শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফসলি জমিতে স্টেডিয়ামের প্রস্তাবনা কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ

ফসলি জমিতে স্টেডিয়াম হলে নিঃস্ব হবে হাইমচরের অসংখ্য কৃষক

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি প্রকাশিত: রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪, ৯:৪২ পিএম
ফসলি জমিতে স্টেডিয়াম হলে নিঃস্ব হবে হাইমচরের অসংখ্য কৃষক
বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভর দেশ। বর্তমানে প্রায় ৭৫% মানুষ কৃষির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তারমধ্যে কৃষি হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের একমাত্র উপার্জনের হাতিয়ার। এ কৃষকদের শ্রমে ঘামের বিনিময়ে সারাদেশের খাদ্যশস্যের চাহিদা মিটায়। আর সেই কৃষকদের ফসলি জমি নষ্ট করে হাইমচরে গড়ে উঠতে যাচ্ছে শেখ রাসেল নামে একটি স্টেডিয়াম।
জানাজায়, স্টেডিয়ামের জন্য উপজেলার ২নং আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত উত্তর আলগী মৌজায় প্রায় সাড়ে ৩.১৯০০ একর ভূমি প্রস্তাব করা হয়। স্টেডিয়াম নির্মিত হলে পাশের জমিসহ প্রায় ৫ একর কৃষি জমি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ফলে ফসলি জমিতে স্টেডিয়াম হলে নিঃস্ব হবে হাইমচরের অসংখ্য কৃষক। ফসলি জমিতে স্টেডিয়াম চায় না এই এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষ। স্টেডিয়ামের জন্য প্রস্তাবিত কৃষি জায়গার পরিবর্তে অন্য কোথাও নির্মান করার জন্য জোর দাবী জানান কৃষি কাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তাবিত শেখ রাসেল স্টেডিয়ামের জন্য কৃষি জমি অধিগ্রহণ করা হলে কৃষকরা ভূমিহীন হয়ে যাবে৷ প্রস্তাবিত কৃষি জমিতে কৃষকরা বছরে তিন ফসল চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। তাছাড়া ধান, গম, ভুট্টা, পানের বরজ, পাট, ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করেন। এ ভূমি থেকেই গবাদি পশুর জন্য খড় ও ঘাসের ব্যবস্থা করেন।
ভূমিহীন কৃষকরা জমি বর্গা এবং ইজারা নিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকেই যৌথ পরিবারে বসবাস করে। ফলে ঘরবাড়ি তৈরির জন্য উক্ত ভূমি ব্যবহার করতে হবে। অত্র উপজেলার অধিকাংশ জমি নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে এবং ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় মানুষের জীবন যাপনের উপর ব্যাপক প্রতিকূল প্রভাব পড়বে। এছাড়া এখানে স্টেডিয়াম নির্মাণ হলে আশেপাশের কৃষি জমি বন্যায় প্লাবিত হবে।
কৃষক মিজান জানান, স্টেডিয়ামের জন্য প্রস্তাবিত প্রস্তাবিত জমিতে  তার নিজের ৪৬ শতাংশ জমি থেকে প্রতি বছর ৪০ মণ ধান ঘরে তুলেন তিনি।  ধান, ভুট্টা, সয়াবিন, কলই, সিজনালিন চাষাসবাদ করেন তিনি। এ কৃষি জমির আয়ের উপর তার ৭ সদস্যের পরিবার নির্ভরশীল।  এ সম্পদের উপর স্টেডিয়াম হলে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসবেন। তাই তিনি এ কৃষি ফসলি জমি নষ্ট করে স্টেডিয়াম হোক তা চান না।
কৃষক কালু হোসেন জানান, হঠাৎ করে সরকারি লোকজন এসে বলেন আমাদের কৃষি জমিতে শেখ রাসেল নামক স্টেডিয়াম হবে। এ কথা শুনে আমরা আকাশ থেকে পরি। এখানে স্টেডিয়াম হলে আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে কি ভাবে সংসার চালাবো। আমাদের প্রতি বছরের চাল ঢাল এ জমি থেকে উৎপাদন হয়। আমাদের কোন চাল কিনা লাগতো না। এখানে স্টেডিয়াম হলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব। আমরা এখানে কোন ভাবেই স্টেডিয়াম চাই না। আমার ৪০ শতাংশ জমির আয় ব্যায় দিয়ে ৮ সদস্যের পরিবার নির্ভরশীল।  জমিতে চাষ করতে না পারলে ছেলে সন্তান নিয়ে আমরা কোথায় যাব? কি খাব। এ ভেবে এখনই পাগল হওয়ার মত। আমাদের জীবনমান রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকিল খন্দকার বলেন, হাইমচরে ফসলী জমিতে স্টেডিয়াম নির্মানের জন্য প্রস্তাবিত জমিন ফসলী জমি কিনা তা তদন্ত করার জন্য আমাকে চিঠি দেয়া হয় না। চিঠি পেলেই আমি তদন্ত কাজ শুরু করবো। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ঐ জমি ফসলি জমি ঠিক আছে তবে তিন ফসলি জমি না। এ বিষয়ে আমরা স্থানীয় কৃষকদের সাথে বসে আলোচনা করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা  নাজনীন তৃষা বলেন, কৃষকদের জীবন জীবিকার ক্ষতি করে কোন কাজ আমরা করবো না। স্টেডিয়ামের জন্য প্রস্তাবিত জায়গা কৃষি ফসলি জমি কিনা তা যাচাই করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি রিপোর্ট দিলে আমরা তা জেলা প্রশাসকের নিকট পাঠাবো।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital