শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ১১:০৮ পিএম
কচুয়ায় প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগ
কচুয়ায় সৌদী ফেরত এক প্রবাসীকে নারী দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে চাঁদা দাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদা না পেয়ে আনোয়ার হোসেন নামের ওই প্রবাসীর বাড়ি ঘরে হামলা ও স্বজনদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ১২ নং আশ্রাফপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ১১জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলেন, সোহেল সাজু, মনা, নুরু, রুবেল, কাউসার।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের মো. হাসান আহমেদের পুত্র মো. আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর জীবন জীবীকার প্রয়োজনে সৌদি আরবে প্রবাসযাপন করেন। গত ২৯ মার্চ বিয়ের করার উদ্দেশ্যে  তিনি দেশে ফিরেন। ঈদের পরে বাড়ির ও প্রতিবেশী মুরব্বীদের সাথে নিয়ে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা শুরু করেন। একাধিক মেয়ে দেখার পর, সবশেষ আশ্রারফুর গ্রামের মুরাদার বাড়ির মিজানুর রহমানের মেয়ে খাদিজার সাথে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করা হয়। এতে ২৩ এপ্রিল বিয়ের দিন ধার্য করা হয়।
এদিকে গত ২২ এপ্রিল বেশ ধুমধাম করে প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়। হলুদ শেষে হঠাৎ করে প্রতিবেশি বিল্লাল হোসেনের মেয়ে (প্রবাসী মহসিনের স্ত্রী) ঝর্ণা বেগম আনোয়ারকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তখন বিষয়টি নিয়ে হট্টগোল বেঁধে যায়। সকালে ঝর্ণা দাবী করে প্রবাসী আনোয়ারের সাথে তার শারীরীক সম্পর্ক ছিলো। এ ঘটনার সুরাহা করতে ২৫ এপ্রিল একটি শালিস ডাকা হয়। শালিস চলাকালে বিল্লাল হোসেন এবং তার ভারাটে মিলনসহ অজ্ঞাত লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রবাসী আনোয়ারের পরিবারর লোকদের আহত করে। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধান করে দিবে বলে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী আনোয়ার হোসেন জানান, যে মেয়েটি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে এবং প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছে সে সম্পর্কে আমার ভাতিজি। ঈদের পর থেকে আমি বাড়ির মুরব্বীদের সাথা নিয়ে ১১ জায়গায় মেয়ে দেখেছি। সব শেষ পার্শ্ববর্তী মুরাদার বাড়ির খাদিজার সাথে আমার বিয়ের দিন-তারিখ নির্ধারণ হয়। আমার বিয়ের তারিখ নির্ধারণের সময় ঝর্না বেগমের বাবা বিল্লাল হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। তখনও ঝর্ণা আমার বিষয়ে কিছু বলেনি। এখন আমার গায়ে হলুদ শেষ হবার পর সে আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে।
প্রবাসী আনোয়ার হোসেন আরো জানান, ঝর্ণার বাবা আমার সম্পত্তির লোভে তার বিবাহিত মেয়েকে আমার পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে। অথচ ঝর্ণার বাবা সস্পর্কে আমার ভাই। তাছাড়া ঝর্ণা একজন বিবাহিতা নারী। আজকে এই ঘটনার শালিস হবার কথা ছিলো। শালিসী বেঠকেই বিল্লাল হোসেনের ভারাটে একদল বরিরাগত সস্ত্রাসী আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিল্লাল হোসেন এবং তার সহযোগীরা আমার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করছে। এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমি প্রশাসনের কাছে সুবিচার দাবী করছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’