গরুর মাংস ৫৪০ টাকা কেজি, মাইকিং করেও হচ্ছে না বিক্রি
নিয়ন্ত্রণহীন দামের কারণে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের কাছে গরুর মাংস খাওয়া যেন বিলাসিতা। মাংসের দোকানগুলোও প্রায় ক্রেতাশূন্য। হাট-বাজারগুলোতে আগে প্রতিদিন ২-৪টি গরু জবাই করা হলেও এখন একটি গরু জবাই করেও বিক্রির জন্য অপেক্ষা করতে হয় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। এমন পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন লালমনিরহাটের মাংস ব্যবসায়ীরা।

জবাই করার আগে গরু পিকআপভ্যানে তুলে গ্রামে ঘুরিয়ে মাইকিং করছেন তারা। এতে আকর্ষিত হচ্ছেন ক্রেতারাও। কদিন আগেও যে মাংস বিক্রি হয়েছে কেজি ৭০০-৮০০ টাকায়, এখন তা ৫৪০-৫৬০ টাকায় কিনছেন ক্রেতারা। কম দামে গরুর মাংস কিনে খুশি সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা, সানিয়াজান, হাটখোলা, ঘুন্টিঘর, দইখাওয়া ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভুল্লারহাট, হাজরানীয়া ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা দোকানে মাইক লাগিয়ে বিক্রি করছেন গরুর মাংস। কম দামে মাংস কিনতে ক্রেতাদের ভিড় লেগে আছে। কালীগঞ্জ উপজেলার ভুল্যারহাট বাজারের কসাই ইসহাক আলী প্রথমে এ উদ্যোগ নেন। তিনি ৫৪০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করছেন। হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ভিতর বাজারের মাংস বিক্রেতা দুলাল হোসেন গত ১৫ দিন ধরে এ দামে মাংস বিক্রি করছেন। তবে পাঁচ কেজি বা তার বেশি নিলে ৫১০-৫২০ টাকা কেজি রাখছেন মাংস বিক্রেতারা।

বড়খাতা বাজারের মাংসবিক্রেতা দুলাল হোসেন বলেন, ‘আগে গরুর দাম বেশি ছিল তাই মাংসের দামও ছিল বেশি। এখন গরুর দাম কমে গেছে। তাই আমরা মাংসও কম দামে বিক্রি করছি। আমরা চাই সবাই যেন গরুর মাংস কিনে খেতে পারেন।’

গরুর মাংস কিনতে এসেছিলেন মো. অপু। তিনি বলেন, ‘আগে মাংসের দাম খুব বেশি ছিল তাই কিনতে পারেনি। এখন দাম কমছে তাই কয়েক কেজি কিনলাম।’
ভুল্যাহাটের মাংস ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম, ‘বাজার থেকে ভালোমানের গরু কিনে ৫৪০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করছি। আগে মাংসের দাম বেশি ছিল তাই বিক্রি কমে গেছে। এখন দাম কমায় বিক্রি বেড়েছে।’
হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা জামাল সোহেল বলেন, বড়খাতা বাজারের মাংস ব্যবসায়ীরা যাতে সুস্থ গরু জবাই করেন সে বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, হাট-বাজারগুলোতে মাংসের দাম কমে গেছে। ৬০০ টাকার ওপরে কেউ মাংস বিক্রি করতে পারবেন না।








