ঢাকা ০৭:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কচুয়ায় প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগ

কচুয়ায় সৌদী ফেরত এক প্রবাসীকে নারী দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে চাঁদা দাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদা না পেয়ে আনোয়ার হোসেন নামের ওই প্রবাসীর বাড়ি ঘরে হামলা ও স্বজনদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১২ নং আশ্রাফপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ১১জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলেন, সোহেল সাজু, মনা, নুরু, রুবেল, কাউসার।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের মো. হাসান আহমেদের পুত্র মো. আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর জীবন জীবীকার প্রয়োজনে সৌদি আরবে প্রবাসযাপন করেন। গত ২৯ মার্চ বিয়ের করার উদ্দেশ্যে  তিনি দেশে ফিরেন। ঈদের পরে বাড়ির ও প্রতিবেশী মুরব্বীদের সাথে নিয়ে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা শুরু করেন। একাধিক মেয়ে দেখার পর, সবশেষ আশ্রারফুর গ্রামের মুরাদার বাড়ির মিজানুর রহমানের মেয়ে খাদিজার সাথে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করা হয়। এতে ২৩ এপ্রিল বিয়ের দিন ধার্য করা হয়।
এদিকে গত ২২ এপ্রিল বেশ ধুমধাম করে প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়। হলুদ শেষে হঠাৎ করে প্রতিবেশি বিল্লাল হোসেনের মেয়ে (প্রবাসী মহসিনের স্ত্রী) ঝর্ণা বেগম আনোয়ারকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তখন বিষয়টি নিয়ে হট্টগোল বেঁধে যায়। সকালে ঝর্ণা দাবী করে প্রবাসী আনোয়ারের সাথে তার শারীরীক সম্পর্ক ছিলো। এ ঘটনার সুরাহা করতে ২৫ এপ্রিল একটি শালিস ডাকা হয়। শালিস চলাকালে বিল্লাল হোসেন এবং তার ভারাটে মিলনসহ অজ্ঞাত লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রবাসী আনোয়ারের পরিবারর লোকদের আহত করে। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধান করে দিবে বলে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী আনোয়ার হোসেন জানান, যে মেয়েটি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে এবং প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছে সে সম্পর্কে আমার ভাতিজি। ঈদের পর থেকে আমি বাড়ির মুরব্বীদের সাথা নিয়ে ১১ জায়গায় মেয়ে দেখেছি। সব শেষ পার্শ্ববর্তী মুরাদার বাড়ির খাদিজার সাথে আমার বিয়ের দিন-তারিখ নির্ধারণ হয়। আমার বিয়ের তারিখ নির্ধারণের সময় ঝর্না বেগমের বাবা বিল্লাল হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। তখনও ঝর্ণা আমার বিষয়ে কিছু বলেনি। এখন আমার গায়ে হলুদ শেষ হবার পর সে আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে।
প্রবাসী আনোয়ার হোসেন আরো জানান, ঝর্ণার বাবা আমার সম্পত্তির লোভে তার বিবাহিত মেয়েকে আমার পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে। অথচ ঝর্ণার বাবা সস্পর্কে আমার ভাই। তাছাড়া ঝর্ণা একজন বিবাহিতা নারী। আজকে এই ঘটনার শালিস হবার কথা ছিলো। শালিসী বেঠকেই বিল্লাল হোসেনের ভারাটে একদল বরিরাগত সস্ত্রাসী আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিল্লাল হোসেন এবং তার সহযোগীরা আমার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করছে। এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমি প্রশাসনের কাছে সুবিচার দাবী করছি।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে মাদরাসাতু মুহাম্মদ সাঃ উদ্বোধন

কচুয়ায় প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪
কচুয়ায় সৌদী ফেরত এক প্রবাসীকে নারী দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে চাঁদা দাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদা না পেয়ে আনোয়ার হোসেন নামের ওই প্রবাসীর বাড়ি ঘরে হামলা ও স্বজনদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১২ নং আশ্রাফপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ১১জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলেন, সোহেল সাজু, মনা, নুরু, রুবেল, কাউসার।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের মো. হাসান আহমেদের পুত্র মো. আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর জীবন জীবীকার প্রয়োজনে সৌদি আরবে প্রবাসযাপন করেন। গত ২৯ মার্চ বিয়ের করার উদ্দেশ্যে  তিনি দেশে ফিরেন। ঈদের পরে বাড়ির ও প্রতিবেশী মুরব্বীদের সাথে নিয়ে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা শুরু করেন। একাধিক মেয়ে দেখার পর, সবশেষ আশ্রারফুর গ্রামের মুরাদার বাড়ির মিজানুর রহমানের মেয়ে খাদিজার সাথে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করা হয়। এতে ২৩ এপ্রিল বিয়ের দিন ধার্য করা হয়।
এদিকে গত ২২ এপ্রিল বেশ ধুমধাম করে প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়। হলুদ শেষে হঠাৎ করে প্রতিবেশি বিল্লাল হোসেনের মেয়ে (প্রবাসী মহসিনের স্ত্রী) ঝর্ণা বেগম আনোয়ারকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তখন বিষয়টি নিয়ে হট্টগোল বেঁধে যায়। সকালে ঝর্ণা দাবী করে প্রবাসী আনোয়ারের সাথে তার শারীরীক সম্পর্ক ছিলো। এ ঘটনার সুরাহা করতে ২৫ এপ্রিল একটি শালিস ডাকা হয়। শালিস চলাকালে বিল্লাল হোসেন এবং তার ভারাটে মিলনসহ অজ্ঞাত লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রবাসী আনোয়ারের পরিবারর লোকদের আহত করে। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধান করে দিবে বলে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী আনোয়ার হোসেন জানান, যে মেয়েটি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে এবং প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছে সে সম্পর্কে আমার ভাতিজি। ঈদের পর থেকে আমি বাড়ির মুরব্বীদের সাথা নিয়ে ১১ জায়গায় মেয়ে দেখেছি। সব শেষ পার্শ্ববর্তী মুরাদার বাড়ির খাদিজার সাথে আমার বিয়ের দিন-তারিখ নির্ধারণ হয়। আমার বিয়ের তারিখ নির্ধারণের সময় ঝর্না বেগমের বাবা বিল্লাল হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। তখনও ঝর্ণা আমার বিষয়ে কিছু বলেনি। এখন আমার গায়ে হলুদ শেষ হবার পর সে আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে।
প্রবাসী আনোয়ার হোসেন আরো জানান, ঝর্ণার বাবা আমার সম্পত্তির লোভে তার বিবাহিত মেয়েকে আমার পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে। অথচ ঝর্ণার বাবা সস্পর্কে আমার ভাই। তাছাড়া ঝর্ণা একজন বিবাহিতা নারী। আজকে এই ঘটনার শালিস হবার কথা ছিলো। শালিসী বেঠকেই বিল্লাল হোসেনের ভারাটে একদল বরিরাগত সস্ত্রাসী আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিল্লাল হোসেন এবং তার সহযোগীরা আমার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করছে। এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমি প্রশাসনের কাছে সুবিচার দাবী করছি।