বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

বড় ভাই মামুনের ম্যাজিকে জয় পেল ছোট ভাই মাহবুব আলম

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪, ৮:৫১ পিএম
বড় ভাই মামুনের ম্যাজিকে জয় পেল ছোট ভাই মাহবুব আলম

কচুয়া উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মামুনের ম্যাজিকে জয় পেলেন মাহবুব আলম।

শেষ মুহুর্তে টানটান উত্তোজনার মধ্যে দিয়ে বাঘাবাঘা সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের টপকিয়ে কচুয়ার রাজনীতির মাঠে ইউটার্ন করলেন তরুন নেতৃত্বে এগিয়ে আসা তারুন্যের আইডল মামুন- মাহবুব দ্ইুভাই।

গত ৫ ই জুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণের পছন্দের চেয়ারম্যান প্রার্র্থী হওয়া পৌর যুবলীগের সভাপতি মাহবুব আলম হেভিওয়েট প্রার্থীদের পিছনে ফেলে দিয়ে বিপুল ভোটে কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এই উপজেলার নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় এমপি বনাম এমপি বিরোধী দু’পক্ষের সমর্থকদের মাঝে টানটান উত্তোজনা বিরাজ করছিল।

স্থানীয় সাংসদ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ চেয়ারম্যান পদে পছন্দের প্রার্থী তিনজন ছিল-বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম (টেলিফোন), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আইয়ুব আলী পাটোয়ারী (দোয়াত কলম), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহবার হোসেন চৌধুরী সোহাগ (ঘোড়া)।

Model Hospital

অপর দিকে এমপি বিরোধী দু’পক্ষ সাবেক এমপি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম হোসেন (এনবিআর) পছন্দের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিল- বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির (কাপ পিরিজ)। শেষ লগ্নে বাজিমাত করবে এমপি সমর্থিত প্রার্থী তারুন্যের আইডল পৌর যুবলীগের সভাপতি মাহবুব আলম।

কচুয়ার সর্বত্র আলোচনা মাহবুব আলম চেয়ারম্যান হওয়ার পেছনে ম্যাজিশিয়ান আবদুল্লাহ আল মামুন। কে এই আবদুল আল মামুন ?

মামুন কচুয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কচুয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বর্তমানে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাঁর স্ত্রী মেহেরুন আল মিলি। নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের বড়ভাই। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের দুর্গ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের মন জয় করে ছিনিয়ে আনেন ছোট ভাই মাহবুব আলমের টেলিফোন মার্কায় ভোট।

অপর দিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বর্তমান দুইবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান শিশির হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়া সত্বেও মামুন- মাহবুবের ম্যাজিকের কাছে পরাজিত হন। এখন কচুয়ার জনগণের মুখে মুখে ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের যে দায়িত্ব, ভোটের মাঠে তা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিলেন দূর্জয়ী মনোভাব নিয়ে দায়িত্বশীল বড় ভাই মামুন।

আপনার কাছে এমন কি ম্যাজিক ছিল যে, হেভিওয়েট প্রার্থীদের পেছনে ফেলে দিয়ে ছোট ভাইয়ের বিজয়ী নিয়ে ঘরে ফিরলেন এমন প্রশ্নের জবাবে, আবদুল আল মামুন জানান, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব আমার উপরে বত্যায়। সেইদিক দিয়ে বাবার দায়িত্বটা ও আমার উপরে। আর ছোট ভাইয়ের দায়িত্বটা ও কাঁধে নিয়ে মাঠে নেমে পড়ি। ভোটারদের ভালেবাসা নিয়ে ভাইয়ের জন্য বিজয় ছিনিয়ে আনি। এই বিজয় কচুয়া বাসীর বিজয়। আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই।

উল্লেখ্য, চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মাহবুব আলম টেলিফোন প্রতীকে ৩৪ হাজার ৪শ ৩০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির কাপ-পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ২৭ হাজার ৫শ ৮৪ ভোট। অপর দিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জোস্না আক্তার ফুটবল প্রতিক নিয়ে ২৭ হাজার ২শ ২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রার্থী পারভীন আক্তার প্রজাপতি প্রতীকে ২৩ হাজার ৪শ ২৬ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. শাহজালাল উড়োজাহাজ প্রতীকে ৪৪ হাজার ৮শ ৯৯ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মো. রাকিবুল হাসান তালা প্রতীকে ৪২ হাজার ৮শ ৮৭ ভোট পেয়েছেন।

উপজেলা মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৩০ হাজার ৫শত ২৫ জন। তন্মধ্যে ১লক্ষ ২ হাজার ৭শ ৩ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। ভোটের শতকরা হার প্রায় ৩১.০৭%।

বেপর্দা নারীদের দিয়ে মিছিল-মিটিং করে—এরা কেমন ইসলামিক দল : চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৮ এম
বেপর্দা নারীদের দিয়ে মিছিল-মিটিং করে—এরা কেমন ইসলামিক দল : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়-নীতি, সততা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।’

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক মাহফিলে এ মন্তব্য করেন তিনি। সঙ্গে অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে নৈতিকতার চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মাহফিলে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি,নৈতিকতা,ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানুষের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন চরমোনাই পীর। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দেশ খেয়েছে খাজুরেরা, নাম পড়েছে হুজুরের।’

চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘ইসলামিক দল নাম দিয়ে,বেপর্দা নারীদের দিয়ে মিছিল-মিটিং করে—এরা কেমন ইসলামিক দল?’ তিনি দাবি করেন, যারা মুসলমান তারা মিথ্যা বলতে পারে না। তার বক্তব্যে ধর্মীয় আদর্শের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Model Hospital

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্যে চরমোনাই পীর দেশের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজসহ বিভিন্ন সামাজিক অনাচার নিয়েও সমালোচনা করেছেন।