শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে মেঘনায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় ভাবী-ননদের মৃত্যু, আটক ৪

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ নভেম্বর, ২০২১, ৬:১৩ পিএম
চাঁদপুরে মেঘনায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় ভাবী-ননদের মৃত্যু, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় এমভি লামিয়া নামের লঞ্চের ধাক্কায় ইঞ্জিন চালিত যাত্রীবাহী নৌকা ডুবির ঘটনায় আহত যাত্রী রেজিয়া বেগম (৫৫) এর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় লঞ্চের মাস্টারসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার ৫ নভেম্বর দুপুরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে নৌকায় থাকা সব যাত্রী তীরে উঠলেও লঞ্চের আঘাতে কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়। এখনো নাছিমা বেগম (৩৫) নামের এক নারী যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

নিহত রেজিয়া বেগম চাঁদপুর সদর উপজেলা রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বলিয়ারচর গ্রামের আহাদ উল্লাহ বেপারীর ছেলে।

আটককৃতরা হলেনঃ লামিয়া লঞ্চের মাস্টার মতিউর রহমন (৪০), ড্রাইভার মোস্তফা (৫৯), কেরানি মজিবুর রহমান (৭০) ও সুকানি আবু জাহি (২৫)।

Model Hospital

রাজরাজেস্বর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার হাফেজ আলী বেপারী জানায়, রেজিয়া বেগম আমার ছোট ভাইয়ের বৌ। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য রাজরাজেশ্বর থেকে ট্রলারযোগে পরিবারের প্রায় ৮/১০ জন চাঁদপুরের পুরাণবাজারে এসে নামে। পরে পুরাণবাজার থেকে যাত্রীবাহি নৌকায় করে বড় স্টেশন আসার সময় লঞ্চটি ধাক্কা দেয়।

এসময় আহত অবস্থায় কয়েকজন যাত্রীকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রেজিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। রেজিয়া মাথায় ও শরীরে প্রচণ্ড আঘাত পায়। নিখোঁজ নাছিমা নিহত রেজিয়ার আপন ছোট ভাইয়ের বৌ। রেজিয়ার নাতি তানভির আহত অবস্থায় চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

চাঁদপুর নৌ পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুজাহিদুল ইসলাম জানান, আমরা মোনহপুর থেকে লামিয়া লঞ্চটিকে আটক করে চাঁদপুর নিয়ে এসেছি এবং মাষ্টারসহ ৪জন কে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।