বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড়

দেশীয় অস্ত্রসহ যুবককে পুলিশে সোপর্দ, ঘটনার অবসান করতে ছাড়িয়ে নেন চেয়ারম্যান নিজেই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪, ৯:৩০ পিএম
দেশীয় অস্ত্রসহ যুবককে পুলিশে সোপর্দ, ঘটনার অবসান করতে ছাড়িয়ে নেন চেয়ারম্যান নিজেই

চাঁদপুরে চেয়ারম্যান রাসেল গাজীর সাজানো দেশীয় অস্ত্রসহ ইকবাল বন্দুকশী (৩৫) নামে যুবককে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনা ঘঠেছে। পরে প্রভাবশালী চেয়ারম্যান রাসেল গাজীর নাটকীয় কান্ড নিয়ে সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নবাসীর মধ্যে প্রবাসী এ নিরিহ যুবককে আটকের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার ঝড়, উত্তেজনা ও তোলপাড় চলতে লক্ষ করা গেছে।

পরে এলাকাবাসীর চাপের মূখে অন্যায় ভাবে ঘটানো, নাটকীয় ঘটনার অবসান করতে নিজেই যুবক ইকবাল বন্দুকশীকে ছাড়িয়ে নিতে বাধ্য হন চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী।

এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নে গত বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয় তেতুলতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার রাতে যুবককে চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

Model Hospital

জেলেদের চাল বিতরণকালে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজীকে মারতে এসে দেশীয় অস্ত্রসহ (বড় ছুরি) ইকবাল বন্দুকশী (৩৫) নামে যুবককে আটক করার ঘটনা ঘটানো হয়। পরের দিন রাতে ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী কোন অভিযোগ বা মামলা না দিয়ে নিজেই থানায় এসে সেই যুবককে ছাড়িয়ে নেন। ইকবাল তরপুরচন্ডী গ্রামের মো. ইদ্রিস বন্দুকশীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদ ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ সদস্যসহ ইকবালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শেখ মুহসীন আলম জানান, তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী অস্ত্রসহ যুবকে ধরে আমাকে অবগত করে। পরে আমি তাৎক্ষনিক এসআই আজাদকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে অস্ত্রসহ যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসি।

রাতেই দেশীয় অস্ত্রসহ আটক হওয়া যুবককে চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী নিজ জিম্মায় থানায় এসে ছাড়িয়ে নেন।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’