শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্ত্রীকে তালাক আ.লীগ নেতার

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৮:২৭ পিএম
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্ত্রীকে তালাক আ.লীগ নেতার

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন জাকির হোসেন জেকে (৩৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা।

গত মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) উপজেলার চরবানীপাকিয়া ইউনিয়নের রান্ধুণীগাছা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এলাকাবাসী ও জাকির হোসেনের স্ত্রীর দাবি, ভাইরাল হওয়ার জন্য তিনি এমনটা করেছেন।

জাকির হোসেন জেকের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ রান্ধুণীগাছা এলাকায়। তিনি ওই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক।

জানা গেছে, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে টিকটকে ভিডিও বানান। সেগুলো তার ফেসবুক আইডিতেও আপলোড করেন। গত ৫ ডিসেম্বর জাকির হোসেন তার বাড়ির পাশের মসজিদের মাইকে নিজের নাম পরিচয় বলে তার বউকে তালাক দেন। পরে তিনি মাইকে তালাক দেওয়ার ঘটনাটির টিকটক ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা হলে তিনি সামাজিক মাধ্যম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেন।

Model Hospital

স্থানীয়রা বলেন, জাকির হোসেন কোনো কাজ করেন না। এলাকায় ঘুরেঘুরে গান ও ভিডিও ফেসবুকে ছাড়েন। ভাইরাল হতেই তিনি মসজিদের মাইকে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তাছাড়া বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ চলছিল। কিছুদিন পরপর তাদের স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে মারামারি হতো।

জাকির হোসেনের স্ত্রী শিখা বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, জাকির মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আমাকে তালাক দিয়েছেন। তালাক দেওয়ার পর তা ভিডিও করে ফেসবুক ও ইউটিউবে ছেড়ে দেন। আমি তালাকের কোনো কাগজপত্র পায়নি। আমার বিয়ের আগে সে আরও চার বিয়ে করেছে। ভাইরাল হওয়ার জন্য মসজিদের মাইকে তালাক দিয়েছে। এ ঘটনায় আমি তার বিচার চাই। এ সময় তিনি দাবি করেন, জাকির হোসেন জেকে মাদক ও নারী ব্যবসায়ী।

এ বিষয়ে জাকির হোসেন জেকে ঢাকা পোস্ট কে বলেন, আমার বউকে আমি তালাক দিয়েছি, সে আমার সংসার করে না। বিয়ের ১০ বছর হলেও আমার বাড়িতে এক বছরও সংসার করেনি। তাই তাকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তালাক দিয়েছি। কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছি দু-একদিনের মধ্যে সে কাগজ পাবে।

দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা’র উদ্যোগে নতুন ঘর পেল প্রতিবন্ধী পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৩ এম
দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা’র উদ্যোগে নতুন ঘর পেল প্রতিবন্ধী পরিবার

“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”—এই চিরন্তন সত্যকে বুকে ধারণ করে আরও একটি অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো চাঁদপুরের শাহরাস্তির সামাজিক সংগঠন ‘দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা’। জরাজীর্ণ ঘর সম্পূর্ণ নতুন করে পুনর্নির্মাণ করে দিয়ে এক অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছে সংগঠনটি।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল ৫ ঘটিকায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবনির্মিত এই ঘরটি ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহরাস্তির দাদিয়াপাড়া এলাকার গাজীবাড়ির মরহুম সিদ্দিক মিয়ার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েটি চরম অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। তাদের একমাত্র থাকার ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে এতটাই জরাজীর্ণ ছিল যে, সামান্য বৃষ্টি আসলেই ঘরের ভেতর পানি ঢুকে একাকার হয়ে যেত। ভাঙা ঘরে মা আর মেয়ের দিন-রাত কাটতো চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায়।

বিষয়টি নজরে আসার পর দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা ও স্থানীয় এলাকাবাসী যৌথভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। সকলের ভালোবাসা, শ্রম ও আর্থিক সহযোগিতায় অবশেষে জরাজীর্ণ ঘরটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে তৈরি করার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে করে দীর্ঘদিনের ভাঙা ঘরের কষ্ট দূর হয়ে মা ও মেয়ের মুখে ফুটেছে শান্তির হাসি।

Model Hospital

নতুন ঘর হস্তান্তর ও উদ্বোধনের আবেগঘন মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবদুল মমিন, আবদুর রহিম, মফিজুর রহমান, মোহাম্মদ হোসেন, আলী আক্কাছ, আনোয়ার হোসেন, ইয়াছিন আরাফাত, হুমায়ুন আহমেদ, এবং আবু ইউসুফ সুমন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সংগঠনের এই মহৎ উদ্যোগ সম্পর্কে দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থার সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ সুমন বলেন, “আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্যই হলো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই পরিবারটির কষ্ট দেখে আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। এলাকাবাসী ও প্রবাসী ভাইদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা ঘরটি নতুন করে গড়ে দিতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এই মানবিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

“অনুষ্ঠানে সংগঠনের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার রুবেল বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এই পরিবারটি যেভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছিল, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ছিল। মানবতার সেবায় আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অসহায় মা ও মেয়ের মুখে যে হাসি ফুটিয়েছে, তা আমাদের পুরো সংগঠনের জন্য একটি বড় সার্থকতা। যেকোনো দুর্যোগে এবং মানুষের প্রয়োজনে আমরা এভাবেই সবসময় মাঠে থাকবো।

“সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাঁরা এই মহৎ কাজে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক সহযোগিতা দিয়ে একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, মহান আল্লাহ তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।