণ মুলক কাজ করাও বিশেষ সাওয়াবের কাজ। একটি সুন্দর কাজ সম্পাদন করতে দরকার ভালো মানসিকতার। মানুষের সেবা করেই আমি আত্মতৃপ্তি পাই। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে আমার আত্মতৃপ্তি। মানুষের উপকার করতে পারলে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। তাই নিজেকে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রেখেছি। এটাই আমার কর্মময় জীবন। এভাবেই সারাজীবন জনগণের সেবা করে পাশে থাকতে চাই।