ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
পরিত্যক্ত জায়গায় সবজি চাষে চমক

সফল প্রকৃতিপ্রেমি হিসেবে সমাদৃত শাহরাস্তি এসিল্যান্ড রেজওয়ানা চৌধুরী

কৃষির উন্নয়নে অভাবনীয় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে চলেছেন শাহরাস্তি উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা মোসাঃ রেজোওয়ানা চৌধুরী। সফল কর্মজীবি নারী হিসেবে ইতিমধ্যেই অর্জন করেছেন সুখ্যাতি। 

Model Hospital

শাহরাস্তিতে ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে গত বছরের ২ মে যোগদানের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অবাদী জমিগুলোতে ফসল ফলানোর নিমিত্তে নিজের অফিস চত্বরের চারদিকে গড়ে তুলছেন নিজস্ব কৃষি খামার। যোগদানের পর থেকে শাহরাস্তি উপজেলার সাহপুর এলাকায় অবস্থিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু করেন। বিশেষ করে শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে তিনি অফিস আঙ্গিনায় খালি পড়ে থাকা জমিতে শাক সবজি চাষ শুরু করেন। রেজওয়ানা চৌধুরীর হাত ধরে লাল শাক, পালং শাক, সরিষা, লাউ, কুমড়া, মুলা, ঢেঁড়স, বেগুন, ফুল কপি, বাঁধা কপি, পেপেসহ তার বাগানে বিভিন্ন রকমের শাক সবজি শোভা পাচ্ছে।

অফিসের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে মনোমুগ্ধকর ফুলের বাগান। অপরুপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা। কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই বাগানে ছুটে যান রেজওয়ানা চৌধুরী। নিজ হাতে পরিচর্যা করেন বাগানের। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সুযোগ পেলেই ঘুরতে আসেন এখানে। অনেকেই সেলফি তুলে মনের স্বাদ পূরণ করেন।

এছাড়াও সেবা গ্রহীতা নারীদের জন্য নামাজের সুব্যবস্থা করেছেন। ভূমি অফিসে জনগনের ভোগান্তি কমাতে নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেই দিক বিবেচনা করে যথা সময়েই মামলা নিষ্পত্তি, খারিজ ও মিস কেইস সম্পন্ন করা হয়।

রাজস্ব আদায়ে রেজওয়ানা চৌধুরী দেখিয়েছেন বিশাল সাফল্য প্রায় ৯৫ ভাগ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছেন তিনি। শুধু শাক সবজি ও ফুলই নয় প্রাণীদের জন্যও রয়েছে দুর্বলতা। আদর করে পোষ মানিয়েছে একটি বিড়াল ছানা, নাম রেখেছেন শুশী। রেজওয়ানা চৌধুরী অফিসে প্রবেশের সাথে সাথে ছুটে আসে সে। কখনো চেয়ারে আবার কখনো কোলে উঠে বায়না ধরতে দেখা যায়। এছাড়াও কর্তব্য পরায়ণ পরিশ্রমী রেজওয়ানা চৌধুরী দিনরাত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছুটে যান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। অফিসে এবং বাহিরে সমানতালে দক্ষতা দেখিয়ে ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি।

ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতারা ভূমি অফিসের সৌন্দর্য নিয়ে প্রতিবেদকে জানায়, এটি যেন একটি খামার বাড়ি! শাক সবজি ও ফুলে ভরে উঠেছে চারপাশ। যে কেউ এখানে আসলেই যেন মনপ্রাণ ভরে উঠে। জরুরী কাজে আসা লোকজন নিজের কাজ সারার আগেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে মুখরিত হয়ে উঠেন। নিজের ক্লান্তি কিছুটা দূর করে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বাড়ি ফিরেন। একটি প্রশাসনিক কার্যালয়ের আঙ্গিনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে কতটা দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠতে পারে তা দুনয়নে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। তেমনি নিজের মায়া মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে অফিস আঙ্গিনা সাজিয়েছেন শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানা চৌধুরী।

একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন উদ্যোগে সেবা গ্রহীতা ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যপক উৎসাহ যুগিয়েছে।

কর্মদক্ষ শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানা চৌধুরী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি তার অফিস আঙ্গিনা সাজিয়েছি। তা দিয়ে শুধু তিনিই উপকৃত হবেন না এটি দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেকে তৈরি করবেন বলে আশাবাদী তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি মানুষ যদি তাদের অনাবাদি জমি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ফসলাদি উৎপাদন করেন তাহলে দেশ উপকৃত হবে। মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে আমাদের দেশে অভাব দূর হবে। তাই প্রত্যেকের উচিত তাদের অনাবাদি জমি গুলোকে কাজে লাগানো।

জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানের আগেই ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কমিশন’ দাবি নতুনধারার

পরিত্যক্ত জায়গায় সবজি চাষে চমক

সফল প্রকৃতিপ্রেমি হিসেবে সমাদৃত শাহরাস্তি এসিল্যান্ড রেজওয়ানা চৌধুরী

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪

কৃষির উন্নয়নে অভাবনীয় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে চলেছেন শাহরাস্তি উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা মোসাঃ রেজোওয়ানা চৌধুরী। সফল কর্মজীবি নারী হিসেবে ইতিমধ্যেই অর্জন করেছেন সুখ্যাতি। 

Model Hospital

শাহরাস্তিতে ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে গত বছরের ২ মে যোগদানের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অবাদী জমিগুলোতে ফসল ফলানোর নিমিত্তে নিজের অফিস চত্বরের চারদিকে গড়ে তুলছেন নিজস্ব কৃষি খামার। যোগদানের পর থেকে শাহরাস্তি উপজেলার সাহপুর এলাকায় অবস্থিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু করেন। বিশেষ করে শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথে তিনি অফিস আঙ্গিনায় খালি পড়ে থাকা জমিতে শাক সবজি চাষ শুরু করেন। রেজওয়ানা চৌধুরীর হাত ধরে লাল শাক, পালং শাক, সরিষা, লাউ, কুমড়া, মুলা, ঢেঁড়স, বেগুন, ফুল কপি, বাঁধা কপি, পেপেসহ তার বাগানে বিভিন্ন রকমের শাক সবজি শোভা পাচ্ছে।

অফিসের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে মনোমুগ্ধকর ফুলের বাগান। অপরুপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা। কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই বাগানে ছুটে যান রেজওয়ানা চৌধুরী। নিজ হাতে পরিচর্যা করেন বাগানের। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সুযোগ পেলেই ঘুরতে আসেন এখানে। অনেকেই সেলফি তুলে মনের স্বাদ পূরণ করেন।

এছাড়াও সেবা গ্রহীতা নারীদের জন্য নামাজের সুব্যবস্থা করেছেন। ভূমি অফিসে জনগনের ভোগান্তি কমাতে নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেই দিক বিবেচনা করে যথা সময়েই মামলা নিষ্পত্তি, খারিজ ও মিস কেইস সম্পন্ন করা হয়।

রাজস্ব আদায়ে রেজওয়ানা চৌধুরী দেখিয়েছেন বিশাল সাফল্য প্রায় ৯৫ ভাগ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছেন তিনি। শুধু শাক সবজি ও ফুলই নয় প্রাণীদের জন্যও রয়েছে দুর্বলতা। আদর করে পোষ মানিয়েছে একটি বিড়াল ছানা, নাম রেখেছেন শুশী। রেজওয়ানা চৌধুরী অফিসে প্রবেশের সাথে সাথে ছুটে আসে সে। কখনো চেয়ারে আবার কখনো কোলে উঠে বায়না ধরতে দেখা যায়। এছাড়াও কর্তব্য পরায়ণ পরিশ্রমী রেজওয়ানা চৌধুরী দিনরাত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছুটে যান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। অফিসে এবং বাহিরে সমানতালে দক্ষতা দেখিয়ে ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি।

ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতারা ভূমি অফিসের সৌন্দর্য নিয়ে প্রতিবেদকে জানায়, এটি যেন একটি খামার বাড়ি! শাক সবজি ও ফুলে ভরে উঠেছে চারপাশ। যে কেউ এখানে আসলেই যেন মনপ্রাণ ভরে উঠে। জরুরী কাজে আসা লোকজন নিজের কাজ সারার আগেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে মুখরিত হয়ে উঠেন। নিজের ক্লান্তি কিছুটা দূর করে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বাড়ি ফিরেন। একটি প্রশাসনিক কার্যালয়ের আঙ্গিনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে কতটা দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠতে পারে তা দুনয়নে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। তেমনি নিজের মায়া মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে অফিস আঙ্গিনা সাজিয়েছেন শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানা চৌধুরী।

একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন উদ্যোগে সেবা গ্রহীতা ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যপক উৎসাহ যুগিয়েছে।

কর্মদক্ষ শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানা চৌধুরী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি তার অফিস আঙ্গিনা সাজিয়েছি। তা দিয়ে শুধু তিনিই উপকৃত হবেন না এটি দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেকে তৈরি করবেন বলে আশাবাদী তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি মানুষ যদি তাদের অনাবাদি জমি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ফসলাদি উৎপাদন করেন তাহলে দেশ উপকৃত হবে। মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে আমাদের দেশে অভাব দূর হবে। তাই প্রত্যেকের উচিত তাদের অনাবাদি জমি গুলোকে কাজে লাগানো।