বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা 

শাহরাস্তিতে পৌরসভার নতুন রাস্তা পেয়ে খুশি এলাকাবাসী

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ১০:৫৮ পিএম
শাহরাস্তিতে পৌরসভার নতুন রাস্তা পেয়ে খুশি এলাকাবাসী
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পৌর ৭নং ওয়ার্ডের নিজমেহার অবহেলিত একটি গ্রামের নাম। পৌরসভার এই অঞ্চলটিতে প্রায় দুই সহস্রাধিক লোকজনের বসবাস। ঠাকুর বাজার মাজার রোডের খাল পাড়ের এই মানুষগুলো জমির আইল ধরে এতোদিন চলাচল করতো। নতুন রাস্তা নির্মান হওয়ায় তারা এখন আনন্দিত।
বিগত বছরগুলোতে কোনো জনপ্রতিনিধিরা উক্ত রাস্তাটি নির্মান করার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ ছিল এলাকাবাসীর।
অবশেষে শাহরাস্তি পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের উদ্যোগে এলাকা বাসী পেয়েছে তাদের স্বপ্নের এই রাস্তা। নতুন রাস্তা পেয়ে খুশি এলাকাবাসী।
জানা যায়, রাস্তা না থাকায় গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে নানা সমস্যায় পড়তে হতো তাদের। রাস্তা না থাকায় কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতেন কৃষকেরা। কৃষি ফসল গুলো মাথায় করে জমির আইল ধরে নিয়ে যেতো হতো বাজারে। বর্ষার সময় নৌকা আর শুকনো মৌসুমে জমির আইল ধরে তাদের চলতে হতো। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে হতো নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে। বর্ষা মৌসূমে চলাচলের দুর্ভোগ বেড়ে যেতো দ্বিগুন।
এলাকার বাসিন্দা জহির বলেন, এতোদিন রাস্তা না থাকায় আমাদের উপজেলা, পৌরসভায় অথবা থানায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এখন রাস্তা হওয়ায় সহজেই আমরা যাতায়াত করতে পারছি। কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিতে কষ্ট হতো। রাস্তা হওয়ায় সহজেই একজন অসুস্থ মানুষকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে পারছি।
গ্রামের আরেক বাসিন্দা আলমগীর বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই এই পথ দিয়ে গ্রামবাসীরা চলাচল করতো। কিন্তু কোনো রাস্তা নির্মানের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ শেষে যখন পৌরসভায় রূপান্তরিত হয় তখন উক্ত অঞ্চলটি ৭নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত হয়। পর পর কয়েকবার মেয়র ও কাউন্সিলর পরিবর্তন হলেও উক্ত রাস্তা নির্মানে ভাগ্য অপরিবর্তিতই থাকে।
রাস্তা ছিল না, এক মণ ধান বিক্রি করতে পারতাম না। মাথায় করে জমির আইল ধরে ধান নিতে হতো। রাস্তা হওয়ায় এখন সহজেই যেকোনো কাজ করতে পারছি।একজন মানুষ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়া যেতো না। রাস্তা হওয়ায় সহজেই হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারছি। স্থানীয় মেয়র আলহাজ্ব আবদুল লতিফ ও ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেনকে তারা ধন্যবাদ জানায়।
গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, ৮০ বছরেও এলাকা এই অবহেলিত রাস্তার উন্নয়ন হয়নি। আমাদের কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন আমাদের যে উপকার করেছেন তা আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন আছে যারা এই এলাকায় আসতো না এবং ছেলে মেয়েদের বিয়ে দেয়া ছিলো বড় প্রতিবন্ধকতা। রাস্তা হওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।
স্থানীয় রফিক বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম জমির আইল ধরে স্কুলে যেতাম।এই রাস্তা হওয়ায় আমাদের ছোট ভাইরা এখন নব নির্মিত রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে পারছে। বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে গেলে রাস্তা নেই বলে বিয়ের কাজ ভেঙ্গে যেতো। রাস্তা হওয়ায় এখন আর এই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।
পৌর ৭ নং ওয়ার্ড কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে এবং সরকারী অনুদানে ২০০ ফিট রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে। জনগণ সুফল ভোগ করলেই রাস্তা নির্মাণের স্বার্থকতা পাওয়া যাবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।