ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুর দি ইউনাইটেড হাসপাতালে অবৈধ গর্ভপাতের চেষ্টা, পরে শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর দি ইউনাইটেড হাসপাতালে সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়া ছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে ঔষধ সেবন করে অবৈধ গর্ভপাতের চেষ্টা করার ঘটনা ঘটেছে। অবশেষে পুলিশি হস্তক্ষেপে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে প্রসবের পর শিশুটি মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার দুপুরে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। শিশুটি মারা গেলেও কিশোরী হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তবে শিশুটি মারা যাওয়ার পর কিশোরীর স্বজনরা মৃত শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে দাফন কাজ সম্পন্ন করেন।
অভিযোগ রয়েছে দি ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা আক্তার শেতু দালালের মাধ্যমে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে কিশোরীকে অবৈধভাবে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য সাইটোমিস্ক ঔষধ সেবন করিয়ে শিশুটিকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।
ঘটনাটি জানতে পেরে চাঁদপুর মডেল থানা এসআই রফিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দি ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে থলের বিড়ালের মতো সব ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।
অবশেষে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দি ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে কিশোরীকে চাঁদপুর সরকার জানান হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও প্রসব যন্ত্রণা সইতে না পেরে কিশোরী টয়লেটে প্রস্রাব করতে গেলে সেখানেই গর্ভপাত ঘটে। কিশোরী আত্মচিৎকারে অবশেষে গাইনি বিভাগের কর্তব্যরত নার্সরা টয়লেটের ভিতর থেকে কিশোরী ও নবজাতক শিশুকে বেডে নিয়ে আসে। দি ইউনাইটেড হাসপাতালে কিশোরীকে ওষুধ সেবন করার কারণেই সাত মাসের মধ্যেই কিশোরীর গর্ভপাত ঘটে। শিশুটি জন্মের পর হাসপাতালে তার এই করুন মৃত্যু হয়েছে।
সরকারী জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স জানান, প্রাইভেট হাসপাতালে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে অবৈধভাবে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করার কিশোরীর ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালে কিশোরীকে ভর্তি করানো হলেও তারা প্রকৃত ঘটনা গোপন রেখেছে। মূলত ওষুধ সেবনের কারণেই সাত মাসেই কিশোরীর বাচ্চা প্রসব হয়েছে। কিন্তু বাচ্চাটির জন্মের পরেই মারা গিয়েছে। পরে কিশোরীর বড় বোন মৃত বাচ্চাটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছে।
অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী জানান, মোবাইল ফোনে ফেসবুকের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার গৌরীপুরের ইমন নামে এক যুবকের সাথে পরিচয় হয়। বেশ কিছুদিন তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে ইমন চাঁদপুরে এসে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার সাথে অবৈধ মেলামেশা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এই খবর পরিবারের লোকজন জানতে পেরে দালালের মাধ্যমে ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেতুর সাথে ১৫ হাজার টাকা চুক্তি হয়। চুক্তি মত ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে সেতু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বাচ্চা ঔষধ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।

Model Hospital

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা আক্তার সেতু  একজন কসাই। এই হাসপাতলে এযাবৎকালে অনেক অবিবাহিত কিশোর ও যুবতীর অবৈধ গর্ভপাত মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা করেছে। সেতু দালাল চক্রের মাধ্যমে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীদের এই হাসপাতালে এনে ওষুধ সেবন করিয়ে বাচ্চা হত্যা করে অবৈধ গর্ভপাত ঘটায়।

এছাড়া সেতু বেশকিছু বাচ্চা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর পূর্বে এই হাসপাতালে কাগজপত্র জটিলতার কারণে বেশ কয়েকবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হানা দিয়ে জরিমানা আদায় করেছে। এই হাসপাতলে অবৈধভাবে বাচ্চা হত্যা করে গর্ভপাত করার ঘটনায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়ে পরিচালক সেতুর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানান সচেতন মহল।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

উদয়ন প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পূর্ণ

চাঁদপুর দি ইউনাইটেড হাসপাতালে অবৈধ গর্ভপাতের চেষ্টা, পরে শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় : ০২:১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১
নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর দি ইউনাইটেড হাসপাতালে সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়া ছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে ঔষধ সেবন করে অবৈধ গর্ভপাতের চেষ্টা করার ঘটনা ঘটেছে। অবশেষে পুলিশি হস্তক্ষেপে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে প্রসবের পর শিশুটি মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার দুপুরে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। শিশুটি মারা গেলেও কিশোরী হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তবে শিশুটি মারা যাওয়ার পর কিশোরীর স্বজনরা মৃত শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে দাফন কাজ সম্পন্ন করেন।
অভিযোগ রয়েছে দি ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা আক্তার শেতু দালালের মাধ্যমে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে কিশোরীকে অবৈধভাবে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য সাইটোমিস্ক ঔষধ সেবন করিয়ে শিশুটিকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।
ঘটনাটি জানতে পেরে চাঁদপুর মডেল থানা এসআই রফিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দি ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে থলের বিড়ালের মতো সব ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।
অবশেষে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দি ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে কিশোরীকে চাঁদপুর সরকার জানান হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও প্রসব যন্ত্রণা সইতে না পেরে কিশোরী টয়লেটে প্রস্রাব করতে গেলে সেখানেই গর্ভপাত ঘটে। কিশোরী আত্মচিৎকারে অবশেষে গাইনি বিভাগের কর্তব্যরত নার্সরা টয়লেটের ভিতর থেকে কিশোরী ও নবজাতক শিশুকে বেডে নিয়ে আসে। দি ইউনাইটেড হাসপাতালে কিশোরীকে ওষুধ সেবন করার কারণেই সাত মাসের মধ্যেই কিশোরীর গর্ভপাত ঘটে। শিশুটি জন্মের পর হাসপাতালে তার এই করুন মৃত্যু হয়েছে।
সরকারী জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স জানান, প্রাইভেট হাসপাতালে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে অবৈধভাবে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করার কিশোরীর ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে সরকারি হাসপাতালে কিশোরীকে ভর্তি করানো হলেও তারা প্রকৃত ঘটনা গোপন রেখেছে। মূলত ওষুধ সেবনের কারণেই সাত মাসেই কিশোরীর বাচ্চা প্রসব হয়েছে। কিন্তু বাচ্চাটির জন্মের পরেই মারা গিয়েছে। পরে কিশোরীর বড় বোন মৃত বাচ্চাটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছে।
অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী জানান, মোবাইল ফোনে ফেসবুকের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার গৌরীপুরের ইমন নামে এক যুবকের সাথে পরিচয় হয়। বেশ কিছুদিন তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে ইমন চাঁদপুরে এসে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার সাথে অবৈধ মেলামেশা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এই খবর পরিবারের লোকজন জানতে পেরে দালালের মাধ্যমে ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেতুর সাথে ১৫ হাজার টাকা চুক্তি হয়। চুক্তি মত ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করলে সেতু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বাচ্চা ঔষধ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।

Model Hospital

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা আক্তার সেতু  একজন কসাই। এই হাসপাতলে এযাবৎকালে অনেক অবিবাহিত কিশোর ও যুবতীর অবৈধ গর্ভপাত মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা করেছে। সেতু দালাল চক্রের মাধ্যমে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীদের এই হাসপাতালে এনে ওষুধ সেবন করিয়ে বাচ্চা হত্যা করে অবৈধ গর্ভপাত ঘটায়।

এছাড়া সেতু বেশকিছু বাচ্চা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর পূর্বে এই হাসপাতালে কাগজপত্র জটিলতার কারণে বেশ কয়েকবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হানা দিয়ে জরিমানা আদায় করেছে। এই হাসপাতলে অবৈধভাবে বাচ্চা হত্যা করে গর্ভপাত করার ঘটনায় হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়ে পরিচালক সেতুর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানান সচেতন মহল।